
শিলিগুড়ি শ্রীরামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ সোসাইটির এবারের দুর্গোৎসব
আট বছরের এই সারদাকেই দুর্গাপুজোয় কুমারীরূপে পুজো করা হবে এবার১৮৯৮ সালে কাশ্মীর ভ্রমণের সময় স্বামীজি একজন মুসলিম কন্যাকে কুমারী হিসাবে পুজো করেন। শাস্ত্রে ব্রাহ্মণ কন্যাকে কুমারী হিসাবে পুজোর কথা বলা হলেও স্বামীজি সব রীতির ঊর্দ্ধে গিয়ে মুসলমান কন্যাকে পুজো করেন।
ভারতনাট্যমে পারদর্শী আট বছরের সারদা। আবার আবৃত্তি, ছবি আঁকা, সঙ্গীত চর্চা কোনওটাতেই কম নয় সে। যোগ-প্রাণায়াম, বিভিন্ন মন্ত্রোচ্চারণ সবেতেই সবার নজর কাড়ছে সে। আট বছরের এই সারদাকেই দুর্গাপুজোয় কুমারীরূপে পুজো করা হবে এবার। শিলিগুড়ির জ্যোতিনগরের শ্রীরামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ সোসাইটিতে মহাষ্টমীতে সেই কুমারী পুজো ঘিরে এখন থেকেই ব্যস্ততা শুরু হয়েছে।

বাবা মায়ের সঙ্গে ছোট্ট সারদা
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে বেলুড় মঠের সমস্ত নিয়ম মেনে দুর্গাপুজো হয় শিলিগুড়ি শ্রীরামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ সোসাইটিতে। এবার সেখানে রবিবার মহাষ্টমীতে সকাল ন’টা থেকে কুমারী পুজো। মালদা রামকৃষ্ণ মিশন থেকে একদল পুরোহিত এবারও সেখানে এসে পুজো করবেন। সোসাইটির সম্পাদক কমল মজুমদার এবং কোষাধ্যক্ষ শ্যামল সরকার জানিয়েছেন, তাঁরা এবার পুজোতে জলের অপচয় বন্ধের প্রচার চালাবেন। তার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার জন্য প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ বর্জনের আবেদনও করবেন সকলের কাছে। তবে এই পুজোয় প্রধান আকর্ষণ কুমারী পুজো। কারণ এই মেয়েটিই কুমারী হয়ে তা প্রচার করবে সকলের সামনে। এইভাবে জল অপচয় এবং প্লাস্টিক ব্যবহার সম্বন্ধে মানুষ যাতে সচেতন হতে পারে, তারই ব্যবস্থা করবে পুজো কর্তৃপক্ষ।
আট বছরের যে মেয়েকে কুমারী হিসাবে চিহ্নিত করে পুজো হয়, শাস্ত্র অনুযায়ী তার নাম কুষ্ঠিকা। তবে স্বামী বিবেকানন্দকে ঘিরে এই কুমারী পুজো নিয়ে কিছু ইতিহাস রয়েছে। ১৮৯৮ সালে কাশ্মীর ভ্রমণের সময় স্বামীজি একজন মুসলিম কন্যাকে কুমারী হিসাবে পুজো করেন। শাস্ত্রে ব্রাহ্মণ কন্যাকে কুমারী হিসাবে পুজোর কথা বলা হলেও স্বামীজি সব রীতির ঊর্দ্ধে গিয়ে মুসলমান কন্যাকে পুজো করেন। এরপর ১৯০১ সালে বেলুড় মঠের কুমারী পুজোয় নয় জনকে কুমারী হিসাবে পুজো করা হয়। স্বামীজির ব্যাখ্যা অনুযায়ী সব কুমারীই দেবীর এক একটি রূপ। নারীশক্তি হল মাতৃশক্তি। সেই শক্তিকে শ্রদ্ধা জানাতেই তাঁদের এই কুমারী পুজোর আয়োজন বলে শিলিগুড়ির ওই রামকৃষ্ণ সোসাইটির কর্মকর্তারা জানান।
তবে এবার যাকে কুমারী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে সেই আট বছরের বালিকা সারদা চৌধুরীর বাড়ি শিলিগুড়ির রামকৃষ্ণ নগরে। তার বাবা পার্থ চৌধুরী ব্রাহ্মণ পুরোহিত আর মা সাধনা চৌধুরী গৃহবধূ। তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী সারদা। সারদার বাবা পার্থবাবু জানান, অত্যন্ত নিয়মশৃঙ্খলা অনুশাসনের মধ্যে বড়ো হচ্ছে সারদা। শুক্রবার এবং শনিবার সামান্য কিছু কার্টুন দেখার সময় ছাড়া বাকি দিনে আর টিভি দেখে না। সকাল বা সন্ধ্যায় সে নিয়ম করে প্রাণায়াম করে। পরিবারের মধ্যে একটা সৎ ও ভক্তি ভাব লক্ষ্য করে এই বালিকাকে কুমারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন রামকৃষ্ণ সোসাইটি কর্তৃপক্ষ। এত কিছু নিয়মশৃঙ্খলা এবং নাচ-গান-আবৃত্তি-ছবি আঁকার কাজ করেও কীভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যায় সারদা, সেটাই সবচেয়ে বড়ো প্রশ্ন। কিন্তু কোনো কাজই সে জোর করে বা বাবা-মায়ের নির্দেশে করছে না, নিজের ইচ্ছা এবং ভালোবাসা থেকেই সারদার এতকিছু। প্রতিদিন সে নিজের স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।
