
ঘুঘু পাখির বাচ্চাদের বাঁচাতে বাড়ি নির্মাণের কাজ বন্ধ করা হল সিউড়িতে
বীরভূম জেলার সিউড়িতে একটি বহুতল নির্মাণের কাজ চলছে। দায়িত্বে আছেন সেখানকার এক প্রোমোটার। হঠাৎই নজরে এল একটি ঘুঘু পাখির বাসা। দুটি ডিম পেড়ে তাতে তা দিচ্ছে মা ঘুঘু। ব্যাস, সব কাজ ওখানেই থেমে গেল। আর মা ঘুঘু তার সন্তানদের নিয়ে দিব্যি রইল। ঘটনাটা অনেকটা রূপকথার মতো শোনাচ্ছে না? আসলে গল্পের পাতা থেকে কিছু কিছু ঘটনা এখনও বাস্তবে উঠে আসে। আর মানুষ আরও একবার প্রমাণ করেন তাঁর মনুষ্যত্ব।
সিউড়ি লালকুঠি পাড়ার তিনতলা বাড়ি সমেত একটি বসতবাড়ি কেনে গার্ডেনরিচের এক বেসরকারি প্রোমোটার সংস্থা। বনদফতরের অনুমতি নিয়ে বাড়িটিতে থাকা কয়েকটি বেশ জরাজীর্ণ গাছও কাটা হয়। গত সোমবার ভূমি পুজোর আয়োজন করা হয়। জবা গাছের ঝোঁপ থেকে তখনই কঁকিয়ে ডেকে ওঠে এক ঘুঘু। ঘুঘুটিও হয়তো সেখানকার বহুদিনের বাসিন্দা। সংস্থার এক কর্মী রামকৃষ্ণ বসু সবকিছু খোঁজখবর নেওয়ার পর ঠিক করেন ঘুঘুর বাসা ভাঙা হবে না। গাছও কাটা হবে না। যতদিন ডিম ফুটে ছানা না বের হবে, ততদিন বন্ধ থাকবে বাড়ি নির্মাণের কাজ।
ওই বেসরকারি প্রোমোটার সংস্থার ডিরেক্টর স্নিগ্ধা ঘোষ জানিয়েছেন, “আমরা বাসা গড়ি। তাই সবার বাসাকেই সমান শ্রদ্ধা করা উচিত। পাখির বাসা বাঁচাতে এমন সিদ্ধান্ত সমাজের সর্বত্র উদাহরণ হওয়া উচিত।”
আজ পলিউশন কন্ট্রোল ডে। কাজের ব্যস্ততায় অনেকেই হয়তো ভুলে যান এইসব গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলির কথা। গাছ কাটা এবং পাখিদের বাসা ভাঙার গল্প নতুন নয়। এতকিছুর পরেও সবুজ এবং পশু-পাখি রক্ষার দায় যে মনুষ্যসমাজের উপর পড়ে, তা অস্বীকার করার উপায় আছে কি! এমন বহু বহু উদাহরণ নজরে আসুক, দৃষ্টান্ত হোক। কথায় আছে, ভিটেয় ঘুঘু চড়াবো। এক্ষেত্রে তা হল না। মা ঘুঘুর কঁকিয়ে ওঠা কান্না শুনতে পাওয়া এইসব মানুষদের স্যালুট।

