প্রকৃতির স্বর্গরাজ্য ‘ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স’

নভেম্বর থেকে এপ্রিল অবধি বরফে ঢেকে থাকে চারপাশ

ব্রিটিশ অভিযাত্রী ফ্রাঙ্ক স্মিথ ফিরছেন হিমালয়ের কামেট শৃঙ্গ জয় করে। হঠাৎ তুষারঝড়। হারিয়ে গেলেন স্মিথ। সঙ্গীহীন স্মিথ ঘুরতে ঘুরতে এসে পড়লেন এক আশ্চর্য উপত্যকায়। দেখলেন চারিদিকে শুধু ফুলের মেলা। মুগ্ধ হয়ে গেলেন স্মিথ। ফিরে গেলেন দেশে। কিন্তু ফুলের টানে ফিরে এলেন আবার ছ'বছর পর। গেলেন সেই উপত্যকায়। একটি শিবির স্থাপন করলেন। দিন রাত এক করে সংগ্রহ করলেন তিনশো প্রজাতির ফুল। দেশে ফিরে লিখলেন একখানি অসাধারণ বই- 'The Valley of Flowers'। সাহিত্যিক রাসকিন বন্ড এই বই লেখার জন্য লেখককে জানিয়েছিলেন অভিনন্দন। সেই থেকে হিমালয়ের কোলে প্রকৃতির এই স্বর্গরাজ্যের নাম হয়ে গেল 'ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স'। যেখানে এলে মন ভালো হয়ে যায়। হিন্দিতে 'ফুলো কা ঘাঁটি', বাংলায় 'পুষ্প উপত্যকা'

 

উত্তরাখণ্ড, আগের নাম উত্তরাঞ্চল। ট্রেনে হরিদ্বার। তারপর পাহাড়ি পথ ধরে বদ্রীনাথের পথে। দেবপ্রয়াগ, রুদ্রপ্রয়াগ, কর্ণপ্রয়াগ, নন্দপ্রয়াগ পিপলকোঠি হয়ে যোশীমঠ। সেখান থেকে বদ্রীনাথ যাওয়ার পথে পড়ে গোবিন্দঘাট। এখান থেকেই শুরু 'Valley of Flowers'। নভেম্বর থেকে এপ্রিল অবধি বরফে ঢেকে থাকে চারপাশ। রাস্তা বন্ধ থাকে। এপ্রিলের শেষ থেকে বরফ গলা শুরু হয়, ছোট ছোট গাছগুলিতে ফুলে কুঁড়ি ধরে আর অগাস্টের মাঝামাঝি পুরো উপত্যকা ভরে যায় ফুলে। পরে এর নাম হয় নন্দাদেবী জাতীয় উদ্যান।

 

বর্তমানে এটি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। চারপাশে শুধু ফুল আর ফুল। একেক ফুলের একেক রং। উপত্যকার মাঝে বয়ে চলেছে পুষ্পবতী নদী। উপত্যকায় অ্যালপাইন্স ফুলের সাথে দেখা মেলে ডেইজি, ক্যালেন্ডুলা, পপি, ডায়ানথাস, পটেনটিলা, জেরোলিয়াম, অ্যাস্টার সহ তিনশো প্রজাতির ফুল।

বরফেমোড়া পাহাড়, নদীর কলতান, সবুজের গালিচায় হাজারো বাহারি ফুল দেখে মন আপনা থেকেই বলে উঠবে 'পৃথিবীতে যদি স্বর্গ কোথাও থেকে থাকে তবে তা এখানেই।' ১৩,০০০ ফুট উচ্চতায় এই ফুল বাগিচার প্রেমে পড়ে লন্ডন থেকে এসেছিলেন সুন্দরী মার্গারেট। এখানেই পা পিছলে পড়ে তিনি মারা যান। ১৯৩৯ এর ৪ জুলাই। প্রকৃতির কোলে ফুল বাগিচায় রয়েছে তাঁর ছোট্ট সমাধি। পাহাড়ি ফুল আজও তাকে ভালবাসা জানায়।

Developed by DXDasia