
টাইম নিয়ে খেলাটা খেলতে একমাত্র সিনেমাই পারে
১
আসলে হিথের মতোই ফিনিক্স আমার মন জয় করেছেন। বহুক্ষেত্রে আমার মতোই, ফিনিক্সের চেয়ে থাকা আর অপারগভাবে বেধড়ক মার সহ্য করে অপমান গেলার দৃশ্যগুলোয় নিখিল দর্শক ব্যথা পায় মনে মনে। ফিনিক্স যখন সরল বাচ্চা ছেলের মতো সুর করে বলেন, “My mother always tells me to smile and put on a happy face” – তখনই সে ধাক্কা খাওয়া জনগণের মনের কথাটি বলে ফেলেন। আর তারপর একটু একটু করে নিষ্ঠুর হতে হতে হয়ে ওঠেন আন্ডারডগের হিরো। CHAOS-এর মসিহা। জোকারের জীবনের এই টাইমলাইনকে মাথায় রাখলে হিথের জোকার আসে, কিন্তু আরেকটু পরে। মানে ফিনিক্সের জোকার ধাক্কা খেতে খেতে ঘুরে দাঁড়ান। CHAOS-এর মসিহা হন। বাঁধভাঙা আন্ডারডগের গিজগিজে ভিড়ে হাত তুলে নিজের উপস্থিতি জানান দেন কোনো ছিনতাই করা গাড়ির বনেটের উপর দাঁড়িয়ে।
ফিনিক্সের জোকার ধাক্কা খেতে খেতে ঘুরে দাঁড়ান
ঠিক এই ব্রহ্মমুহূর্তেই যেন জন্ম নেয় হিথের জোকার। যাকে দেখে আর মায়া লাগে না। মায়া ব্যাপারটাকেই ছাড়খাড় করতে সে এসেছে নতুন শরীরে। ফিনিক্স হয়ে যেই জোকার ছোট্ট ব্রুসের গাল টিপে দিয়ে এসেছিল, হিথ লেজার সেজে সেই জোকারই ব্রুস ওয়েনের ব্যাটম্যান সত্ত্বা ভেঙে দিতে ফিরে এসেছে।
এভাবে ভাবলে দেখবেন, অতীত বর্তমান পাল্টাপাল্টি করেও কিছুই আর অস্পষ্ট থাকে না। নতুন মানে ফুটে ওঠে দুটোরই। টাইম নিয়ে এই খেলাটা খেলতে একমাত্র সিনেমাই পারে। তাই তাকে Larger than Life বলা হয়। এখানে ‘লাইফ’ কিন্তু ‘টাইম’-এর ইউনিট।
হিথ লেজার
২
বহু বছর পরে যদি কোনো দর্শককে আগে ‘জোকার’ দেখিয়ে পরে ‘ডার্ক নাইট’ দেখানো হয় আর বলা হয় এটাই ক্রনোলজি, তাহলে হয়তো সে তাই-ই বিশ্বাস করবে। সে ভাববে, হিথ কী দারুণ ফুটিয়ে তুলেছিলেন ফিনিক্সের দেখিয়ে দেওয়া ম্যানারিজম-এর কুঁড়িগুলো। এখানেই ফিনিক্সের জয়। এখানেই টড ফিলিপের আসল মস্তানি পৃথিবীর অন্যতম সেরা প্রিকোয়েলটা বানিয়ে ফেলার।
অস্কারজয়ী অভিনেতা ফিনিক্স
