
CPT-র সঙ্গে জুড়ে আছেন খালেদ চৌধুরী, তাপস সেন, উৎপল দত্ত, ভি বালসারার মতো মানুষ
এক দশক আগেও গ্রামীণ মেলায় ম্যাজিক, বায়োস্কোপের পাশাপাশি অন্যতম আকর্ষণ ছিল পুতুল নাচ। এমনকি মাসাধিক কাল ধরে প্যান্ডেল খাটিয়ে সমাদরে প্রদর্শিত হয়েছে মফস্সলে। মঞ্চ ছাড়াও একসময় টেলিভিশনের পর্দায়, ছোটোদের বিনোদনের অন্যতম উপাদান ছিল পাপেট্রি। এখন, এ প্রজন্ম চেনে না বাংলার পাপেট-মায়েস্ত্রো পদ্মশ্রী সুরেশ দত্তকে। কেউ খোঁজ রাখে না ভারতের অন্যতম সম্পদ কলকাতা পাপেট থিয়েটার (CPT)-এর। তবে, অবজ্ঞা সঙ্গে করে এখনও বেঁচে বর্তে আছে পঞ্চাশ পূর্ণ করা প্রতিষ্ঠানটি।
“১৯৭৩-এ জন্ম এই প্রতিষ্ঠানের। CPT-এর একেবারে শুরুর দিন থেকেই আছি। আমাদের গুরু পদ্মশ্রী সুরেশ দত্তর সঙ্গে আমার পরিচয় তার আগেই। তখন অন্য দলে নাটক করতাম। তারপর সুরেশ দত্ত তাঁর দলে যোগ দিতে বললেন, আমিও যুক্ত হয়ে গেলাম। দলটাকে ভালোবেসে ফেললাম এতো, সেই থেকে এখানেই আছি, ছেড়ে যেতে পারিনি। আমরা ক’জন মিলেই দলটা চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।” বলেন দলের সবচেয়ে প্রবীণ নাট্যকর্মী শৈলেন সাহা।

CPT-র বর্তমান প্রেসিডেন্ট পদে সুরেশ দত্তই। ভাইস প্রেসিডেন্ট শিবপ্রসাদ দাস। এছাড়াও যাঁদের ছাড়া CPT কার্যত অক্ষম, যাঁরা এর জীবনীশক্তি, তাঁরা শেখরদা ওরফে অনিল মজুমদার, হরবোলা সুনীল আদক, তপন মজুমদার, প্রবীর সিনহা, সুকুমার সর্দার, রাজু, সিক্তা দত্ত, গণেশ গায়েন, গৌতম হালদার (তাপস সেনের ছাত্র)। বর্তমানে বেশির ভাগ সদস্যই পুরোনো, প্রবীণ। পুতুল নাচের মতোই। সবাই মুখ ফেরালেও, ওঁরা পারেননি। ওঁরা আঁকড়ে আছেন বলেই এখনও শো বা ওয়ার্কশপের ডাক আসে। গত ডিসেম্বরেই চার-পাঁচটা শো করেছে CPT। বনগাঁ, মছলন্দপুর, বিহার ইত্যাদি জায়গায়। এখন জোর কদমে চলছে ‘আলাদিন’-এর মহড়া।
দলের সকলেই মনের জোর আর ইচ্ছেশক্তিতে স্টেজ-সেটআপ সঙ্গে করে হিল্লি-দিল্লি করে বেড়ান। কলকাতা বা ভারতে হেন কোনও জায়গা নেই যেখানে তাঁরা পুতুল নাটক মঞ্চস্থ করতে বাকি রেখেছেন। এছাড়াও পাকিস্তান, জাপান, যুগশ্লোভিয়া, পোল্যান্ড –সারা বিশ্বে ঘুরে বেড়িয়েছে ‘কলকাতা পাপেট থিয়েটার’। পোল্যান্ডে শো করতে যাওয়ার ঘটনাটা বলছিলেন শৈলেনবাবু। “কম করে ২৫ জন দলে না থাকলে আমাদের নাটক হয় না। ইন্দিরা গান্ধি আগেই দেখেছিলেন আলাদিন। দেখে, চিঠি পাঠিয়েছিলেন- তোমরা ভারতের হয়ে ওখানে যাও, ভালো হবে। সুরেশবাবু মেজাজী মানুষ। বলেছিলেন, ২০ জনের কমে আমি ওখানে নাটক দেখাতে যেতে পারবো না। ইন্দিরা গান্ধিকে চিঠি পাঠালেন তাপস সেন। শেষপর্যন্ত ঠিক হল ১৪ জন যাবে। বিভিন্ন দেশের কমপক্ষে ১৭-১৮টা দল সেখানে গিয়েছিল। স্বর্ণপদকটা আমরাই পেয়েছিলাম।”

কলকাতা পাপেট থিয়েটারের বর্তমান সদস্যরা
একেবারে শুরুর বছরগুলোয় সুরেশ দত্ত’র বাড়িতেই রিহার্সাল হত। তারপর ওখান থেকে স্টার-এ। সেই সময়কার মালিক রঞ্জিত মালকাঙ্কারিয়া ওঁকে স্থান দিলেন স্টার-এর ছাদে। সেখানেই ‘রামায়ণ’ তৈরি করেছিলেন। তখন প্রত্যেক রোববার স্টার-এ আলাদিনের মর্নিং শো হত, টিকিট পাওয়া যেত না। “৭৭/৭৮ সাল নাগাদ আমরা এখানে এসছি। ১৯৮০ সালে, এখানে রিহার্সাল করেই আমরা পোল্যান্ড গিয়েছিলাম, মনে আছে।” বলেন শৈলেনবাবু।
দলে নতুন ছেলেমেয়েরা আসে? “একেবারেই আসে না বললে ভুল হবে। অনেকেই আসে, আবার চলে যায়। আসলে হয়েছে কী, এটাকে অনেকেই জেলখানা ভাবে। এখানে তো কেউ দেখতেই পাবে না! মুখ দেখিয়ে পরিচিতি পাওয়ার কোনও সুযোগই নেই এখানে। ভিতরের মানুষটা দেখাবার জন্য এখন আর কেউ প্রস্তুত নয়। অথচ জনসংযোগ তো বটেই শিশুদের মানসিক গঠনে পুতুল নাটকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বেশ কিছু দেশে তো হৈহৈ করে চলছে।”
কলকাতা পাপেট থিয়েটারের ‘আলাদিন’ এপর্যন্ত সবচেয়ে বেশি প্রদর্শিত হয়েছে। প্রায় ৫০০০ রজনী শো হয়ে গেছে সুরেশ দত্তর বিশ্বখ্যাত এই উপস্থাপনার। এখনও মানুষ এটাই দেখতে চাইছে। সুরেশ দত্ত যেভাবে নির্মাণ করেছিলেন এই নাটক, বাংলা-হিন্দি দুই ভাষাতে এখনও সেভাবেই হচ্ছে, কোনো বদল হয়নি। এখনও ভি বালসারা, পি এল চৌধুরী’র সংগীতই বাজে। তাপস সেন যেভাবে আলো ডিজাইন করে গেছিলেন, সেভাবেই হচ্ছে। CPT-এর বাচিকশিল্পীদের তালিকায় রয়েছেন উৎপল দত্ত, মনু মুখার্জি, চিত্রা সেন, পার্থ ঘোষ-গৌরী ঘোষ, রমাপ্রসাদ বনিক, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বরা।

রেকর্ডিং-এর আগে সুরেশ দত্ত ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়
“গ্লাভ পাপেট (Hand or glove puppet), রড পাপেট (Rod puppet), শ্যাডো পাপেট (shadow puppet)-ও করেছি। মূলত আমরা এই তিন ধরনের পাপেট নিয়েই কাজ করি। কিছুদিন আগে আমাদের ফেস্টিভ্যালে শ্যাডো পাপেটের শো হয়েছে। স্ট্রিং পাপেটও (string puppet) আছে তবে, আমরা সেভাবে করিনি কখনো।” বলছিলেন সিক্তা দত্ত।

সুরেশ দত্ত ও তাপস সেন

পদ্মশ্রী পুরস্কার নিচ্ছেন
সুরেশ দত্ত জন্মেছিলেন পূর্ববাংলায়, ১৯৩০ সালে। সুরেশ দত্ত তখন ছোটো। গ্রামের ছেলে, কাদামাটি হাতে নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতেন। বাড়ির কেউই সে অর্থে কোনও শিল্পচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। কিন্তু সুরেশবাবু ছোটো থেকেই খুব ভালো আঁকতে পারতেন, নাচতে পারতেন, মূর্তি তৈরি করতে ভালোবাসতেন। এরকমই একটা সময়ে একবার বিসর্জনের পর পুকুর থেকে ডুব দিয়ে তুলে আনলেন গণেশের একটা মাথা। সেই মাথাতে কাদার প্রলেপ দিয়ে নতুন মূর্তি বানালেন। সেই শুরু।
দেশভাগের সময় কলকাতায় চলে আসা। কয়েকদিনের ব্যবধানে মা-বাবাকে হারিয়ে, অস্থায়ী ঠিকানাটুকু হারিয়ে, ভাইদের সঙ্গে নিয়ে উঠেছিলেন মামাবাড়িতে। স্ট্রাগল কাকে বলে, তিনি হাড়েমজ্জায় জানেন। “দেশভাগের পরবর্তী সময়ে ফরিদপুর থেকে কলকাতায় আসার পর ১৫ দিনের তফাতে আমার ঠাকুমা-ঠাকুরদা দুজনই মারা যান। যার ফলে পাঁচ ভাইবোনকে অসম্ভব স্ট্রাগলের মধ্যে পড়তে হয়। বাবা তখন ম্যাজিক দেখাতো রাস্তায় রাস্তায়। মা গল্প বলতো, বাবা যখন ছোটো, কয়েকজন বাবার চুলের মুঠি ধরে গোল গোল করে ঘু্রিয়ে খেলা দেখাতো। দারিদ্রতার কারণে প্রথাগত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে কিন্তু, ভালো ছবি আঁকতে পারত বলে পরবর্তীকালে অ্যালবার্ট টেম্পল সায়েন্স অ্যান্ড কলেজ অফ আর্ট থেকে ফাইন আর্টস-এর বারোটি বিভাগের মধ্যে এগারোটি বিভাগে ফার্স্ট ক্লাস এবং গোল্ড মেডেল সহ ব্যাচলর ডিগ্রি সম্পন্ন করে বাবা। পরবর্তীকালে নাচে তালিম নেয় উদয় শঙ্করের কাছে। পিয়ানো, সেতার, জলতরঙ্গ সবই বাজাতে পারে। CLT-তে যোগ দিয়ে বাবা নিজস্ব একটা দিশা খুঁজে পেয়েছিল, তার আগে পর্যন্ত সবকিছুই চলছিল কিন্তু এলোমেলো ভাবে। বাবার মতো পুতুল এ দেশে এখনও কেউ বানাতে পারেন না।” বলেন সুরেশ-কন্যা মাসুম দত্ত।
উদয়শঙ্করের কাছে নাচ আর তারাপদ চক্রবর্তীর কাছে খেয়ালের তালিমই জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সুরেশবাবুর উদ্বাস্তু জীবনসংগ্রামের ইতি ঘটে সিএলটি-র প্রাণপুরুষ সমর চৌধুরীর সংস্পর্শে এসে। তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়ে সুরেশ দত্ত সিএলটি-তে নাচ শেখাতেন। সেখানেই শুরু করেন পাপেট্রি। সেখানেই তিনি খবর পান, এডুকেশন মিনিস্ট্রি-র ফেলোশিপের কথা। সুরেশবাবু আবেদন করেন এবং নির্বাচিত হন। ফেলোশিপ পাওয়ার পর তিনি চলে যান মস্কোতে, সেখানেই তাঁর নতুন ধারার পুতুল নাচে হাতেখড়ি। পুতুল-কিংবদন্তী Sergei Obraztsov-এর কাছে তালিম নেন। মস্কো থেকে ফিরে আবার যোগ দেন CLT-তে। কিন্তু, সুরেশবাবু চাইছিলেন শুধুমাত্র পাপেট্রি করতে। সেই ভাবনা থেকেই স্ত্রী রুবী দত্ত (পুতুল নাটক শিল্পী)-র সঙ্গে ১৯৭২ সাল থেকেই সলতে পাকানো শুরু। তারপর ১৯৭৩-এর ২৫ ডিসেম্বর কলকাতা পাপেট থিয়েটারের যাত্রা শুরু হয়। সঙ্গে জুড়ে যান খালেদ চৌধুরী, তাপস সেন, প্রতাপচন্দ্র চন্দ্র, উৎপল দত্ত, ভি বালসারার মতো ব্যক্তিত্বরা। শুরু হয় নতুন পুতুল নাটকের কাজ যার মধ্যে উল্লেখ্য আলাদিন, রামায়ণ, মা, ছোটদের জন্য ইচ্ছাপূরণ, দত্যি দানা, কালো হীরে, আজব দেশ। সমর চৌধুরীর উৎসাহতেই তৈরি করেন অবন পটুয়া, মিঠু, ডিডো-র মতো পাপেট।
বেশ কিছু পুতুল নাটক একাধিক বার ঘুরে এসেছে নানা দেশ। পুতুল নাচের পাশাপাশি নাটকের মঞ্চ তৈরির প্রতি সুরেশ দত্তর প্রবল আগ্রহ ছিল। উৎপল দত্তের নাটক কল্লোল-এর জন্য সেট তৈরি করে সাড়া ফেলে দেন নাট্যজগতে। টিনের তলোয়ার, এন্টনি কবিয়াল, নাম জীবন, পান্নাবাঈ, মাধব মালঞ্চী কইন্যা, নৈশ ভোজ-এর মতো নাটকের মঞ্চ নির্মাণ তাঁর হাতে। আবার কলামন্দির থেকে জ্ঞান মঞ্চ, উত্তম মঞ্চ থেকে শরৎ সদন— কলকাতার বহু স্থায়ী মঞ্চ নির্মাণের পিছনে রয়েছে তাঁর ভাবনা ও উৎসাহ। পেয়েছেন পদ্মশ্রী ও সংগীত নাটক অকাদেমি পুরস্কার। এককালে বিজন সেতুর নিচে কলকাতা পাপেট থিয়েটারই ছিল সুরেশ দত্ত’র সারা দিনের ঠিকানা। এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ, ডেরায় আসতে পারেন না কিন্তু, মুদিয়ালির বাসা থেকে সবকিছুর খবর রাখেন। এখনও নতুন নাটকের নির্দেশনা দেন।

Sergei Obraztsov

মস্কো-তে সুরেশ দত্ত

শুরুর বছরে CPT
কথা জড়িয়ে যায়, স্মৃতি এখনও তরতাজা। ধীরে, মৃদু স্বরে সুরেশবাবু বললেন, “খুব ইচ্ছে ছিল বাংলায় একটা পাপেট অ্যাকাডেমি তৈরি করবো। যেখানে শিক্ষার্থী বা গবেষকদের একেবারে শুরু থেকেই পাপেট সম্বন্ধে খুঁটিনাটি জানার বন্দোবস্ত থাকবে। সেই মতো একবার ড. হুমায়ুন কবির (ভারতের প্রাক্তন শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী)-এর সঙ্গে কথাও এগিয়েছিল। আমাকে ২ লক্ষ টাকা দিতে চেয়েছিলেন কাজটা শুরু করার জন্য। তারপর তিনি রাজনৈতিক টানাপোড়েনে আটকে পড়েন এবং কাজটা শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যায়। এখানে পুতুল নাচ দেখার জন্য উপযুক্ত প্রেক্ষাগৃহই নেই। ব্যালকনিতে বসে পুতুল নাচ দেখা যায় না, কারণ ওই উচ্চতা থেকে পুরো মঞ্চটাই দেখা যায়। ফলে, ইলিউশনটা নষ্ট হয়ে যায়।”

সুরেশ দত্ত এখন ও তখন
কলকাতা পাপেট থিয়েটারের সবচেয়ে চর্চিত নাটক আলাদিন এবং রামায়ণ। বর্তমান প্রেক্ষিতে এই দুটি নাটক কীভাবে সংযোগ তৈরি করবে এই সময়ের মানসিকতায়? সুরেশবাবুর মতে, চিন্তাভাবনাকে উন্নত মানের হতে হবে। তবেই প্রতিটি শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করা যাবে। কাজে সততা থাকলে তা প্রকাশ পাবেই। আলাদিন বা রামায়ণ হল উপমার মধ্যে দিয়ে সর্বকালের জীবনগাথা। কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণী, বয়স, ধর্ম এর সঙ্গে জড়িয়ে নেই।
আপনাদের অবর্তমানে দলের ভবিষ্যত কী? শৈলেনবাবু বলেন “বম্বের এক বিখ্যাত ব্যক্তি একবার বলেছিলেন উদয়শংকরের নাচ, পি সি সরকারের ম্যাজিক আর সুরেশ দত্তর পাপেট যে না দেখবে তার জীবন সার্থক হবে না। তাই তাঁর হাতে গড়া এই পাপেট থিয়েটার বন্ধ হয়ে যাবে এ আমরা ভাবতেও পারি না। নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য মাসুম, সিক্তা (সুরেশবাবুর দুই মেয়ে) -ওরা নিশ্চয়ই কিছু ব্যবস্থা করবে। তাছাড়া সুরেশ দত্তর কাছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অনেকেই আজ প্রতিষ্ঠিত পুতুল-নাটক শিল্পী, আশা করা যায় তাঁদের মাধ্যমেও বেঁচে থাকবে কলকাতা পাপেট থিয়েটার ও সুরেশ দত্ত’র সৃষ্টি।”
দেখুন CPT-কে নিয়ে নির্মিত এই বিশেষ ভিডিওটিঃ
ছবি : মৌনী মণ্ডল ও মাসুম দত্ত
