ষষ্ঠ বর্ষে পা রাখল লন্ডন বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল
মহান চলচ্চিত্র-নির্মাতা আব্বাস কিয়ারোস্তামি তাঁর ‘ক্লোজ-আপ’ ছবির এক চরিত্রের মুখে একটি সংলাপ বসিয়েছিলেন, বাংলায় যার অর্থ ‘সিনেমা দেখার সময় নেই আমার, জীবন এতটাই ব্যস্ত রেখেছে’। পর্দার এপার আর ওপারের ব্যবধান সরিয়ে দেয় এই সংলাপ, সিনেমা আর জীবন একই সমীকরণে বাঁধা পড়ে। সময়ের বৈদ্যুতিক ছুট আমরা হাড়ে হাড়ে জানি। তবে, ভার্চুয়াল জীবন, শত ব্যস্ততার জীবন থেকেও বেশ কিছুটা সময় শুধুমাত্র সিনেমা দেখে, সিনেমা দেখিয়ে—সিনেমার সঙ্গে কাটিয়ে দিতে পারেন তাঁরাই, যাঁরা সিনেমাকাতর, যাঁরা সিনেমার গুরুত্ব অনুভব করেন। তেমনই এক ব্যক্তিত্ব ‘লন্ডন বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’ (London Bengali Film Festival)-এর উদ্যোক্তা ও নির্মাতা মুনসুর আলি (Munsur Ali)। তিনি বিশিষ্ট চিত্র নির্মাতা তো বটেই, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র সংগ্রামের নির্মাতা সিটি অব লন্ডন কপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান কাউন্সিলম্যান। তাঁর উদ্যোগেই ২৬ এপ্রিল থেকে পাঁচ দিনব্যাপী লন্ডনে শুরু হলো ‘লন্ডন বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’। চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্ট থেকে বাছাইকৃত মোট ১০টি বাংলা ও হিন্দি সিনেমা (৭টি পূর্ণদৈর্ঘ্যের এবং ৩টি ছোটো ছবি) প্রদর্শিত হবে, যেগুলি সমাজ ও সংস্কৃতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও দশকপ্রিয় হবে বলে আশাবাদী ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের আয়োজকরা।
গণসংযোগের ক্ষেত্রে সিনেমা কতটা প্রভাবশালী তা আর নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। যেকারণে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বছরের পর বছর ধরে সাড়ম্বরে আয়োজিত হয়ে চলেছে বৈচিত্র্যময় বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসব। সেরকমই একটি লন্ডনের বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। বাঙালি অভিবাসীদের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম এবং তাঁদের বক্তব্য যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম পরিসরে তুলে ধরার লক্ষ্যে ২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই চলচ্চিত্র উৎসব এবার ষষ্ঠ বর্ষে পা রাখল। চলচ্চিত্র উৎসবের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মডেল-অভিনেত্রী দিলরুবা ইয়াসমিন রুহি সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “আমরা খুবই আশাবাদী, লন্ডনের সিনেমা প্রিয় দর্শকরা এই বাংলা সিনেমাগুলো লন্ডন ছাড়াও হোম সিনেমা ম্যানচেস্টার, দি লাইট সিনেমা কেমব্রিজ ও জেনেসিস সিনেমা মাইল এন্ড রোডে উপভোগ করবেন।”

উৎসবে অংশ নেওয়া সিনেমাগুলি প্রদর্শিত হয় বারবিক্যান সেন্টার, পূর্ব লন্ডনের জেনেসিস, ওয়েলিংটনের হলে। ২৬ এপ্রিল ৮টায় ঐতিহ্যবাহী বারবিকান সিনেমা হলে লাল গালিচা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বনামধন্য চিত্র নির্মাতারা, প্রযোজক, পরিবেশক, সাংবাদিক সহ অনেক গুণীজনরা উপস্থিত থাকবেন। ৩০ এপ্রিল রবিবার বান্ক হলিডে উইকএন্ডে ১২ টা থেকে ৬টা অল্ডগেইটে ফেস্টিভ্যালের অংশসহ রাত ৮টায় মাইল এন্ড রোডে জেনেসিস সিনেমা হলে ছায়াছবি ‘লক্ষ্মী ছেলে’ দেখানো হবে। দেখানো হবে শৈবাল মিত্র’র ‘আ হোলি কন্সপিরেসি’, পরিচালক ইন্দ্রানী চক্রবর্তীর ‘ছাদ’, অমিতাভ চ্যাটার্জির ‘ইনটু দ্য মিস্ট’ বা কুয়াশার মাঝে, বর্ণালি রায় শুক্লার হিন্দি ছবি ‘জুন’, রাজা ঘোষের ‘চাবিওয়ালা’-র মতো ছবি।
উৎসবে অংশ নেওয়া সিনেমাগুলি প্রদর্শিত হয় বারবিক্যান সেন্টার, পূর্ব লন্ডনের জেনেসিস, ওয়ালিংটনের হলে। ২৬ এপ্রিল ৮টায় ঐতিহ্যবাহী বারবিকান সিনেমা হলে লাল গালিচা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বনামধন্য চিত্র নির্মাতারা, প্রডিউসারস, ড্রিস্ট্রিবিউটারস সাংবাদিক সহ অনেক গুনীজনরা উপস্থিত থাকবেন।
এই উৎসবের উদ্যোক্তা ও চেয়ারম্যান নির্মাতা মুনসুর আলির কথায়, “মূল বাণিজ্যিক ধারার দর্শকের কাছে ভিন্ন ধারার সিনেমা তুলে ধরতেই এই চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন।” তবে, শুধু বাংলাদেশ বা ভারত নয়, ইংল্যান্ডে তৈরি সিনেমাও এবারের উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে।
___________________
তথ্য ও ছবি সৌজন্যেঃ সুবিদিতা ভট্টাচার্য (ফেস্টিভ্যাল ডিরেক্টর এবং জনসংযোগকারী অফিসার, মরিংগা এন্টারটেনমেন্ট)