
মৌলবাদ ও নজরদারির তেহরানে রুদ্ধশ্বাস শৈল্পিক লড়াই
জাফার পানাহির ছবি- ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট
তখনও ইরানের সিনেমা (Iranian Cinema) বলতে শুধু আব্বাস কিয়ারোস্তমি বুঝি; তবে এদিক-ওদিক থেকে ছিটকে আসা নতুন-পুরনো টুকরো-টুকরো ইতিহাসের ছেঁড়া পাতা থেকে আন্দাজ করে নিচ্ছি যে ইরান আসলে গার্সিয়া মার্কেজ বর্ণিত নিঃসঙ্গতার শতবর্ষে অভিশপ্ত দেশগুলির দলে পড়ে। ধীরে ধীরে ইরানের ছবি নিয়ে আগ্রহ বাড়ল। ওখানকার ছবির স্বভাবসিদ্ধ ফিল্ম ন্যারেটিভই মূলত কাছে টানছিল।
মার্কিন স্পেকট্যাকলধর্মী ছবি দেখে অভ্যস্ত চোখ অনাড়ম্বর ইমেজে ধরা পরাবাস্তবকে চিনতে শিখল। এরই মধ্যে একবিংশ শতাব্দী বাঁক নিল দ্বিতীয় দশকের দিকে আর সামনে এসে দাঁড়ালো অনভিপ্রেত একের পর এক যুদ্ধ পরিস্থিতি।
আব্বাস কিয়ারোস্তামির ছবি- ক্লোজআপ
পানাহি এমনই এক প্রতিভা যিনি গৃহবন্দি অবস্থায় অথবা গেরিলা পদ্ধতিতে ছবি নির্মাণের কোনো না কোনো উপায় ঠিকই বের করে ফেলেন (যেমন “নো বিয়ার্স” ছবিটি)। তাঁর সাম্প্রতিক যে ছবিটি নতুন করে তাঁকে রাষ্ট্রের শত্রু করে তুলেছে, সেই “ইট ওয়াস জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট” নির্মাণের প্রাথমিক ভাবনা পানাহির মাথায় আসে ইরানের কুখ্যাত এভিন জেলখানায় বন্দি থাকাকালীন।
বছর চারেক আগে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে রাজনৈতিক চাপান-উতোর যখন তুঙ্গে, তখন হঠাৎ এক বন্ধু ধূমকেতুর মতোই ফারোখজাদের কবিতা নিয়ে সামনে এসে দাঁড়াল। ফারোখজাদের নাম কিয়ারোস্তামির “দ্য উইন্ড উইল ক্যারি আস” (১৯৯৯) দেখার সময়ই শুনেছিলাম। জানতাম ওই শীর্ষক নামেই ওঁর একটি বিখাত কবিতাও রয়েছে। তবে ইংরেজি অনুবাদে সরাসরি ওঁর কবিতার পাঠ খানিকটা সাহায্য করল ইরানকে রাজনৈতিকভাবে চিনতে আর বুঝে নিতে মৌলবাদের বেড়াজালে ওদেশে নারী, শিশু ও মুক্তিকামী মানুষদের অবস্থানটা ঠিক কোথায়।
ফারোখজাদের কথা উল্লেখ করলাম কারণ ইরানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কবি হিসেবে ফারোখজাদের গুরুত্ব অপরিসীম। ওঁর কবিতার বৈশিষ্ট্য হল অন্তর্বিশ্ব থেকে বহির্বিশ্বের দিকে গমন; যে ফারোখজাদকে তাঁর প্রথম জীবনের কবিতা “গুনাহ”তে ব্যক্তিগত অন্তঃপুরের ভাঙন নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে দেখা যায়, সেই ফারোখজাদই কয়েক বছর পরে “গোলে সোর্খে” কবিতায় বিপ্লবের রক্তে রাঙানো পতাকার মতো লাল গোলাপ প্রসব করার কথা লেখেন – অর্থাৎ, রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়েই তাঁর কবিতা ক্রমশ অ্যাস্থেটিক্স থেকে পলিটিক্সের দিকে এগিয়েছে। এর কারণটা সংক্ষেপে বিশ্লেষণ করতে চাইলে এক নজরে দেখে নিতে হবে ফারোখজাদের লেখার সময়কালটা। ওঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “আসির” প্রকাশিত হওয়ার দু’বছর পূর্বে ১৯৫৩ সালে, ইরানের প্রথম গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত মহম্মদ মোসাদেখের সরকারকে বিদেশি শক্তির সাহায্যে ফেলে দেওয়া হয় আর রাষ্ট্র শাসনের বেটনটি অনতিবিলম্বেই গিয়ে ওঠে রেজা পাহলাবির হাতে। সুতরাং, এই জরুরি রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই ফারোখজাদের কবিতা ব্যক্তিগত টানাপড়েন থেকে বেরিয়ে এসে মিশে যায় পথচলতি মানুষের ভিড়ে।
ফারোখজাদ, ইরানের কবি
পাঁচের দশকের ইরান সাংস্কৃতিকভাবে খানিকটা উদার হয়ে উঠেছিল এরকম একটা ধারণা প্রচলিত আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিসরে।সেই সূত্র ধরেই অনেকে দাবি করেন, ওই মুক্ত পরিবেশের কারণেই ফারোখজাদ ও অন্যান্য শিল্পীরা সেই সময় খানিকটা সুযোগ পেয়েছিলেন ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখ নিয়ে নাড়াচাড়া করার আর তৎকালীন সিনেমাতেও ইরানের জনজীবনের ছবি আপাত দৃষ্টিতে খানিকটা প্রগতিশীল বলেই মনে হয়। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে ইরানের পরিচালক এহসান খোশবাখত (“ফিল্মফার্সি”, “সেলুলয়েড আন্ডারগ্রাউন্ড”-এর পরিচালক) জানিয়েছেন যে এই ধারণা আসলে ভ্রান্ত। ইরানের তৎকালীন ছবিগুলিতে মূলত নারীদের যে ইমেজগুলো আমরা দেখতে পাই তা পাশ্চাত্যের অনুকরণে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নির্মিত, যার লক্ষ্য ছিল পুঁজির মাধ্যমে স্বপ্নালু একটি মায়াজাল তৈরি করে নিজের দেশের মধ্যবিত্তকে পণ্য ও ভোগবাদের ফাঁদে ফেলা।
ভারতে বসে ইরানের সব ছবি দেখার সুযোগ পাই না কারণ সমস্ত ইরানিয়ান ছবির যথাযথ সংরক্ষণ হয়নি। তবে গত শতক ও এই শতক মিলিয়ে যেটুকু ছবি দেখেছি ও তাদের পাঠের মধ্যে দিয়ে ইরানের যে রাষ্ট্রব্যবস্থা ও আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির কথা আন্দাজ করতে পেরেছি তা থেকে খোশবখতের বক্তব্যটিকে খারিজ করে দেওয়ার কোনো কারণ দেখি না।
আসলে মোসাদেখের রাষ্ট্র পরিচালনার স্বল্প সময়ে সাংস্কৃতিক পরিসরে কোনো র্যাডিকাল পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি, যে কারণে পাঁচের দশকে পণ্যের নিরিখে আপাত প্রগতিশীল ছবিগুলি কর্তৃক সৃষ্ট মায়াজাল অনায়াসেই ফাঁস হয়ে যায় ২০১৫ সালে জাফার পানাহির “ট্যাক্সি তেহরান”-এ, যখন একটি শিশু বলে ওঠে মাদ্রাসায় তাকে শেখানো হয়েছে হিজাবকে সম্মান করতে ও নারী-পুরুষের মধ্যে সর্বদা শারিরিক দূরত্ব বজায় রাখতে। যে দেশের ফার্সি ভাষার তুচ্ছ প্রয়োগও আমাদের কানে কবিতার মতো শোনায়, সে দেশে একবিংশ শতাব্দীতেও পশ্চাৎমুখী এই প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের শিউরে উঠতে বাধ্য করে।
জাফার পানাহির ছবি- ট্যাক্সি তেহরান
পানাহি যে অনেকদিন ধরেই তাঁর ছবির জন্যে রাষ্ট্রের চক্ষুশূল হয়ে উঠেছেন তা আজ আমাদের অজানা নয়। তবে পানাহি এমনই এক প্রতিভা যিনি গৃহবন্দি অবস্থায় অথবা গেরিলা পদ্ধতিতে ছবি নির্মাণের কোনো না কোনো উপায় ঠিকই বের করে ফেলেন (যেমন “নো বিয়ার্স” ছবিটি)। তাঁর সাম্প্রতিক যে ছবিটি নতুন করে তাঁকে রাষ্ট্রের শত্রু করে তুলেছে, সেই “ইট ওয়াস জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট” নির্মাণের প্রাথমিক ভাবনা পানাহির মাথায় আসে ইরানের কুখ্যাত এভিন জেলখানায় বন্দি থাকাকালীন। রাজনৈতিক বন্দিদের সঙ্গে সময় কাটাতে-কাটাতেই মাথায় আসা এই ছবিটির প্লট যখন ফিল্মের ভাষায় প্রস্ফুটিত হয় তখন অচিরেই তা রাষ্ট্রের মরচে পড়া বিচার ব্যবস্থাকে সারা দুনিয়ার সামনে কাঠগড়ায় দাঁড় করায়।
আর্থ-সামাজিক কাঠামোর প্রতিষ্ঠিত নিয়মানুযায়ী জেলখানার সম্পূর্ণ বিপরীত সামাজিক অবস্থানে থাকা সামরিক ব্যারাকেরও যে ছবি সমকালীন ইরানের সিনেমায় আমরা দেখেছি তা থেকে কারাগার আর ব্যারাকের মধ্যে ফারাক করতে পারা মুশকিল হয়ে পড়ে। মহম্মদ রুসৌলফ – যিনি জাদুবাস্তবতার ন্যারেটিভে ২০০৯ সালে “দ্যা হোয়াইট মিডোস” নামে একটি অপূর্ব ছবি বানিয়েছিলেন (যে ছবির সম্পাদনা করেছিলেন জাফার পানাহি) – চারটি ভিন্ন স্বাদের গল্পের সমন্বয়ে ৬ বছর আগে তৈরি করেছিলেন “দেয়ার ইস নো ইভিল।” ছবির চারটি গল্পেই ধরা দেয় সমকালীন ইরানের রাজনৈতিক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি যেখানে মানুষের স্বাভাবিক প্রকৃতিকেই বিকৃত করে দেয় শারিয়াঃ নিজের অজান্তেই এক প্রেমিক মেরে ফেলে তার প্রেমিকার নিকটজনকে, আপাত শান্ত লোকটির দিন গুজরান হয় রাজনৈতিক বন্দিদের ফাঁসি দিয়ে, কোনো এক বাবা কুড়ি বছর ধরে নিজের মেয়েকে পিতৃ পরিচয় দিতে পারে না। সবচেয়ে নাড়া দিয়ে যায় দ্বিতীয় গল্পটি যেখানে ইরানের জাতীয় আইন অনুযায়ী সামরিক কাজে বাধ্যতা মূলক দুবছর কাটাতে আসা একটি ছেলে শেষ পর্যন্ত বেপরোয়া হয়ে বন্দুক হাতে ব্যারাক ছেড়ে পালায়। ব্যারাকের অন্দরমহল ও সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পরে তেহরানের রাস্তাঘাটের আকাশ ছোঁওয়া প্রাচীর একটি দমবন্ধকর পরিস্থিতি তৈরি করে। শেষ পর্যন্ত যখন ছেলেটি শহরতলির একটি খোলা মাঠে গিয়ে বন্দুকটি ফেলে দেয় তখন আমরাও যেন তার সঙ্গে হাঁফ ছেড়ে বাঁচি। ইরানের ছবি থেকে উঠে আসা এই নির্দিষ্ট স্পেসগুলি ইঙ্গিত করে রাষ্ট্রের সর্বক্ষণ মানুষকে বদ্ধ পরিবেশে আটকে রেখে নজরদারি চালিয়ে যাওয়ার প্রবণতার দিকে – সারা তেহরানই যেখানে হয়ে ওঠে জেলখানা।
যে রুসৌলফ বিকল্পধর্মী বাস্তবতার জালে একসময় ছবির ভাষ্যকে বুনেছিলেন, তাঁকে সেই ন্যারেটিভের নিরীক্ষা ছেড়ে গড়পড়তা রিয়ালিজমে ফিরতে হলো কেন? কোথাও না কোথাও নিশ্চিতভাবেই সরাসরি চোখের সামনে দেখতে পাওয়া বাস্তবকে ডক্যুমেন্ট করার প্রয়োজনটাই জরুরি হয়ে উঠেছিল নিশ্চয়ই।
মহম্মদ রুসৌলফের ছবি- দেয়ার ইজ নো ইভিল
আসলে রাজনৈতিক রিপ্রেসনের প্রতিরোধে তৈরি হওয়া ডিসেন্টই বদলে দিচ্ছে ইরানের সাম্প্রতিক সিনেমার চেহারা। যে রুসৌলফ বিকল্পধর্মী বাস্তবতার জালে একসময় ছবির ভাষ্যকে বুনেছিলেন, তাঁকে সেই ন্যারেটিভের নিরীক্ষা ছেড়ে গড়পড়তা রিয়ালিজমে ফিরতে হলো কেন? কোথাও না কোথাও নিশ্চিতভাবেই সরাসরি চোখের সামনে দেখতে পাওয়া বাস্তবকে ডক্যুমেন্ট করার প্রয়োজনটাই জরুরি হয়ে উঠেছিল নিশ্চয়ই। বাস্তবধর্মী এই ছবি নির্মাণের কাজ এক দশকের বেশি সময় ধরে পানাহিও করে আসছেন। তিনি চিরাচরিত অ্যাস্থেটিক্সকে বর্জন করে সরাসরি রাস্তায় নেমে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে অনবরত ডক্যুমেন্ট করে চলেছেন, যার মধ্যে থেকেই বেরিয়ে আসছে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সাবটেক্সটগুলো। উদাহরণস্বরুপ, “ট্যাক্সি তেহরান”-এর কথায় ফের ফেরা যাক। এই ছবিতে পরিচালক একটি মোবাইল ক্যামেরা গাড়িতে বসিয়ে বেরিয়ে পড়েন কয়েক ঘণ্টার জন্যে তেহরানের রাস্তায় আর সেই স্বল্প সময়েই আমরা জানতে পেরে যাই শহরের তৎকালীন বেকার যুবকদের অপরাধমূলক কাজের দিকে ঝুঁকে পড়ার কথা, সমাজকর্মী ঘাভানি’র ভলিবল মাঠে যাওয়ার অপরাধে গ্রেফতার হওয়ার কথা যা একদিক থেকে পানাহির “অফসাইডে”র (২০০৬) কথা মনে করিয়ে দেয়, আবার এই ছবিতেই আমরা দেখি জীবিকার দায়ে এক ভদ্রলোককে বিদেশি সিনেমার ক্যাসেট নিয়ে বাড়ি-বাড়ি ঘুরতে – যা থেকে আমরা আন্দাজ করে নিতে পারি চূড়ান্ত প্রাদেশিক ও সংকীর্ণ মৌলবাদের নিপীড়নে ও সিনেফিলিয়া কীভাবে ইরানের একাংশের যুব সমাজকে বিশ্বমনস্ক করে তুলছে।
জাফার পানাহির ছবি- অফসাইড
এই মুহূর্তে ইরান ক্ষতবিক্ষত। সময়টাও নাজুক। International Atomic Energy Agency কর্তৃক বারংবার ইরানে পারমানবিক অস্ত্রের অনুপস্থিতির কথা নিশ্চিত করার পরেও মার্কিন মদতে ইজরায়েল যে হামলা ইরানের ওপর করল তা নিন্দনীয় এবং অচিরেই আমাদের ইরাকের কথা মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু, কিছুদিন আগে ভেনেজুয়েলার পাশে যেভাবে সারা পৃথিবীকে এক হয়ে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছিল সেরকমটা এবারে দেখা যাচ্ছে না কেন? কারণটা অনুধাবনকরা কি খুব কঠিন? দীর্ঘদিনের শারিয়া শাসন ইরানকে তো ভেতর থেকেই ক্ষতবিক্ষত করে তুলেছে যার ফল আমরা দেখলাম কয়েক মাস আগে রাস্তাজোড়া মানুষের বিক্ষোভে। সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা আজাদেহ মোহাভেনি একটি দৈনিক কাগজে লিখেছেন বছরের পর বছর আয়াতোল্লার নজরদারি কীভাবে শ্বাসরুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করেছিল দেশের অভ্যন্তরে। বেন অ্যাফ্লেক নির্মিত “আর্গো” (২০১২) ছবিতে আয়াতোল্লার এই ভয়াবহ চাহনি ধরা পড়ে। কাজেই এই পরিস্থিতিতে ইরানের ছবির পাঠ আমাদের যতটা না রাষ্ট্র বহির্ভূত শক্তির সমালোচনা করতে শেখাবে তার চাইতে অনেক বেশি আলোকপাত করবে ইরানের অভ্যন্তরের দ্বন্দগুলির দিকে।
ইরানকে চিনেছিলাম মূলত সিনেমার মধ্যে দিয়েই। তাই মন বিষণ্ণ হয়ে উঠল যখন শুনলাম জাফার পানাহির “অফসাইড” ছবির “আজাদি” স্টেডিয়ামটিকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। তবে, ইরানের সিনেমার মধ্যে দিয়েই ওদেশের মানুষকে যতটুকু চিনেছি তাতে কদাচিৎ বিষণ্ণতায় মন আচ্ছন্ন হলেও পরক্ষণেই মনে হয় তারা এই লড়াই ঠিক লড়ে নেবে। আজাদি হয়ত স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। তা নাহলে প্রচণ্ড অভাবের মধ্যেও কিয়ারোস্তামি’র “লাইফ, এন্ড নাথিং মোর”-এ (১৯৯২) কীভাবে একটি চরিত্র দারিদ্র্য উপেক্ষা করেও ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে চেয়ে বলে ওঠে, “এটাই জীবন … এভাবেই জীবন বয়ে চলে…”
