
ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক নিচে অতল ভূগর্ভ। এক অজানা জগতের মায়াময় রহস্য
দেবাশীষ বারুই-এর প্রথম কাজ ২০০৮ সালে। তবে ২০০৮-এর পর দীর্ঘ কয়েক বছর বিরতি নিয়ে ২০১৫ থেকে শুরু করলেন পুরো দমে পুজোর কাজ। প্রথম থিম নির্মাণ বেহালা যুবকবৃন্দ ক্লাবে। টালা প্রত্যয় ছাড়াও কাজ করেছেন বাদামতলা আষাঢ় সংঘে।
এবারের পুজো অতল অনন্ত। ভূগর্ভের মধ্যে আমরা যা ইমাজিন করি, সেরকম একটা জায়গা ক্রমশ ধরে এগোচ্ছি। স্পেসটাকেও সেরকমভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। একটা ছোট্ট জায়গা কীভাবে বিশাল ভাবনায় রূপায়িত হতে পারে সেই চেষ্টাই চলছে। ধরা যাক, এক টাকা বা দশ টাকার একটা চকোলেট আমরা দোকানে গিয়ে যখন কিনছি হাতে রেডিমেড চকোলেটটাই আসছে। কিন্তু এটা তৈরির পিছনে যে বিশাল একটা ইন্ডাস্ট্রি, এত মানুষের শ্রম সেগুলো হয়ত মাথায় রাখি না। অর্থাৎ আমাদের যাপনের খুব ছোট ছোট অংশগুলো, যা নিয়ে আমরা প্রতিদিন বাঁচি, সেগুলোর আবহ যখন কথা বলে ওঠে কিংবা বিশাল কর্মকাণ্ডের খুব কাছে যখন উপস্থিত হই, তখন আমাদের যে চিন্তাভাবনা হয় তা-ই এই থিমের মধ্যে নিয়ে আসা। আমি এই পুরো প্রসেস না নির্মাণটাকেই ধরতে চাইছি। ‘হয়ে ওঠা’র বিপুল ভাণ্ডার আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখে। টালাপার্ক প্রত্যয়ের এবারের থিম ‘অতল অনন্ত’ এই হয়ে হয়ে ওঠা বা নির্মাণ পদ্ধতির সাক্ষী।
এবছরের পুজোর প্রস্তুতি
গতবছরের পুজো- টালাপার্ক প্রত্যয়
ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক নিচে অতল ভূগর্ভের এক অজানা জগত। যেন কোনো রহস্যে ঘেরা। সেখানে অনেক জানা অজানা স্তর। আলো অন্ধকারের ঘেরাটোপ। সেই অন্য ভুবনে চলে বিচিত্র কর্মযজ্ঞ, অবিরত। যার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে ভূপৃষ্ঠে, যার অস্তিত্বে নির্ভর করে মহাপৃথিবী, মহাকাশ। সেই অতলস্পর্শী জগত এক আশ্চর্য শক্তির উৎস। জীবনের প্রেরণা। পাতালেও আছে এক অন্য মর্ত্য। হয়ত এক অন্য স্বর্গও। এই অতল অনন্ত রহস্যের সন্ধানে এবার আমাদের টালাপার্ক প্রত্যয়। জাগতিক বিশ্ব থেকে মহাজাগতিক বিশ্বের সন্ধান।
আরও পড়ুন
‘অগ্নিশুদ্ধি’ : কলকাতার পুজো-শিল্প ২
গতবছর টালাপার্ক প্রত্যয়ের বিষয় ছিল ‘মন’। মনেরও একরকম অতল ব্যাপার আছে। আমরা কেউ তার ভিতর ঢুকতে পারি না, কেউ চেষ্টা করি গভীর দিগন্তকে ছোঁয়ার। এই অতল শব্দটার মধ্যে একপ্রকার খোলা মাঠের হাওয়া আছে। কোনো সংকীর্ণতা নেই সেখানে। ভিতরের কোনো এক অন্ধকার থেকে উৎসারিত হচ্ছে আলো। সেই আলোর অভিমুখ ভিন্ন। আমরা তার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করি। আর সেই যাওয়া আসার পথ ধরেই আমাদের বিষয় ভাবনা। যাঁদের জন্য এই কাজ, সেই দর্শকরাও হয়ত নিজেদের খুঁজে নেবেন। ভূগর্ভ থেকে উঠে আসবে স্মৃতি। অতলস্পর্শী জগতে আমরা সবাই একসঙ্গে পাড়ি দেব আশ্চর্য এক শক্তির উৎস সন্ধানে। এই পথের বন্ধুরা হলেন, প্রতিমায় সুব্রত মৃধা, আবহে শুভদীপ গুহ, আলোয় সুমন মাইতি।
এবছরের পুজোর প্রস্তুতি
