খরচ বাঁচাতে হাতে লেখা পুজোসংখ্যা : ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সমুদ্রগড়ে

৫০ কপির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে জোর কদমে চলছে শেষবেলার কাজ

থায় বলে মনের জোরই হল জীবনযুদ্ধের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র। না হলে এই ডিজিটাল-সর্বস্ব বাজারে কেই বা চাইবে হাতে লিখে খান পঞ্চাশেক পূজাবার্ষিকী প্রকাশ করতে! অথচ, বিগত তিন বছর ধরে এমন কাণ্ডই ঘটিয়ে চলেছে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী ১-এর সমুদ্রগড়, নসরৎপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সংশক্তি’। ২০২০ সালে শুরু হওয়া এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এবার ৪-এ পা দিল।

বিগত তিন বছরের হাতে লেখা পুজো সংখ্যা

২০২০ সালের আগে অবধি ছাপা পুজোসংখ্যাই প্রকাশ করতো সংশক্তি। বাধ সাধে করোনা। করোনাকালে লকডাউনের সময় খরচ বাঁচাতে এই অভিনব চিন্তা তাঁদের মাথায় আসে। প্রথম বছরেই নজির সৃষ্টি করেছিল এই সম্পূর্ণ হাতে লেখা, আঁকা ও তৈরি করা পূজাবার্ষিকী। আকালেও স্বপ্ন দেখেছিলেন একঝাঁক তরুণ-তরুণী। প্রচ্ছদ থেকে শেষ পাতা অবধি রঙ-বেরঙের পাতায় ছোটো গল্প, ছড়া, কবিতা, প্রবন্ধ ছাড়াও ছিল হাতের কাজের নানা কারিকুরি, তুলির টান।  পরতে পরতে যেন বিস্ময়! বিগত বছরগুলোয় ৫০/৫১ পাতার হাতে লেখা এই পত্রিকার প্রায় ৩০ কপি প্রকাশ করা হয়েছিল। 

এলাকার কয়েকজন শিক্ষক ছাড়া সংশক্তি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন, স্কুল পড়ুয়া, কলেজ পড়ুয়া, গৃহবধূরা। পত্রিকা প্রকাশ ছাড়াও সারা বছর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কর্মসূচি আয়োজন করেন তাঁরা। তবে, সংশক্তি’র সকল সদস্যই একবাক্যে এ কথা মেনে নেন যে, ২০২০-তে এক ধরনের বাধ্যবাধকতা থেকে এই হাতে লেখা পত্রিকার ধারণা পেয়ে শাপে বর হয়েছে তাঁদের। এই উদ্যোগ সকলের মধ্যে সংস্কৃতি-সাহিত্য চেতনা বাড়িয়েছে। এলাকার যে সব তরুণ-তরুণীরা নিজেদের সুপ্ত প্রতিভা কখনও প্রকাশ করার সুযোগ পাননি, আজ তাঁদের জন্যই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সংশক্তির এই শারদীয় সংখ্যা। যে কারণে ২০২০-র পরবর্তীতে আর ছাপায় ফিরতে চাইছে না এই সংগঠন।  

 

সংশক্তির হাতে লেখা শারদীয়া পত্রিকায় এবার যাঁদের লেখা বেরচ্ছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, মিথুন ঘোষ (ওসি নাদন ঘাট থানা), পুষ্পেন চ্যাটার্জি (প্রাক্তন বিডিও পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লক), দেবাশীষ নাগ (প্রাক্তন চেয়ারম্যান বর্ধমান ডিপিএসসি), সদ্যপ্রয়াত বিশিষ্ট যাত্রা শিল্পী মানিক ভৌমিক, গাছ মাস্টার নামে বিখ্যাত অরূপ চৌধুরী, আজিজ মল্লিক (প্রধান শিক্ষক পারুলডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়), সিরাজুল ইসলাম (সাহিত্যিক শিক্ষক শিক্ষাবিদ), কমল কৃষ্ণ মোদক (বিশিষ্ট ইংরেজি শিক্ষক), শ্রুতি সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায় (লেখক), মীনাক্ষী দাস,জয়াশীষ ঘোষ, এছাড়াও মাননীয় মন্ত্রী মহাশয় স্বপন দেবনাথ এই পত্রিকায় শুভেচ্ছা বার্তা লেখেন বলে জানিয়েছেন সংশক্তি’র বর্তমান সম্পাদক। 

“শুধুমাত্র রায়না-র প্রায় শতবর্ষ পুরোনো  ‘প্রভাতী’ সাহিত্য পত্রিকা ছাড়া শুধু বাংলা ভাষা কেন, কোনও ভাষাতেই হাতে লেখা পত্রিকার সন্ধান আমরা ২০২০ সালে পাইনি। সকলে সংগ্রহ করতে পারবে, এরকম ভাবেই আমাদের পত্রিকাটা তৈরি করি। লেখার কাজটা মূলত পড়ুয়া এবং গৃহবধূরা মিলেই করেন। গত তিন বছর পত্রিকার প্রচ্ছদ করছিলেন সুদীপ মণ্ডল নামে আইটি পড়ুয়া। এ বছর পত্রিকার প্রচ্ছদ করছেন একজন গৃহবধূ, যিনি ছোটোবেলায় ছবি আঁকায় প্রশিক্ষণ নিয়েও বিয়ের পর বা আগে তা নিয়ে চর্চার সুযোগ পাননি। মহালয়ার দিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা প্রচ্ছদটি প্রকাশ করবো। সব থেকে বড়ো কথা বিনা পারিশ্রমিকে উদ্দীপনা নিয়ে ও মনোযোগ সহকারে প্রত্যেকে কাজ করেন। আমরা চেষ্টা করছি, সংশক্তি’র রেজিস্ট্রেশনের জন্য, দুঃখের বিষয় বিভিন্ন ঝামেলায় এই দরকারি কাজটা এখনো করা হয়ে ওঠেনি।” বঙ্গদর্শন.কম-কে জানান স্কুল শিক্ষক, পত্রিকার বর্তমান সম্পাদক উজ্জ্বল ভৌমিক।

Developed by DXDasia