পাহাড়ে খোদাই করা আছে অজস্র পাখি, সেই থেকেই ‘পাখি পাহাড়’

শিল্পী চিত্ত দে পুরুলিয়ার এই পাহাড়ে ‘ইন-সিটু রক স্কাল্পচার’-এর কাজ করেছেন

পুরুলিয়ার নাম শুনলে আমাদের শিমুল, পলাশের কথাই সবার আগে মাথায় আসবে। রাঢ় বাংলার সরু লাল পথ কিংবা পাহাড়ের ঢালু উপত্যকা আমাদের চোখ জুড়িয়ে দেয়। আর সময়টা যদি শীতকাল হয়, তাহলে তো কথাই নেই। পুরুলিয়ার আর পাঁচটা জায়গার মতো নয়, প্রায় ঢাকাচাপা পড়ে যাওয়া পাখি পাহাড়-এর টানে অনায়াসে বেরিয়ে পড়া যায় দুটো দিন। নাম শুনে মনে হতে পারে অনেক পরিযায়ী পাখির আবাস এই জায়গা। কিন্তু তেমনটি একেবারেই নয়। একটি অনুচ্চ পাহাড়ের গায়ে অসংখ্য উড্ডীয়মান পাখির প্রতিচ্ছবি আঁকা। বেশিরভাগ পর্যটক পাহাড়টি দূর থেকে দেখে ফিরে যান। কিংবা গাড়ি থেকে নেমে দশ মিনিট সামান্য রেস্ট। কিন্তু এর ইতিহাস জানলে রহস্য ক্রমশ দানা বাঁধবে, আপনি পাহাড় ছুঁতে বাধ্য হবেন নিশ্চিত।

বেশ কয়েকবছর ধরে শিল্পী চিত্ত দে এই পাহাড়ে ইন-সিটু রক স্কাল্পচার-এর কাজ করেছেন। সাধারণত ভাস্কর্যশিল্পীরা বাছাই করা পাথর তুলে স্টুডিওতে নিয়ে এসে সেই পাথর কেটে মেলে ধরেন নিজের শিল্পকে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে পাথরটিকে যথাস্থানে রেখেই তাতে খোদাই করা হয়েছে বিভিন্ন আকৃতির পাখি, ঠিক যেমনটা আমরা অজন্তায় দেখতে পাই। ১৯৯৭ সালে সরকারি আর্থিক অনুদানে কাজ শুরু করেন শিল্পী। সরকারি অনুদানের সঙ্গে তাঁকে অনুরোধ করা হয় কয়েকজন ভাস্কর্যশিল্পীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার জন্য। কিন্তু শিল্পী চিত্ত দে স্থানীয় আদিবাসী লোকেদের সঙ্গে কাজ করার উপর জোর দেন। প্রথম চার বছর ধরে প্রায় পঞ্চাশ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করলেও অবশেষে চব্বিশ জনকে নিয়ে দলবদ্ধ ভাবে কাজ শুরু করেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের উপর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় এনামেল রং ব্যবহার করে ছবিগুলো আঁকেন।

সাধারণত ভাস্কর্যশিল্পীরা বাছাই করা পাথর তুলে স্টুডিওতে নিয়ে এসে সেই পাথর কেটে মেলে ধরেন নিজের শিল্পকে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে পাথরটিকে যথাস্থানে রেখেই তাতে খোদাই করা হয়েছে বিভিন্ন আকৃতির পাখি, ঠিক যেমনটা আমরা অজন্তায় দেখতে পাই। ১৯৯৭ সালে সরকারি আর্থিক অনুদানে কাজ শুরু করেন শিল্পী।

রং-এর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে খোদাইয়ের গভীরতার সংকেত। ছেনি-হাতুড়ি সম্বল করে খোদাইয়ের কাজ শুরু করেন। ধীরে ধীরে ৬৫টি ডানামেলা পাখির ভাস্কর্য খোদাই করেন। যার সব চেয়ে ছোটো ডানার দৈর্ঘ্য ৫৫ ফুট আর সব চেয়ে বড়ো ডানার দৈর্ঘ্য ১২০ ফুট। প্রথমে পাহাড়টির নাম ছিল ‘মুরা বুরু’ (উচ্চতা ৮০০ ফুট)। ধীরে ধীরে পাহাড়টি ‘পাখি পাহাড়’ নামে পরিচিতি পায়। চারদিকে ঘন জঙ্গল। শাল সেগুনে ভরা পাহাড়ি লাল রাস্তা। মাঝে মাঝে কাঠ কুড়ুনিদের দেখতে পাওয়া যাবে। দূর গ্রাম থেকে তারা আসেন প্রতিদিন কাঠ সংগ্রহের উদ্দেশে। সপ্তাহান্তে অত্যন্ত অল্প খরচে ঘুরে আসা যায় প্রকৃতির পাথুরে ক্যানভাসে গড়ে ওঠা পুরুলিয়া জেলার এই সুন্দর পাখি পাহাড়ে। পাখিরা আপনাকে আপন করে নেবেই। 

|| কীভাবে যাবেন ||

সাঁতরাগাছি থেকে রূপসী বাংলা অথবা হাওড়া থেকে লালমাটি এক্সপ্রেস, রাঁচি ইন্টারসিটি বা চক্রধরপুর এক্সপ্রেস ধরে চলে যান পুরুলিয়া স্টেশনে। সেখান থেকে একদিনের জন্য গাড়ি ভাড়া করে ঘুরে আসুন পাখি পাহাড়।

Developed by DXDasia