
প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শুক্ল একাদশী তিথিতে করম পরব পালন করা হয়
আমাদের দেশ রামায়ণ, মহাভারতের দেশ। স্বাভাবিকভাবেই এমন একটি দেশে থাকবে নানান অশ্রুত কাহিনি আর পুরাণের ব্যবহার। যে মিথের প্রতি মিশে আছে আমাদের অমোঘ আকর্ষণ। এইসব জানা-অজানা কাহিনি ঘিরেই এত উৎসাহ, এত উদ্দীপনা। কথিত আছে করম পূজার দেবতা করম আসলে শক্তি ও যৌবন কিংবা সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধির প্রতীক। আদিবাসীদের এই করম পরব পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় সাধারণত অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। পুরুলিয়া জেলার ভূমিজ, কুর্মী, বীরহড়, বীরনিয়া, খেরওয়ার, হো, খেড়িয়া, শবর, কোড়া, লোহার, মাহালি, রাজপুত, সিংসরদার, সিংমুড়া, পাহাড়িয়া, মাহাতো, বাউরি, হাড়ি, বাগদি, বেদে, সরাক, ঘাসি, মাহালি ও বৃহৎ জনগোষ্ঠী সাঁওতাল, মুন্ডা, ওঁরাও প্রভৃতি সম্প্রদায়ের আরণ্যক ও কৃষিভিত্তিক লোকউৎসব।
প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শুক্ল একাদশী তিথিতে করম পরব পালন করা হয়। এর সাতদিন আগে মেয়েরা ভোরবেলায় শালের দাঁতন কাঠি ভেঙে নদী বা পুকুরে স্নান করে বাঁশ দিয়ে বোনা ছোটো টুপা ও ডালায় বালি দিয়ে ভর্তি করেন। তারপর গ্রামের প্রান্তে একস্থানে ডালাগুলিকে রেখে জাওয়া গান গাইতে গাইতে তিন পাক ঘোরেন। এরপর তাতে তেল ও হলুদ দিয়ে মটর, মুগ, বুট, জুনার ও কুত্থির বীজ মাখানো হয়। অবিবাহিত মেয়েরা স্নান করে ভিজে কাপড়ে ছোটো শালপাতার থালায় বীজগুলিকে বুনা দেন ও তাতে সিঁদুর ও কাজলের তিনটি দাগ টানা হয়, যাকে বাগাল জাওয়া বলা হয়। এরপর ডালাতে ও টুপাতে বীজ বোনা হয়। এরপর প্রত্যেকের জাওয়া চিহ্নিত করার জন্য কাশকাঠি পুঁতে দেওয়া হয়। পুরুষেরা শাল গাছের ডাল বা ছাতাডাল সংগ্রহ করে আনেন। গ্রামের বয়স্কদের একটি নির্দিষ্ট করা স্থানে দুইটি করম ডাল এনে পুঁতে রাখা হয়, যা সন্ধ্যার পরে করম ঠাকুর বা করম গোঁলায় এবং ধরম ঠাকুর হিসেবে পূজিত হন।
করম উৎসবের সময় রাত থাকে সকালের সূর্যোদয় পর্যন্ত সম্মিলিত ভাবে ভাদরিয়া ঝুমুর গান ও যৌথ নাচ পরিবেশিত হয়। এই নাচে শুধুমাত্র অবিবাহিত ও প্রথম বছরের নববিবাহিতা মেয়েরাই অংশগ্রহণ করতে পারেন। মেয়েদের পরনে থাকে লুঙ্গি, গামছা কিংবা শাড়ি। রূপার গয়না ও মাথায় থাকে ফুল। এই নাচে ফুটিয়ে তোলা হয় কৃষিকাজ।
ছবিসূত্র- গুগল
