বাড়ির ছাদেই আপেল চাষ! অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন শিলিগুড়ির শিক্ষক

উত্তরবঙ্গের গার্ডেনিং জগতে পুলক জোয়ারদার এক পরিচিত মুখ

ছাদে আপেল গাছ! অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবে তা সম্ভব করে দেখিয়েছেন শিলিগুড়ির বরদাকান্ত বিদ্যাপীঠের বিজ্ঞানের শিক্ষক পুলক জোয়ারদার। শুধু শিক্ষক নন, তিনি একজন প্রকৃত গাছপ্রেমী। বিগত দু’দশক ধরে ছাদ বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ চাষ করে শিলিগুড়ি তথা সমগ্র উত্তরবঙ্গের গার্ডেনিং জগতে তিনি এক পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।

শুধু শিক্ষক নন, তিনি একজন প্রকৃত গাছপ্রেমী। বিগত দুই দশক ধরে ছাদ বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ চাষ করে শিলিগুড়ি তথা সমগ্র উত্তরবঙ্গের গার্ডেনিং জগতে তিনি এক পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।

যদিও তিনি সব গাছই ভালোবাসেন, তবে গোলাপ তাঁর সবচেয়ে প্রিয়। রথখোলায় তাঁর বাড়ির ছাদে রয়েছে নানা প্রজাতির বাহারি গোলাপ গাছ। প্রতি বছর শিলিগুড়ি হরটিকালচার সোসাইটি আয়োজিত পুষ্প প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করে গোলাপ চাষের জন্য তিনি একাধিকবার পুরস্কার পেয়েছেন। গাছের সঙ্গে তাঁর এই নিবিড় সম্পর্ক শুধুমাত্র শখ নয়, এক ধরনের জীবনদর্শন।

চার বছর আগে তিনি ছাদের বাগানে পরীক্ষামূলক আপেল চাষ শুরু করেন। সংগ্রহ করেন দু’ধরনের আপেল গাছের চারা— এইচ সিনএম ৯৯ ও আন্না। এই বছর সেই গাছদুটিতে ফল এসেছে প্রায় আশাতীতভাবে। প্রায় একশোটি আপেল ধরেছে, যার মধ্যে কিছু আপেলের ওজন ২০০ গ্রাম পর্যন্ত। তাঁর কথায়, “এটা আমার জন্য একটা বড়ো সাফল্য। টবে লাগানো গাছ থেকে এমন ফলন কল্পনাও করিনি।” তিনি আরও জানিয়েছেন, এই আপেল বিক্রির জন্য নয়— আত্মীয়-পরিজন, বন্ধু ও সহকর্মীদের মধ্যে আনন্দের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার।

পুলকবাবুর দৈনন্দিন রুটিন অত্যন্ত ব্যস্ততায় ভরা। ভোরে ঘুম থেকে উঠেই চলে যান ছাদে। গাছেদের পরিচর্যা করেন। জল দেন, সার দেন, প্রয়োজনে ছাঁটাই করেন। তারপর সকাল দশটার মধ্যে স্কুলে উপস্থিত হন। নিয়ম মেনে ক্লাস নেন, ছাত্রদের মন দিয়ে পড়ান। বিকেল পাঁচটায় স্কুল থেকে ফিরে কোনোমতে দু’মুঠো মুখে দিয়েই চলে যান তাঁর ছাদবাগানে। সেখানে রাত পর্যন্ত সময় কাটান গাছেদের সঙ্গে।

যেখানে অনেক শিক্ষক প্রাইভেট টিউশনে সময় দেন, তিনি তা করেন না। তাঁর কথায়, “প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এখন গাছ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। বরং নিজের বেতনের বড়ো অংশ আমি খরচ করি ছাদ বাগানের পেছনে।” এইভাবে  পরিচর্যার মাধ্যমে পরম যত্নে তিনি ছাদে গড়ে তুলেছেন এক টুকরো সবুজ স্বর্গ।

চার বছর আগে তিনি ছাদবাগানে পরীক্ষামূলক আপেল চাষ শুরু করেন। সংগ্রহ করেন দু’ধরনের আপেল গাছের চারা— এইচ সিনএম ৯৯ ও আন্না।

আজ অনেকেই তাঁর থেকে ছাদ বাগান করার পরামর্শ নেন। পুলকবাবুও কার্পণ্য না করে পরামর্শ দেন আন্তরিকভাবে। অনেকেই তাঁর দেখানো পথে ছাদ বাগান শুরু করে সফল হয়েছেন। পুলক জোয়ারদার প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছাশক্তি, নিষ্ঠা ও ভালোবাসা থাকলে শহরের মধ্যেও প্রকৃতির স্পর্শ এনে দেওয়া যায়। তাই, ছাদের মধ্যে গড়া তাঁর এই সবুজ রাজ্য শুধু শখের জায়গা নয়, এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা।
 

Developed by DXDasia