চন্দননগরের আলো হাব

আলোকশিল্পীদের নিজস্ব জগৎ

চন্দননগর কেবল প্রাক্তন ফরাসি উপনিবেশ হিসেবেই বিখ্যাত নয়। ‘আলো’-র নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেছে এই শহর। প্রথাগত ডিগ্রি ছাড়াই কারিগরেরা যেভাবে কল্পনা, সৃজন এবং প্রযুক্তির সাহায্যে জাদু দেখান, তা অবাক করে সবাইকে। এবার তাঁদের প্রচেষ্টা নতুন উদ্যম পেল। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকার চন্দননগরে উদ্বোধন করল ‘আলো হাব’। ২০১৭ সালে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নতুন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। তার জন্য ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করে কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়ন বিভাগ। আলোকশিল্পীদের পুর্নবাসন দেওয়ার এই স্বপ্ন এবার বাস্তবায়িত হল। উদ্বোধনের পর ‘আলো হাব’ চালু হতে চলেছে পুরো দমে। 

চন্দননগরের মাননীয় বিধায়ক তথা পর্যটন এবং তথ্য ও সম্প্রচার দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন জানালেন, “চন্দননগর আলোর শহর। এটা শুধু বাংলার মানুষ না, ভারতবর্ষের মানুষ, পৃথিবীর মানুষ জানে। বাংলা, ভারতবর্ষ, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে তার নিদর্শন আমরা বছরের পর বছর ধরে দেখছি। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম একজন মুখ্যমন্ত্রী, যিনি ১৯৫২ সালে চন্দননগর স্বাধীন হওয়ার পর এই আলোর শহরের শিল্পীদের পাশে এত নিবিড়ভাবে এবং আন্তরিকভাবে দাঁড়ালেন। আলোকশিল্পীদের পরবর্তী প্রজন্ম যাতে আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারে, চন্দননগরের আলোর বিশেষ প্রযুক্তি যাতে বিলুপ্ত না হয়ে যায়, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও উন্নত হয়, তার জন্য আলোকশিল্পীদের নিজস্ব জায়গা হল এই ‘আলো হাব’। আমার মনে হয় এটি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। কাজ এত দ্রুত হয়েছে চন্দননগরের বুকে, এটা কেউ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতে পারবে না।” 

এই প্রকল্পে চন্দননগরের আলোকশিল্পীরা দারুণ খুশি। লন্ডনের টেমস লাইটিং ফেস্টিভ্যালে যোগ দিয়ে খ্যাতি লাভ করেছেন শিল্পী শ্রীধর দাস। তিনি বললেন, “আমরা খুব আনন্দিত যে কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে এবং আমরা নিজেদের একটি জায়গা পেলাম।” কারিগরেরা মনে করেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আলোকশিল্পের সঙ্গে যুক্ত সবার দক্ষতা বাড়িয়ে তুলবে এই হাব। দমকলের প্রশিক্ষণও পাবেন তাঁরা। পাশাপাশি রংবেরঙের আলো এবং অন্যান্য সামগ্রী তৈরি ও বিক্রির নিজস্ব ঘাঁটি গড়ে উঠবে।

শ্রীধর দাস আলোকসজ্জার দুনিয়ায় আসেন ১৯৫০-এর দশকে। প্রযুক্তি তখন এত উন্নত হয়নি। আজ শিল্পীরা ব্যবহার করেন স্বয়ংক্রিয় আলো। কেবল সৃজনশীলতাই যথেষ্ট নয়, প্রযুক্তির দক্ষতা প্রতিনিয়ত যুগের সঙ্গে মানানসই করে নিতে হয়। তারই সুযোগ তৈরি করে দেবে চন্দননগরের আলো হাব। 

Developed by DXDasia