সুগার ফ্রি রসগোল্লা : এবার পুজোয় ‘মিষ্টি’ ছাড়াই হোক মিষ্টিমুখ

ডায়াবেটিস রোগী কিংবা স্বাস্থ্যসচেতন তরুণী সকলের পছন্দের হদিশ দিচ্ছে ‘সুগার ফ্রি রসগোল্লা’

ব্লাড সুগারের মাত্রাটা ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় মিষ্টির সঙ্গে সম্পর্ক যাদের দিনদিন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, তাদের জন্য সুখবর। আর লুকিয়ে চুরিয়ে নয়, এবার পুজোয় মিষ্টি খান ডায়েট মেনেই। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি, এবার পুজোয় মিষ্টিমুখ হবে ‘মিষ্টি’হীন ‘মিষ্টি’ দিয়েই।

বাঙালির এই মিষ্টি প্রেমের ইতিহাসটা অনেক লম্বা। ঘরে তৈরি নারকেল নাড়ু কিংবা গুড় চাকতি থেকে শুরু করে আজকের দিনের নানা রকম বাহারি মিষ্টি, সবকিছু চেখে দেখার লোভ বাঙালির অকৃত্রিম। ‘মাছে ভাতে বাঙালি’র শেষ পাতে একটু মিষ্টিমুখ না হলে পেটপুজো ঠিক জমে না। অ্যান্টনি ফিরিঙ্গির সেই বিখ্যাত ভোলা ময়রা থেকে নবীন চন্দ্র দাস – যুগে যুগে এঁদের হাতযশেই বাঙালির আবেগের অপর নাম হয়ে উঠেছে মিষ্টি।

ডায়াবেটিস রোগী কিংবা স্বাস্থ্যসচেতন তরুণী সকলের পছন্দের হদিশ দিচ্ছে সুগার ফ্রি রসগোল্লা। চিনির মতো স্বাদ মাত্র এক চামচ ক্যালডারিনেই।

ঘরোয়া কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানের ক্লাইম্যাক্স যে মিষ্টি, তার লম্বা জার্নিতে বাংলার নানা জায়গার ঐতিহ্য নিজেদের মতো করে রসদ জুগিয়ে এসেছে। তাই সারা বছর ডায়েট মেনে চললেও পুজোর কয়েকদিন মিষ্টি না খেলে বাঙালির রসনার তৃপ্তি হয় না। উৎসবের পরিবেশে সমস্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অনেকেই মিষ্টি খেয়ে ফেলেন। অনেকক্ষেত্রেই হিতে বিপরীত হয় তাতে। তবে, এবার আর চিন্তা নেই। কারণ, এখন থেকে আপনি চাইলে বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারবেন মিষ্টি (Sugar) ছাড়া মিষ্টি (Sweet)।

কয়েক বছর আগেই রীতিমত লড়াই করে ওড়িশার কাছ থেকে যে রসগোল্লাকে ছিনিয়ে এনেছিল বাংলা, অসুখের দোহাই দিয়ে সেই রসগোল্লাকে ভুলে থাকা বাঙালির কাছে সত্যিই দুষ্কর। তাই এবছরের পুজোর মেনুতে ডায়াবেটিস রোগী (Diabetes) কিংবা স্বাস্থ্যসচেতন (Health Conscious) তরুণী সকলের পছন্দের হদিশ দিতে থাকুক সুগার ফ্রি রসগোল্লা (Sugar Free Rasogolla)। রইলো অভিনব সেই রেসিপিও।

সুগার ফ্রি অর্থাৎ মিষ্টি ছাড়া রসগোল্লার উপকরণ –
ছানা (Chhena) এক কাপ, সুজি (Semolina) আধা চা চামচ, ময়দা (Flour) এক চা চামচ, ক্যালডারিন এক চা চামচ, সামান্য এলাচের গুঁড়ো এবং অল্প বেকিং পাউডার (Baking Powder)।

প্রণালী  –
প্রথমেই ছানা থেকে জল ভালো করে ঝরিয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর শুকনো ছানা হাত দিয়ে ভালো করে মিহি করে মাখতে হবে। মাখা হয়ে গেলে তাতে ময়দা, এলাচ গুঁড়ো, সুজি এবং বেকিং পাউডার দিয়ে একসঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিন। তারপর মিশ্রণটি থেকে ছোটো লেচির আকারে কেটে নিয়ে গোল করে রসগোল্লার আকারে পাকিয়ে নিন। অন্যদিকে একটি পাত্রে তিন কাপ পরিমাণ জল গরম করতে বসান। জল ফুটে উঠলে তাতে গোল্লাগুলি জলে দিয়ে জাল দিতে থাকুন। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট মতো জাল দিতে হবে। যদি দেখেন জল কমে এসেছে প্রয়োজনে আবার খানিকটা জল মেশাতে পারেন। ৩৫ মিনিট পর গ্যাসের আঁচ বন্ধ করে গোল্লাগুলি নামিয়ে ক্যালডারিন মেশানো সামান্য জলে রেখে দিন। পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা এভাবে ভিজিয়ে রাখলেই তৈরি হয়ে যাবে অনবদ্য স্বাদের সুগার ফ্রি রসগোল্লা। পুজোর মরশুমে সহজেই জমজমাট রেসিপিতে তাক লাগিয়ে দিন আপনিও।

Developed by DXDasia