
হিন্দুস্থান ক্লাব এ-বছর ৫৬ তম বর্ষে পা দিচ্ছে। থিমের পোশাকি নাম “আমার উমা মা হয়েছে”।
শিবশংকর দাস গভর্মেন্ট আর্ট কলেজের প্রাক্তন ছাত্র। পুজোর কাজ শুরু করেছেন ২০০৬ সাল থেকে বোসপুকুর শীতলা মন্দিরের মধ্যে দিয়ে। তারপর একে একে নাকতলা উদয়ন, ভারতচক্র, ৪১ পল্লী, বেলেঘাটা ৩৩ পল্লীতে একক শিল্পী হিসাবে কাজ করেছেন। চমকে দিয়েছেন বাংলার দর্শককে।
হিন্দুস্থান ক্লাব একটি মহিলা পরিচালিত ক্লাব। একটি ক্লাব মহিলারা পরিচালনা করছেন, আবার অন্যদিকে দুর্গাপুজো মানে দেবী আরাধনা। তাই দুটোকে যদি কোনোভাবে এক করে তোলা যায় সেই চেষ্টাই করছি। আমি গতবছর থেকে হিন্দুস্থান ক্লাবের কাজ করছি। মিটিং-এ আলোচনা হল এবছরের পুজো শুধুমাত্র চারদিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। সারাবছর ধরেই পালিত হবে উৎসব, আর তার ফর্ম হবে ভিন্ন। কখনও স্পেশাল চাইল্ডদের মায়েরা কীভাবে সমাজের প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে যেতে যেতে সন্তানদের বড় করে তোলে তা নিয়ে ভিন্নরকম উদ্যোগ; কখনও বৃদ্ধাশ্রমের বিধবা বয়স্কাদের নিয়ে উদযাপন করেন ‘মা ষষ্ঠী’; আবার কখনও দেহদান, চক্ষুদানের মধ্যে দিয়েও আরেকধরনের উৎসব পালিত হয়। এইভাবে সারাবছর মেয়েদের একটা প্ল্যাটফর্মের মধ্যে নিয়ে এসে মেয়েরাই হয়ে ওঠে শক্তি কিংবা আরাধিকা। একে অপরের হাত ধরেন, কাঁধে থাকে অন্যের হাত। ঠিক এমনই কিছু কর্মসূচিকে মাথায় রেখে এবছরের পুজোর থিমকে একটু অন্যরকমভাবে দেখছি আমরা।


হিন্দুস্থান ক্লাব এ-বছর ৫৬ তম বর্ষে পা দিচ্ছে। পুজোর বিষয় মাতৃকেন্দ্রিক। মা ছাড়া আমাদের কোনও অস্তিত্ব নেই। তাই থিমের পোশাকি নাম “আমার উমা মা হয়েছে”। এই উমা কখনও ঘরের মেয়ে, আবার যার আরাধনা করা হচ্ছে তিনিও উমা। মা-মেয়ের এই জীবন বৃত্ত নতুন তারে বাঁধতে উদ্যোগী হলাম। থিম নিয়ে তাই আর রূপকথার আশ্রয় নিতে হচ্ছে না আমাদের। জীবন থেকেই উঠে আসছে সবকিছু। খুব সাধারণ ছোট ছোট চিন্তাভাবনা বা এই সমাজে মেয়েদের/মায়েদের বেঁচে থাকা নিয়েই তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ।

আমরা সম্পূর্ণ মাটির প্রতিমা তৈরি করছি। যেখানে দেবী বসবেন পদ্মাসনে। তাঁর শাড়ির আঁচলে থাকবে গোটা পরিবার। একার কাঁধে সবটুকু দায়িত্ব। এই ভাবনায় প্রতিমা নির্মাণ করছেন নবকুমার পাল। মণ্ডপে বিশেষ মেটেরিয়াল হিসাবে থাকছে আয়রন। বিভিন্ন স্কাল্পচার থাকছে আয়রনের, যেগুলো গোটা মণ্ডপ জুড়ে সাজানো হবে। বর্তমান সময়ে মা নামক অনুভূতিটা অনেকটা সরে যাচ্ছে। এগুলো হল পারিপার্শ্বিক পরিকাঠামোর ফল। আমার আশির দশকে জন্ম। ছোটবেলা থেকেই রেডিওতে কল্যাণ সেন বরাটের কম্পোজিশন শুনে বড় হয়েছি। সেখানে খুব নরম একটা স্পর্শ পাই। আমার মনে হয়েছিল এবছরের থিমের সঙ্গে এরকম কোনো আবহ যদি তৈরি করা যায়। এবছর হিন্দুস্থান ক্লাবের আবহ নির্মাণ করছেন কল্যাণ সেন বরাট স্বয়ং। যেখানে উঠে আসবে মাতৃবন্দনা। গানের কথা লিখেছেন শুভ দাশগুপ্ত। গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তাপস রায়। আর আলো করছেন আশিস সাহা। আশাকরি এবারের হিন্দুস্থান ক্লাব সহ কলকাতার দর্শক নতুন কিছু কাজ দেখতে চলেছেন। আমাদের ঘরের পাশে ঘটে চলা দৈনন্দিন ঘটনাগুলিই একটা থিমের মাধ্যমে নিয়ে আসতে চাইছি। তাই অনুভব করার জায়গাটা খুব সরাসরি। সেক্ষেত্রে এই পুজো, কলকাতা সহ সারা বাংলার দর্শককে নিয়ে যাবে আমাদের আটপৌরে জীবনে।

