ভারত-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মিলনের প্রতীক

বাংলাদেশ থেকে উত্তরপ্রদেশের শহর আগ্রার দূরত্ব অনেকটাই। তাছাড়া, দু’টো আলাদা দেশ, মাঝখানে রয়েছে সীমান্ত, কাঁটাতার। তাজমহল দেখতে পাসপোর্ট, ভিসা করিয়ে বাংলাদেশ থেকে আগ্রা যাওয়া অনেক ঝক্কি। এরকম পরিস্থিতিতে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর ব্যবস্থা করেছেন বাংলাদেশের শিল্পপতি, চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং পরিচালক আহসানউল্লাহ্ মনি। ঢাকা থেকে ১০ মাইল পুব দিকে সোনারগাঁওয়ের জামপুর ইউনিয়নের পেরাব গ্রামে তিনি বানিয়ে ফেললেন তাজমহলের আদলে এক সৌধ। আগ্রার সেই বিখ্যাত মুঘল স্থাপত্যের এক রেপ্লিকাও বলা যেতে পারে তাকে।

আহসানউল্লাহ্ তাজমহলের প্রেমে পড়েছিলেন ১৯৮০ সালে, যখন তিনি গিয়েছিলেন আগ্রা দেখতে। তারপর বারবার তিনি গিয়ে তাজমহল দেখেছেন। আহসানউল্লাহ্ চেয়েছিলেন, তাঁর দেশের যে সব গরিব মানুষের ভারতে গিয়ে আসল তাজমহল দেখার সামর্থ্য নেই, তাঁরা যেন নিজের দেশেই তাজমহল দেখার স্বপ্ন খানিকটা মিটিয়ে নিতে পারেন। তবে শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, তার বাইরে অন্যান্য দেশের ভ্রমণার্থীরাও এই নকল তাজমহল দেখতে যাবেন, সেটাও ছিল তাঁর ইচ্ছে।

বাংলাদেশের নকল তাজমহল 

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার উঠে এসেছে সোনারগাঁওয়ের নাম। এখানেই ২০০৩ সালে তাজমহলের রেপ্লিকা বানানোর কাজ শুরু হয়। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে বেশ ঘটা করে তার উদ্বোধন করা হয়। এই স্থাপত্য পরিচিত হয়ে ওঠে বাংলাদেশের তাজমহল নামে। আসল তাজমহলের মতোই এটির চার কোণে রয়েছে চারটে মিনার। মাঝখানের মূল ভবনটি টাইলস করা আর দারুণ সব পাথর দিয়ে মোড়ানো। এই ভবনে আহসানউল্লাহ্ এবং তাঁর স্ত্রী রাজিয়ার জন্য কবরের স্থান সংরক্ষিত আছে। সামনের ১০টা চমৎকার ফোয়ারা মুগ্ধ করে দর্শকদের। চারদিকে ফুলের বাগান, দু’পাশে ভ্রমণার্থীদের জন্য বসার জায়গাগুলিও বেশ মনোরম।

এখানে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রাজমনি ফিল্ম সিটি রেস্তোরাঁ। পিকনিকের জন্য খুব উপযুক্ত জায়গা। এছাড়া রাজমনি ফিল্ম সিটি স্টুডিওতে যে কোনো দর্শনার্থী ইচ্ছে করলে ছবি তুলতে পারেন। ‘বাংলার তাজমহল’কে ঘিরে বাইরে গড়ে উঠেছে মাটির গয়না, নানা রকমের হস্তশিল্প, জামদানি শাড়ি এবং আরও অনেক জিনিসপত্রের দোকান। কাছেই রয়েছে মিশরের পিরামিডের আদলে বানানো রেপ্লিকা। আছে শুটিং স্পট এবং সিনেমা হল। তাজমহলের অনুকরণে এই স্থাপত্য নির্মাণকে ভারত সরকার খুব একটা ভালোভাবে নেয়নি। বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস থেকে আহসানউল্লাহ্-র বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তবে সে সব মিটেও গেছে। বরং ভারত-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মিলনের প্রতীক হয়ে বাংলার তাজমহল এখনও পর্যটকদের মনোরঞ্জন করে চলেছে।

তথ্যঋণ – সোহানা মোর্শেদ, রাশেদুল আলম। 
 

Developed by DXDasia