
স্নাতক, স্নাতকোত্তর, ডক্টরাল এবং পোস্টডক্টরাল ইত্যাদি শিক্ষাক্ষেত্রের জন্য ব্যবহার করা যাবে ‘স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড’
ম্যানেজমেন্ট কোর্স, পি.এইচ.ডি কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্থিক সংকটের জন্য এত দিন অধরা ছিল অনেকেরই। উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহ থাকলেও পয়সার অভাবে পা বাড়াতে পারত না কেউ কেউ। আর এই অসুবিধার কথা মাথায় রেখেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চালু করেন নয়া প্রকল্প ‘স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড’।
গত বছর ৩০ জুলাই নবান্ন থেকে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের সূচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দশম শ্রেণির পর থেকেই উচ্চশিক্ষার জন্য ছাত্রছাত্রীরা এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবে বলে ঘোষণা করেছিলেন তিনি। প্রথমে রাজ্যের ২২জন ছাত্রছাত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড। তারপর আনুষ্ঠানিক ভাবে এই প্রকল্পের কার্ড তুলে দেওয়া হয় পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে ৩৪ জনের হাতে।
ক্রমেই জনপ্রিয়তা পায় এই প্রকল্প। বাংলার পড়ুয়াদের আলো দেখায় স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড। ডাক্তারি, নার্সিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, বি-টেক, কস্ট ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সির মতো বিষয়ে পড়ার খরচের জন্য আবেদন জমা পড়তে থাকে দিকে দিকে। বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের পড়ুয়াদের প্রতিক্রিয়া জানতে ঘুরে বেরিয়েছিল টিম বঙ্গদর্শন।

উত্তরপাড়ার শুভদীপ মণ্ডল জানান, “আমার ছোটোবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল হোটেল ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করব। তবে কোর্সের খরচের কথা ভেবে আশঙ্কা হতো। তবে এই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের ঘোষণা শুনে আবার স্বপ্ন দেখছি এখন”
কলকাতার আই.আই.এইচ হোটেল ম্যানেজমেন্টের ছাত্রী সহেলী সাহা বঙ্গদর্শনকে জানিয়েছেন তিনি এই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের দ্বারা উপকৃত হয়েছেন। ওঁর কথায়, “এরকম একটা প্রকল্পের ভাবনা যে কীভাবে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত স্টুডেন্টদের পাশে থাকতে পারে তা নিজের জীবন দিয়ে উপলব্ধি করছি। এই প্রকল্পের জন্যই আজ আমার উচ্চশিক্ষার খরচ নিয়ে কোনও চিন্তা নেই।”
রাজ্য সরকারের একটি প্রকল্প ‘স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড’। এই প্রকল্পে আবেদন করলে পড়াশোনার জন্য পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষার্থীরা সর্বাধিক দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ৪ শতাংশ ন্যূনতম সহজ সুদের হারে ঋণ নিতে পারবে এই ক্রেডিট কার্ড থেকে। যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা বিগত দশ বছর ধরে এই রাজ্যের বাসিন্দা এবং বয়স ৪০ বছরের কম, তারাই আবেদন করতে পারবে এই প্রকল্পে।
আমাদের রাজ্য তো বটেই পাশাপাশি দেশ বিদেশের স্নাতক, স্নাতকোত্তর, ডক্টরাল এবং পোস্টডক্টরাল ইত্যাদি শিক্ষাক্ষেত্রের সুবিধার জন্য ব্যাবহার করা যাবে ‘স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড’ জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এই ঋণ প্রাতিষ্ঠানিক এবং অ-প্রাতিষ্ঠানিক খরচ যেমন হোস্টেল ফি বা ভাড়া, ল্যাপটপ কেনাকাটা, এবং স্টাডি ট্যুর বা প্রকল্পের জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই ব্যবস্থার অধীনে ঋণ পরিশোধের জন্য পড়ুয়াদের ১৫ বছর সময় থাকবে বলা হয়েছে এই প্রকল্পে। তবে কেউ চাইলে সময়সীমার আগে যেকোনো মুহূর্তে ঋণের পরিমাণ ফেরত দিতে পারেন।

স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড চালু করার মূল উদ্দেশ্য হল পড়ুয়ারা যাতে টাকার অভাবে উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়। স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার জন্য লাগবে আবেদনকারীর জন্মের পরিচয় পত্র ( আধার কার্ড অথবা মাধ্যমিকের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট), প্যান কার্ড, পাসপোর্ট সাইজের ফটো এবং সই। এছাড়াও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তির কাগজপত্র, টিউশন ফিস এবং কোর্স ফিস-এর নথি আপলোড করতে হবে। আর লাগবে গ্যারেন্টার হিসেবে অভিভাবকের পরিচয় পত্র, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, সই। যাঁদের প্যান কার্ড নেই, তাঁরা ‘Undertaking For Pan’ ফর্ম ডাউনলোড করে তার পর আবেদন করতে পারবে বলে জানানো হয়েছে নোটিফিকেশনে।
আমাদের দেশে শিক্ষার চাহিদা চিরকালীন। আধুনিকতার ইঁদুর দৌড়ে পাল্লা দিয়ে বাংলার ঘরের ছেলে-মেয়েরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে সেই কথা মাথায় রেখেই চালু করা হয়েছে এই প্রকল্প। হুগলির ব্যাঙ্ককর্মী অয়ন শেঠ জানান, “আমাদের ব্যাঙ্কে রোজই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্য ভিড় থাকছে। মূলত ম্যানেজমেন্ট কোর্সের জন্য আয়াপ্লিকেশন জমা পড়ছে বেশি। এই বিষয়ে মানুষের চাহিদার দিকটি যে সত্যিই বিস্তর তা বেশ ভালোই বুঝতে পারছি।” এই উপচে পড়া চাহিদাই আজ জানিয়ে দিচ্ছে, বাংলার পড়ুয়াদের স্বপ্ন বুনতে সাহস দেখাচ্ছে সরকারের নয়া উদ্যোগ ‘স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড’।
