
২০২৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এটি প্রকাশিত হতে পারে
সময়ের সঙ্গে পা মেলাতে রবীন্দ্রকোষ বিচিত্রা (http://bichitra.jdvu.ac.in/) এবং উত্তর ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সংগীতের বিশাল বৈদ্যুতিন আকর প্রকাশের পর, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব কালচারাল টেক্সটস অ্যান্ড রেকর্ডস (এসসিটিআর) আরও একটি বৃহৎ, সুদূরপ্রসারী প্রকল্প শুরু করেছিল। ২০১৯-এ বাংলা ভাষার প্রথম বৈদ্যুতিন ঐতিহাসিক অভিধান, শব্দকল্প-র কাজ শুরু করে তারা। ভারতীয় কোনো ভাষায় এমন উদ্যোগ অভিনব। বেশ কয়েক বছর ধরে, ধাপে ধাপে চলছে তার নির্মাণ কাজ। কাজটি দীর্ঘমেয়াদি হয়ে ওঠার মূল কারণ অর্থাভাব। তবে এবার এসসিটিআর-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিছু সহৃদয় ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সহায়তায় এতদিনে সেই সমস্যার সঙ্গে খানিক যুঝে ওঠা গেছে, এমনকী প্রকল্পটি শেষ হওয়ার সম্ভাব্য একটা তারিখও ঠিক হয়েছে।
শুধুমাত্র শব্দের অর্থ নয়; একটি শব্দ কবে প্রথম ব্যবহৃত হয়েছে, কীভাবে তার বানান, অর্থ, এবং ব্যবহার পরিবর্তিত হয়েছে — এই সব তথ্য বিশ্লেষণ করেই তৈরি হয়, একটি ভাষার ঐতিহাসিক অভিধান।
“শব্দকল্প”-কে কেন বাংলা ভাষার বিবর্তনমূলক বা ঐতিহাসিক অভিধান বলা হচ্ছে? শুধুমাত্র শব্দের অর্থ নয়; একটি শব্দ কবে প্রথম ব্যবহৃত হয়েছে, কীভাবে তার বানান, অর্থ এবং ব্যবহার পরিবর্তিত হয়েছে — এই সব তথ্য বিশ্লেষণ করেই তৈরি হয়, একটি ভাষার ঐতিহাসিক অভিধান। এটি ভাষাচর্চা, সাহিত্য বিশ্লেষণ ও গবেষণার ক্ষেত্রে এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে। এই অভিধান ঘাঁটলে যেকোনো একটি বাংলা শব্দের আভিধানিক অর্থ, তার উৎস ইত্যাদি তো জানা যাবেই, সেই সঙ্গে সেই বিশেষ শব্দটি কোন বাংলা উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, কবিতা, নাটকে কতবার ব্যবহার করা হয়েছে তারও সন্ধান মিলবে। ধরা যাক, ‘নৌকা’ শব্দটি ১৯৩০-১৯৮০ সময়পর্বে ৬,৬০২টি লেখায় মোট ১২,৫৩৫বার ব্যবহার করা হয়েছে, তার বিবরণ তো থাকবেই, পাশাপাশি ১৯৮০-২০০১ সময়পর্বে এই সংখ্যাদুটি যথাক্রমে ২,০০০ এবং ১,২০০। তাহলে কি এই শব্দটির ব্যবহার ক্রমশ হ্রাস পেয়েছে? কেনই বা হ্রাস পেয়েছে? তারই যাবতীয় খোঁজ মিলবে এই অভিধানে।
বহু অধ্যাপক এবং গবেষকদের পরিশ্রমে এই অভিধান নির্মিত হচ্ছে। শব্দকল্প প্রকল্পটির নির্দেশক, যাদবপুরের ইমেরিটাস অধ্যাপক সুকান্ত চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘শব্দকল্প’ হবে পাশ্চাত্য জগৎ ও রোমান বর্ণমালার বাইরে অর্থাৎ নন-ল্যাটিন লিপিতে কোনও ভাষার প্রথম বিবর্তনমূলক অভিধান: এবং বিশ্বের যে কোনও ভাষায় প্রথম এমন ‘আজন্ম বৈদ্যুতিন’ (born digital) অভিধান। তবে বলা বাহুল্য, কম্পিউটারের ফসল মাঠ থেকে ঘরে তুলতে পারে একমাত্র বিদগ্ধ মানুষের বিশ্লেষণ শক্তি। তাই ‘শব্দকল্প’ মানুষ আর কম্পিউটার, মানবিক মেধা ও যন্ত্রশক্তির যুগলবন্দি।
২০১৭-১৮ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প বছরখানেক আগে অবধি অর্থাভাবের সঙ্গে যুঝেছে। তবে, বেশ কিছুদিন হলো যাদবপুরের প্রাক্তনীদের অর্থানুকুল্যে কাজটা দ্রুততার সঙ্গে এগোচ্ছে।
২০১৭-১৮ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প বছরখানেক আগে অবধি অর্থাভাবের সঙ্গে যুঝেছে। তবে, বেশ কিছুদিন হলো যাদবপুরের প্রাক্তনীদের অর্থানুকুল্যে কাজটা দ্রুততার সঙ্গে এগোচ্ছে। এই উদ্যোগে ‘গ্লোবাল যাদবপুর ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ফাউন্ডেশন’ বা GJUAF-এর ভূমিকা অনেক বড়ো। এছাড়াও, আগামী তিন বছরের জন্য শব্দকল্পের প্রসারে খানিকটা অনুদান দিতে এগিয়ে এসেছেন বিশ্বেশ্বর চট্টোপাধ্যায় ট্রাস্ট-এর দুই ট্রাস্টি রুদ্র চট্টোপাধ্যায় এবং মিতাক্ষরা কুমারী। তবে আরও সহায়তার প্রয়োজন আছে বলে জানাচ্ছেন অধ্যাপক চৌধুরী। তাঁর কথায়, কিছু সহৃদয়-বিচক্ষণ মানুষের দীর্ঘমেয়াদি সমর্থনের আশ্বাসে তাঁরা এতদিনে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার আশা করতে পারছেন। সব ঠিকঠাক এগোলে ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৮। ২১ ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য বাঙালি পাঠককে বোঝাতে হবে না। আর ২০২৮, কারণ তার ঠিক একশো বছর আগে প্রকাশ হয়েছিল অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারি-র শেষ খণ্ডটি।
