
গোয়ার ৫২তম এই চলচ্চিত্র উৎসবে ভারতীয় প্যানোরমায় মনোনীত হয়েছে পাঁচটি বাংলা ছবি
গাঢ় কণ্ঠস্বরে কলকাতা শহরের কোনো এক প্রান্ত থেকে ভেসে আসছে ‘গ্রো ওল্ড অ্যালং উইথ মি, দ্য বেস্ট ইজ ইয়েট টু বি’। বলছেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। যিনি বাঙালির অহংকার। অহংকার করার মতো মানুষের সংখ্যা নিতান্তই কমে আসছে৷ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজীবনী ভিত্তিক ছবি ‘অভিযান’ এবার মনোনীত হল ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ ইন্ডিয়া (ইফি– গোয়া)-র ইন্ডিয়ান প্যানোরমা বিভাগে।
এই প্রথমবার সৌমিত্রের সুবিস্তৃত জীবনের নানান ঘটনা পরম্পরা সিনেপর্দায় উঠে এসেছে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে। এবছর ১৯ জানুয়ারি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিনে ‘অভিযান’-এর টিজার প্রকাশিত হয়েছিল। মার্চ মাসে প্রকাশিত হয়েছিল ছবির ট্রেলার। যা দেখে সকল সৌমিত্র অনুরাগীদের বেশ মনখারাপ হয়েছিল। কারণ এই শেষ। আর নতুন করে বড়োপর্দায় দেখতে পাওয়া যাবে না তাঁকে। জীবনের শেষ কাজটি অর্পণ করে গেলেন তরুণ প্রজন্মকে। তিনি শুধুমাত্র অভিনেতা নন, তিনি কবি, তিনি নাট্যকার, এমনকি একজন পলিটিক্যাল অ্যাক্টিভিস্টও বটে। এই সবকিছুই জায়গা করে নেবে অভিযান চলচ্চিত্রে। চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।
যুবক সৌমিত্রের ভূমিকায় দেখা যাবে যিশু সেনগুপ্তকে। শিশির কুমার ভাদুড়ির কাছে অভিনয় শিখতে যাওয়া থেকে সত্যজিতের অপু হওয়া। টিজারে বাঙালি ফিরে পেয়েছিল প্রিয় কিছু দৃশ্যের কোলাজ। যেমন— ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’র ছয়জনের গোল করে বসে আড্ডা থেকে ‘চারুলতা’র দোলনার সামনে শুয়ে থাকা। কিংবা ‘অপুর সংসারে’ অপর্ণা লুকিয়ে দেশলাই বাক্সে লিখে দিয়েছে, “খাওয়ার পর একটা করে, কথা দিয়েছ।” আবার সবকিছু নতুন করে খুঁজে পাওয়া যাবে এই বর্ণময় অধ্যায়ে।
ছবিতে অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন কিউ, রুদ্রনীল ঘোষ, সোহিনী সেনগুপ্ত, বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায় আরও অসংখ্য শিল্পী। একটি সাক্ষাৎকারে পরমব্রত বলেছিলেন ‘অভিযান’ নামটি বেছে নেওয়ার কারণ। বলেছেন, “অভিযান ছবিটি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবি, কিন্তু আন্ডাররেটেড। এই ছবিটা নিয়ে অনেক কম কথা হয়। উনি নিজেও বিশ্বাস করতেন এটাই। দ্বিতীয়ত, এই ছবিটার মধ্যে দিয়ে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনের অভিযানকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। সেখানে কাজ আছে, অ্যাডভেঞ্চার আছে, ব্যক্তিগত জীবন আছে। যাত্রাটা খুবই উত্তেজনাময়। সেই কারণেই ছবির নাম অভিযান।”
ইফি গোয়া ভারতের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং বড়ো আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র উৎসব। সেখানে ইন্ডিয়ান প্যানোরমায় দেখানো হবে এই বাংলা ছবি। উচ্ছ্বসিত অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ট্যুইট করে ছবির কলাকুশলী এবং সমস্ত সদস্যদের ধন্যবাদ ও ভালোবাসা জানিয়েছেন।
ইতিমধ্যেই গোয়া জুড়ে সাজোসাজো রব, শুরু হচ্ছে ৫২তম ইন্ডিয়ান ইন্টারন্যাশন্যাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। ভারতের নানান প্রান্ত, নানান ভাষার ছবি জায়গা করে নেয় এই বিভাগে। উৎসব শুরু হবে আগামী ২০ নভেম্বর। প্রসঙ্গত, এই বছর ইন্ডিয়ান প্যানোরমা বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে মোট পাঁচটি বাংলা ছবি। ‘অভিযান’ ছাড়াও আরও চারটি বাংলা ছবি মনোনীত হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে, ব্রাত্য বসুর ‘ডিকশনারি’, সত্রাবিত পালের ‘নিতান্তই সহজ সরল’, অভিনন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মানিকবাবুর মেঘ’ এবং এসআরএফটিআই-এর শর্মিষ্ঠা মাইতি এবং রাজদীপ পালের ‘কালকক্ষ’ প্রদর্শিত হবে ইফিতে।
