পাহাড়ে পলাশে : ঘুরে আসুন বাঁকুড়ার বিহারীনাথ পাহাড়ের কোলে

বিহারীনাথ পাহাড় এখন পলাশে পলাশে লাল

পনি যদি প্রকৃতিপ্রেমিক হন অথবা ছবি তুলতে ভালোবাসেন, তাহলে চলুন পলাশের বনে। লালপাহাড়ের দেশ বাঁকুড়ার বিহারীনাথ পাহাড়-এর কোলে। বাঁকুড়ার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই পলাশবন। এটি ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চলের অন্তর্গত। সমতল থেকে এই অঞ্চলের উচ্চতা ৪৪৮ মিটার। ঘন সবুজের বনে চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে জৈন ধর্মের নিদর্শন।

এই সময় বনটির এক অন্য রূপ ধরা পড়ে। সবুজের সঙ্গে মিশে আছে লালের বাহার। শরৎ ও বসন্তকালে শিমুল, পলাশ ও কাশবনে ঘেরা জঙ্গল এক অন্য রূপ নেয়। নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অন্য মাত্রা যোগ করে বয়ে চলা দামদর নদ। বর্ষায় এর রূপ ভয়াবহ হলেও বসন্তে সে যেন ক্লান্ত দুপুরে গান গেয়ে যাওয়া পাখির মত। আপন মনে অলস স্রোতে বয়ে যায় তার জল।

পায়ে হেঁটে বিহারীনাথ পাহাড়ের দিকে হেঁটে গেলেই দেখা মিলবে হাজার রকমের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের। পাহাড়ের উপরে থাকা প্রাচীন শিবের মন্দিরে শিবরাত্রি উপলক্ষে মেলাও বসে আর ভক্তসমাগমও হয়।

পলাশবন একটি সুশৃঙ্খল পর্যটন গন্তব্য। বনে চলার পথে দেখা পেতে পারেন শেয়াল, খরগোশ, বন্য শুকর, বনরুই, হায়না, গিরগিটি। কখনো আবার রঙিন পাখির দল তাদের লেজ ঝুলিয়ে গান শুনিয়ে যাবে চলার পথে। পায়ে হেঁটে বিহারীনাথ পাহাড়ের দিকে হেঁটে গেলেই দেখা মিলবে হাজার রকমের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের। পাহাড়ের উপরে থাকা প্রাচীন শিবের মন্দিরে শিবরাত্রি উপলক্ষে মেলাও বসে আর ভক্তসমাগমও হয়।

বিহারীনাথ ধাম নামেই এই মন্দির প্রসিদ্ধ। মন্দির সংলগ্ন পুকুরটিকে স্থানীয় মানুষ অত্যন্ত পবিত্র বলেই মনে করেন। মন্দিরের পাশের রাস্তা ধরে এগোলেই আছে এক বিশাল দীঘি – যা রুক্ষ ভূমির বুকে যেন এক টুকরো ওয়েসিস। কাছেই আছে আদিবাসী গ্রাম পাহারবেড়া। পরিচ্ছন্ন গ্রামের বাড়ির মাটির দেওয়ালের আলপনা গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির এক অনবদ্য পরিচয়। ঘুরে আসতে পারেন সাঁওতাল গ্রাম কুলাবহাল। ছোট্ট গ্রাম। মাটির বাড়ির দেওয়ালে এখানেও আছে হাতে আঁকা আলপনা, যা স্বশিক্ষিত শিল্পধারার এক আশ্চর্য নিদর্শন। ভোরের ঠান্ডা বাতাসে নির্জন রাস্তায় হাঁটতে যাওয়া। সন্ধ্যায় নক্ষত্র–খচিত আকাশ হাজারো তারাদের মেলা। তবে ফেব্রুয়ারি আর মার্চ মাসে এই অঞ্চল সেজে ওঠে লাল পলাশ ফুলে।

কীভাবে যাবেন? বিহারীনাথ পাহাড়ে যাওয়ার জন্য আপনি ট্রেন বা নিজস্ব গাড়িতেও যেতে পারেন। গাড়িতে গেলে মুকুন্দপুর থেকে মধুকুন্ডু রোড ধরে এগিয়ে যেতে হবে। রানিগঞ্জ স্টেশন থেকে গাড়ি নিয়ে বা দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে রানিগঞ্জ মিউনিসিপ্যালিটিকে ডানদিকে রেখে একটু এগিয়ে গেলেই শালতোড় – মেজিয়া রোড। তাকে পেছনে ফেলে ডানদিকে ঘুরলেই লাল দিগন্ত।

কোথায় থাকবেন? একদিনের জন্য ঘুরতে যেতে পারেন। বাঁকুড়া থেকে গাড়ি করে যেতে পারেন পলাশবন। এছাড়া দুদিন থাকার জন্য সম্বল বিহারীনাথ রিসর্ট।

Developed by DXDasia