
জার্মানির মিউনিখ থেকে শৈবাল গিরি-র লেখা- আলভিদা জুলফি হবে, না আলবিদা বাংলা সিনেমার রেনেসাঁস
পুজোর মুখে এমন লিখলে বাঙালি হতাশ হবে, সৃজিত মুখার্জি নজরান্দাজ করবে, যারা বাংলা সিনেমার মুণ্ডপাত করে তারা খুশি হবে আর আমার সৃজিতপ্রীতি নিয়ে মহানন্দে বক্রোক্তি করবে। কেন লিখছি তার কারণ, সদ্য দেখে ওঠা ‘রাজকাহিনী। এক বছর পর। এমনই এক ছবি যার প্রচার বোধহয় পুজোর প্রচারের থেকেও দশগুণ ছিল। বাছাই করা প্রশংসা পড়ে পড়ে টাইমলাইন ভরে যেত। না জানি কী এক দিগন্তকারী সিনেমা এল দেশে। এমনই এক ছবি, যার ট্রেলর দেখে মনে হয় বাঙালির কোন র’ ইমোশন ছুঁয়ে গেছে দেশভাগ। কচুকাটা হচ্ছে গ্রামবাংলা, বিভেদের অস্ত্র দিয়ে। তার পর শোনা গেল সাফল্যের পারদ চড়িয়ে বলিউড গেছে রাজকাহিনী। রিমেক হতে। এমন এক প্রযোজকের হাত ধরে যার অবদান ভাবতে বসলে সুড়সুড়ি দেওয়া সিনেমার নামই প্রথমে মনে আসে। নিন্দুকরা ততদিনে রাজকাহিনীর ভাষা আর শালীনতা নিয়ে কথা শুরু করেছে। তখনও সিনেমাটা না দেখে মনে হয়েছিল, সৃজিত এক তরুণ বুদ্ধিদীপ্ত আর বলিষ্ঠ নির্দেশক তাই সস্তা কিংবা অপ্রয়োজনীয় প্রাপ্তবয়স্কিয় স্ক্রিপ্ট দিয়ে নিজের ইকুইটি নষ্ট করবে না। ‘হেমলক সোসাইটি’ সাফল্য পায়নি বাঙালি বোঝেনি বলে, বাঙালিকে অশালীনতা বেচে বাঁচতে হবে না ‘বাইশে শ্রাবণ’ করা সৃজিতকে।
কিউ নামক এক পরিচালক তার রগরগে সিনেমাগুলো এখন হলে নয়, নেটফিক্স এ ছাড়ছে। নিজের নাম বিকৃত করে লেখার সঙ্গে সঙ্গে বিকৃতমনস্ক সিনেমাগুলো আরও বিকৃত নাম দিয়ে কোন দর্শক ধরার চেষ্টা করছে কে জানে। আতলামি আর ভয়্যারিসম আজকাল সমার্থক পথে এগোচ্ছে বোধহয়। তাই এক নতুন বাজার সৃষ্টি হয়েছে এই সিনেমার – যা এই ক্ষুদ্রজ্ঞানীর মত আপামর জনতা বুঝতে অপারগ। ব্রাহ্মণ নমহ সেই বাজারের জন্য এক অনবদ্য অভিষেক। জিও বাঙালি। পারভারশান ফ্লিক্স নামক এক জনার সৃষ্টি তোমার হাতেই লেখা ছিল।
পারভারশান ফ্লিক্সকে ইতিহাসের মোড়কে ঠাসবুনট করে সাজিয়ে, ফেসবুকে কেচে, ইউটিউবে ভেজে, জনগণমন দিয়ে দম লাগিয়ে, পুজোর ভিড়কে বাসী মাংসের চপ বানিয়ে বেচার মত এক অসামান্য উদাহরণ – রাজকাহিনী। এক বছর পর দেখে বুঝলাম সৃজিতসুলভ সৃজনশক্তি যেখানে – উসে কেয়া বলতে হ্যায়, পুরা পার্টিসান হয়ে গেছে (ঋতুপর্ণার সেই ফ্যাসফ্যাসে আওয়াজে ভেবে নিন)।
এক বছর পর, আরেক পুজোর প্রথম দিন। সেই ঠাসবুনট, সেই ফেসবুকে বাছাই করা প্রশস্তি প্রচার, সেই ইউটিউবে ট্রেলর, জনগণমন এবার বদলে গেছে সেক্সপিয়ারে।
ভয় ভয় আছি। আলভিদা জুলফি হবে, না আলভিদা বাংলা সিনেমার রেনেসাঁস
