ছুটির পাতে মিষ্টিমুখ আনারসের সাথে

আজ রোববার, কাল ঈদ, হোক না মিষ্টিমুখ

আজ থেকে প্রায় ৮০০-৯০০ বছর আগে ‘কিতাব-আল-তাবিখ’ একটি আরবি পুঁথিতে প্রথম আত্মপ্রকাশ করেছিল হালুয়ার রেসিপি। হালুয়ার জন্ম অবশ্য তার ঢের আগে। ঘটনাচক্রে, নানা লোভনীয় আরবি পদ নিয়ে লেখা ওই গ্রন্থ যখন লেখা হচ্ছে, তারই সামান্য আগে-পরে বাংলা ভূখণ্ড পরিচিত হতে শুরু করেছে ইসলামি খাদ্য-সম্ভারের সঙ্গেও। নতুন নতুন পদের নাম, স্বাদের স্পর্শ জাঁকিয়ে বসছে বাংলায়। তারপর, সেইসব ধীরে ধীরে ঢুকেও পড়ছে বাঙালির হেঁশেলে। 

এইভাবে ঢুকে পড়ে আপন হয়ে যাওয়া একটি পদই হল ‘হালুয়া’। জন্মসূত্রে সে পশ্চিম এশিয়ার পদ। অবশ্য অনেক খাদ্য-গবেষক দেখিয়েছেন, ইউরোপ-আফ্রিকার নানা দেশেও নাকি হালুয়ার প্রতিপত্তি ছিল। সে যাহোক, হালুয়া এখন কিন্তু বাংলারও পদ। কত মিষ্টির দোকানেই যে এখন গাজরের হালুয়া দেখি আমরা।

আজ অবশ্য গাজর নয়, বলব আনারসের হালুয়ার কথা। এই পদ কিন্তু পশ্চিম এশিয়ায় মিলবে না। হালুয়াকে যে বাঙালিরা আপন করে নিয়েছে, এ তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ। আজ রোববার, কাল ঈদ। পরপর দু-দিন ছুটি। ছুটির দিনে বাড়িতে অতিথি আসুক বা না আসুক, বানিয়ে ফেলুন আনারসের হালুয়া। স্বাদে এই পদের জুড়ি নেই।

উপকরণ :

আনারসের পেস্ট- ১ কাপ
আনারস কুচি- হাফ কাপ
সুজি- ২০০ গ্রাম
চিনি- হাফ কাপ
মিল্কমেইড- ৪ চামচ
গুঁড়ো দুধ- ৪ চামচ
কাজুবাদাম, কাঠবাদাম, কিসমিস- ১০-১২টা
ঘি- ২ টেবিল-চামচ
কেশর – সামান্য দুধে ভেজানো
জল প্রয়োজনমতো 

প্রণালি:

প্রথমে কড়াইয়ে ঘি দিতে হবে, ঘি গরম হলে তাতে সুজি দিয়ে ভালো করে ভেজে তুলে নিতে হবে।  এবার ওই কড়াইতেই আনারসের পেস্টটা দিয়ে দিতে হবে। একে একে চিনি, গুঁড়ো দুধ দিয়ে ভালো করে জ্বাল দিয়ে ওতে সুজিটা ঢেলে দিন। সুজিটা মিশিয়ে তাতে প্রয়োজনমতো জল দিন, জল দিয়ে পুরোটা মিশিয়ে নিন ভালো করে।  কিছু সময় পর বাদাম, কিসমিস গুলো দিয়ে দিন এবং সুজি সিদ্ধ হয়ে এলে মিল্কমেইড দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। নামানোর আগে কেশরটা দিয়ে সবটা ভালো করে মিশিয়ে গ্যাস বন্ধ করে দিন। ব্যাস, আনারসের হালুয়া তৈরি। পরিবেশনের সময় উপর দিয়ে বাদাম, কিসমিস, কেশর দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন আনারসের হালুয়া।  

Developed by DXDasia