
বিশেষ বিভাগে প্রদর্শিত হচ্ছে নেতাজির উপর নির্মিত দুটি ছবি
স্বাধীনতার (Independence) ৭৫ বছর সম্পূর্ণ! স্বাধীন ভারত (India) গণতন্ত্রের, প্রজাতন্ত্রের এবং অবশ্যই ধর্মনিরপেক্ষতায় আজও এক এবং অনন্য। ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট (15 August) সদ্য-স্বাধীন ভারতের সংগ্রাম এবং সুখকে ধারণ করেছিল তার প্রতিটা অক্ষর কারণ অবশেষে ব্রিটিশ শাসনের কবল থেকে নিজেকে স্বাধীন করেছিল ভারত। স্বাধীনতা লাভের মাহেন্দ্রক্ষণের সেই চিত্র আজও ভোলার নয়। ঠিক সেই কারণেই ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি মাথায় রেখে এবার বেশ কয়েকটি ছবি রাখা হয়েছে, যার মধ্যে বিশেষ বিভাগে প্রদর্শিত হচ্ছে নেতাজির (Netaji) উপর নির্মিত দুটি ছবি — পীযূষ বোসের ‘সুভাষচন্দ্র’ (Subhash chandra) এবং শ্যাম বেনেগালের ‘নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস: দ্য ফরগটেন হিরো’ (Subhash Chandra Bose : The Forgotten Hero) ।
সুভাষ চন্দ্র (১৯৬৬)
এই ছবি পরিচালিত করা হয় ছয়ের দশকে। সময়কাল হিসাবে তখন বলা চলে স্বাধীনতা আন্দোলনের সেই চরম রেশ তখনও বাংলার আলো হাওয়া মাটি জুড়ে গর্জে উঠছে। এই ছবিতে পরিচালক পীযূষ বোস খুব সুন্দর ও তুখোড় ভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন সুভাষের শৈশব এবং কৈশোরের দিনগুলো।
বোস – দ্য ফরগটেন হিরো (২০০৫)
ভারতীয় সিনেমায় সম্ভবত নেতাজির সবচেয়ে সম্পূর্ণ চিত্রায়ন। প্রায় দু’বছর গবেষণার পর ছবিটি তৈরি করেন দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক শ্যাম বেনেগল এবং এটি মুক্তি পায় ২০০৫ সালে। বেনেগলের নিজস্ব স্মৃতিচারণের সঙ্গে অনায়াসে এই ছবিতে মিশেছে ইতিহাসের প্রামাণ্য তথ্য। বেনেগলের এক আত্মীয় ছিলেন নেতাজির টোকিয়ো ক্যাডেট-এর সদস্য এবং তাঁর মুখে ছোটোবেলা থেকেই আজাদ হিন্দ ফৌজের গল্প শুনতেন বেনেগল। “মনে আছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ছোট্ট আমি আমার আত্মীয়ের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছি বম্বের সমুদ্রতটে, নেতাজির ফেরার অপেক্ষায়। হয়তো তখনই এই ছবির জন্ম, কে জানে,” বলেন তিনি।
আশির দশকে নেহরুকে নিয়ে ছবি তৈরি করার সময় গবেষণার কাজে কলকাতায় আসেন বেনেগল, দেখা হয় নেতাজি রিসার্চ ব্যুরো-র কর্ণধার ডাঃ শিশিরকুমার বসুর সঙ্গে। সেইসময়েই নেতাজি সংক্রান্ত বিভিন্ন দলিলপত্র ঘেঁটে দেখেন বেনেগল। তাঁর বক্তব্য, “নেতাজি সকলের চোখেই বিরাট হিরো, অথচ তিনি যে ঠিক কী করেছিলেন, বা তিনি যে মহাত্মা গান্ধির কর্মসূচিকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, তা খুব কম মানুষই জানেন। এমনকি তিনি যে বিবাহিত ছিলেন, তাই বা ক’জন জানতেন?”
ছবিটির পিছনে প্রধান অনুপ্রেরণা কী, সেই প্রশ্নের উত্তরে পরিচালকের বক্তব্য, “কী অসীম সাহস নিয়ে এই পথে নেমেছিলেন নেতাজি, সেকথা ভেবেই ছবিটা বানানো। হয়তো সফল হওয়ার কোনও আশা ছিল না, তবু হাল ছাড়েননি। ফৌজ একত্র করে হামলা চালিয়েছেন ব্রিটিশদের উপর, কিছুটা ভূখণ্ড দখলও করেছেন। ভারতের স্বাধীনতা যে সময় আসে, তা ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি না থাকলে কখনোই আসত না।”
এই দুটি ছবি ছাড়াও ভারতের স্বাধীনতা সম্পর্কিত আরও কয়েকটি ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে, যেমন সুজিত সরকার পরিচালিত খুব জনপ্রিয় একটি ছবি ‘সর্দার উদম’ এবং মুজিবর রহমান পরিচালিত 100 years of Jallianwala Bagh Massacre – News Views Reflection.
প্রসঙ্গত, এ বছর ৪২টি দেশের মোট ১৬০টি ছবির ২০০টি প্রদর্শিত হচ্ছে। রয়্যাল বেঙ্গল গোল্ডেন টাইগার ট্রফি, হীরালাল সেন মেমোরিয়াল ট্রফি, নেটপ্যাক অ্যাওয়ার্ড-সহ আরও নানান পুরস্কার থাকছে অন্যান্যবারের মতোই। এছাড়াও থাকছে ফিনল্যান্ডের মোট ৬টি ছবি।
