
সত্যজিৎ রায়ের পর সঞ্চারিই দ্বিতীয় বাঙালি, যাঁর সঙ্গে জড়িয়ে গেল ‘অস্কার’ জয়
সঞ্চারী দাস মল্লিক এই মুহূর্তে ব্যস্ত তো বটেই, শুভেচ্ছার সপ্তম স্বর্গে আছেন তিনি। তাঁর দেশে, শহরে উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন তিনিই। কেন? কারণ, সঞ্চারী সম্পাদিত তথ্যচিত্র ‘দ্য এলিফ্যান্ট হুইস্পারার্স’ গত ১৪ মার্চ অস্কারের মঞ্চে জিতে নিয়েছে সেরার শিরোপা। সেরা স্বল্পদৈর্ঘের তথ্যচিত্র হিসেবে অস্কার পেয়েছে ছবিটি। চলচ্চিত্র-সম্পাদক হিসেবে নেপথ্যে থাকলেও তাঁর কাজগুলি মুগ্ধ করে দর্শকদের, তা সে কোনও বিজ্ঞাপন হোক বা সিনেমা। ভালো সিনেমার ক্ষেত্রে একজন দক্ষ সম্পাদকের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। সঞ্চারী নিজে এবং তাঁর পুরো টিমই সেটা উপলব্ধি করেন। কলকাতার গলফগ্রিনে থাকেন তাঁর বাবা-মা। সারা দেশ, আপামর বঙ্গবাসীর সঙ্গে খুশি এবং গর্বিত তাঁর বাবা-মাও। আর কেনই বা হবেন না! সত্যজিৎ রায়ের পর সঞ্চারিই দ্বিতীয় বাঙালি, যাঁর সঙ্গে জড়িয়ে গেল ‘অস্কার’ জয়।
“অস্কার জেতা অনেক বড়ো ব্যাপার, আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি যে সঞ্চারী সম্পাদিত এই ছবিটি অস্কার পাবে। ছবিটির মনোনয়ন পাওয়াই আমাদের কাছে আনন্দের বিষয় ছিল।” বলেন সঞ্চারীর বাবা-মা। এই তথ্যচিত্রের কাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে। তখন সঞ্চারীর সঙ্গেই ছিলেন তাঁর মা শুভা দাস মল্লিক। সোমবার যখন মেয়ের অস্কার প্রাপ্তির কথা প্রথম শুনলেন, বিশ্বাসই করতে পারেননি। শুভা দাস মল্লিক একজন অধ্যাপক। সেন্ট জেভিয়ার্স ইনস্টিটিউটে তিনি মাস কমিউনিকেশন পড়িয়েছিলেন ১৯৯৯ এবং ২০০০ সালের ব্যাচের ছাত্রছাত্রীকে। বাড়িতে কেবল টিভি নেই, তাই ৯৫তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড দেখেছেন সামাজিক মাধ্যমে। দিল্লি থেকে ফোনে এক ছাত্র যখন শুভা দাস মল্লিককে খবরটা জানান, তাঁর বিস্ময় ছিল ঠিক শুনছি তো!

তারপর ছাত্রটি যখন তাঁকে বলেন, তিনি অস্কার অনুষ্ঠানটি সরাসরি টিভিতে দেখেই বলছেন, তখন বিশ্বাস করেন শুভা। মা হিসাবে মেয়ের সাফল্যে তিনি খুশি, কিন্তু মন খারাপ করেছে শৌনক সেনের তৈরি ‘অল দ্যাট ব্রিদস্’ তথ্যচিত্রের অপ্রাপ্তি। শুভা দাস মল্লিক নিজে একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা। এমনকি তাঁর বাবা মনোজেন্দু মজুমদারও চলচ্চিত্র চর্চায় সক্রিয় ছিলেন। ১৯৪৭ সালের অক্টোবরে সত্যজিৎ রায় যে চার জন বন্ধুকে নিয়ে ‘ক্যালকাটা ফিল্ম সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, মনোজেন্দু মজুমদার ছিলেন তাঁদের এক জন।
পারিবারিক চলচ্চিত্রপ্রীতিই কি তবে সঞ্চারীর এই পেশা বেছে নেওয়ার নেপথ্যে রয়েছে? সংবাদমাধ্যমে শুভা দাস মল্লিক জানিয়েছেন, যে হ্যাঁ পারিবারিক প্রভাব আছে তাঁর কাজে, তাঁর ভাবনায়। ছোটো থেকেই সিনেমা দেখার অভ্যেস গড়ে তুলেছিলেন সঞ্চারী। এমনও দিন গিয়েছে ‘হীরক রাজার দেশে’ না দেখে সঞ্চারী খেতে বসেননি।

প্রসঙ্গত, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে একটি ছবি তৈরি করেছিলেন শুভা দাস মল্লিক। ছবির নাম ‘ক্রসউইন্ডস ওভার ইছামতী’। ২০১২ সালে এই ছবি মুম্বই আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও দেখানো হয়। এই ছবির সম্পাদনা করেছেন সঞ্চারী নিজে। এরপর ২০১৬ সালে মায়ের আর একটি ছবি ‘ক্যালকাটা সোনাটা’, পিয়ানোর উপর নির্মিত এই ছবির সম্পাদনাও হয়েছে সঞ্চারীর হাতেই। আগামীতে আরও একটি ছবি নিয়ে কাজ করার কথা ভাবছেন শুভা দাস মল্লিক। মিউজিক রেকর্ডের ইতিহাস সংরক্ষণ করার ভাবনা নিয়ে যে ছবি তিনি করবেন, তার সম্পাদনাও করবেন সঞ্চারী দাস মল্লিক।
দেখে নিন ‘দ্য এলিফ্যান্ট হুইস্পারার্স’ -এর ট্রেলারঃ
