পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের সীমান্তে ৫০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত পাহাড়ি একটি গ্রাম

পশ্চিমবঙ্গের মাথার কাছে চার হাজার আশি ফুট উচ্চতায় এক ছোট্ট জনপদ এই পেডং। কালিম্পং থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে। ভুটিয়াতে পেডং-এর মানে এমন এক জায়গা যেখানে ফার গাছ ভর্তি। এখানে এক প্রাচীন গুম্ফা আছে নাম সাংচেন দোরাজি গুম্ফা – যেটি ১৭০৬ সালে তৈরি।

 

সপ্তাহান্তের ভ্রমণের জন্য পেডং একটি সুন্দর জায়গা। ওক, পাইন, বার্চ ও দেওদারের ছায়ামাখা সবুজে ভরা পাহাড়ি গ্রাম হল পেডং। পেডং, পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের সীমান্তে ৫০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত সুন্দর পাহাড়ি গ্রাম। পেডং এর ক্রস হিল থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা, কাব্রু ও পান্ডিম শৃঙ্গ সুন্দর ভাবে দেখা যায়। তিস্তার অপরূপ সৌন্দর্য ও ঢেউ খেলানো চা-বাগানের অপরূপ শোভা পেডং–এর সম্পদ।

আর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য জায়গাগুলো হল : রামি ভিউ পয়েন্ট, সাইলেন্ট ভ্যালি, ভুটানিদের হাতে গড়া সাংচেন দোরাজি গুমফা, ১৮৩৭ সালে গড়া পেডং মনাস্ট্রি, ফরাসিদের তৈরী সেক্রেড হার্ট গির্জা এবং দামসাং ফোর্ট । আছেন ক্রুশবিদ্ধ যিশু, সামনে পাহাড়ের দিকে মুখ করে। খুব সুন্দর আর নির্জন চারিদিকটা, দূরে পাহাড় দেখা যাচ্ছে, তার পরেই তিব্বত। এই পথেই ক্রিষ্টান ধর্মযাজকরা তিব্বতে ধর্মপ্রচার করতে গেছিলেন। এদের মধ্যে অনেকেই আর ফিরে আসেননি। নিরুদ্দেশ সেই সব ধর্মযাজকদের স্মৃতিতে ফাদার অগাস্টিন ডেসগোডিন্স ১৮৮২ সালে এখানে এই ক্রস স্থাপন করেন, যদি তাঁরা ফিরে আসেন – এই আশায়।

কীভাবে যাবেন
এন জে পি থেকে পেডং এর দূরত্ব ১০০ কিমি । এন জে পি চলে আসুন শিয়ালদা বা হাওড়া থেকে । সেখান থেকে শেয়ার জিপ বা বাস বা গাড়ি করে চলে আসুন কালিম্পং। কালিম্পং থাকে পেডং এর দূরত্ব মাত্র ২২ কিমি । কালিম্পং থেকে শেয়ার জিপ বা বাস বা গাড়ি করে চলে আসুন পেডং । এন জে পি থেকেও গাড়ি করে সরাসরি এখানে আসতে পারেন।

কোথায় থাকবেন-
কিছু হোমস্টের ব্যবস্থা আছে। তাদের মধ্যে একটি হল সাঁইলক্ষ্মী হোম-স্টে। ভাড়া জনপ্রতি ৮০০/- প্রতিদিন খাওয়াসহ (বেশি বা কম হতে পারে। নির্ভর করছে কতজন যাচ্ছেন তার ওপর।)

পেডং এর অবস্থান পূর্ব হিমালয়ের শৈলশিরা-তে (ridge)। লেপচা‌, নেপালী এবং ভুটিয়া, এই তিন ধরণের মানুষের বসবাস হলেও, ভাষা নেপালী। তবে, হিন্দি তো বটেই এবং মোটামুটি ইংরিজি-ও প্রায় সবাই বোঝে। দারুণ হাসিখুশি, সরল এই মানুষগুলো-কে দেখলে এমনিতেই বড় ভালো লাগে।

রঙিন ফুল আর সবুজের অশেষ সমারোহ, পাহাড়ের গায়ে টুপ্‌ করে ডুবে-যাওয়া সূর্য, আর মায়াবী কুয়াশা-ঢাকা রাস্তা।  ঘরের সামনের বারান্দায় বসে গরম গরম মোমো খেতে খেতে মুগ্ধ করা প্রকৃতি দর্শন। রাতে অজস্র তারা আঁকিবুঁকি কেটে চলেছে আকাশে। পূর্ণিমার কাছাকাছি সময়ে এখানে আসলে দেখা পাওয়া যায় এক অপূর্ব দৃশ্য। হাওয়ায় হালকা, হলুদ চাঁদের আলো নরম একটা আস্তরণ বিছিয়ে দিচ্ছে চারদিকে আর সামনে পাহাড়ের গায়ে ঝলমল করছে দূরের কোন শহরের আলোকমালা।

 

ট্যুরিস্ট স্পট হিসেবে পেডং এখনও তেমন বিখ্যাত হয়ে ওঠেনি। তাই জায়গাটা এখন-ও যাকে বলে প্রিস্টিন, নিজস্ব আদিম সৌন্দর্যে ভরপুর।

Developed by DXDasia