ভারতের বিজ্ঞান নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রথম মহিলা সভাপতি হচ্ছেন চন্দ্রিমা সাহা

বাংলার মহিলা ক্রিকেট দলের সহ-অধিনায়ক ছিলেন তিনি

যৌবনে তিনি ছিলেন দক্ষ ক্রিকেটার। তারপর হয়ে উঠলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন জীববিজ্ঞানী। তিনি চন্দ্রিমা সাহা। এবার ভারতের বিজ্ঞান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্ডিয়ান ন্যাশানাল সায়েন্স অ্যাকাডেমি বা ইনসার প্রথম মহিলা সভাপতি হতে চলেছেন এই বঙ্গতনয়া। ইনসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৩৫ সালে। তারপর দীর্ঘ ৮৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম একজন নারী সংস্থাটির সভাপতির পদ অধিকার করতে চলেছেন। আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে চন্দ্রিমা সাহা ইনসার সর্বোচ্চ দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এক সময়ে তিনি চুটিয়ে ক্রিকেট খেলেছেন। বাংলা মহিলা ক্রিকেট দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব সামলেছেন। পরবর্তীকালে ক্রিকেটের ধারাভাষ্য দিয়েছেন ‘আকাশবাণী’-তে। এরই মধ্যে চালু রেখেছেন বিজ্ঞানের পাঠ। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করেছিলেন। তারপর ১৯৮০ সালে পিএইচডি করেন ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ কেমিক্যাল বায়োলজি থেকে। ইউনিভার্সিটি অফ কনসাস মেডিক্যাল সেন্টার থেকে করেন পোস্ট ডক্টরাল। জীবকোষ কীভাবে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়, তা নিয়ে গবেষণা করে তিনি সারা বিশ্বের বিজ্ঞান মহলে প্রশংসিত হন। এককোষী ও বহুকোষী জীবের দেহে ধাপে ধাপে কোষের মৃত্যু পর্যবেক্ষণ করেছিলেন চন্দ্রিমা। যে এককোষী জীব তিনি বেছে নিয়েছিলেন, তার নাম লেইশম্যানিয়া। এই পরজীবী কোষটি কালাজ্বর ঘটাতে অন্যতম ভূমিকা নেয়। বহুকোষী জীবের ক্ষেত্রে পরীক্ষাগারে তিনি বেছে নিয়েছিলেন ক্যান্সার কোষ।

ইনসার সভাপতি হওয়ার আগে চন্দ্রিমা ছিলেন এই সংস্থারই সহ-সভাপতির পদে। দিল্লির ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট অফ ইমিউনোলজির ডিরেক্টরের পদও সামলেছেন বছর ৬৬ বয়সের এই বিজ্ঞানী। তিনি মনে করেন, আমাদের দেশে উঁচু মানের মহিলা গবেষক অনেকেই আছেন। তাঁদের সঠিকভাবে পথনির্দেশ করতে পারলে মহিলা বিজ্ঞানীরা পুরুষদের সঙ্গেই সমান তালে চলতে পারবেন অনায়াসে। বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আরও বেশি উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে বলে তাঁর মত। এর জন্য দরকার বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে স্থানীয় ভাষাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া। বিজ্ঞানের নামে অবৈজ্ঞানিক কাজকর্মের যে বাড়বাড়ন্ত, তার প্রসার রুখতে আঞ্চলিক ভাষাগুলিতে বিজ্ঞানচর্চার অভ্যেস বাড়ানো দরকার। এই সব অপবিজ্ঞানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদীন ধরে লড়াই করে চলেছেন চন্দ্রিমা। পাশাপাশি, কুসংস্কার-বিরোধী আন্দোলনেও তিনি সক্রিয়। ক্রিকেটের থেকে তিনি টিম ওয়ার্কের শিক্ষা নিয়েছেন, যা পরবর্তীকালে গবেষণার জগতে তাঁকে সাহায্য করেছে। এখনও সুযোগ পেলে টিভি চালিয়ে তিনি ক্রিকেট খেলা উপভোগ করেন। ছবি তুলতেও ভালোবাসেন তিনি। তবে সময়ের অভাবে এখন আর ফটোগ্রাফির চর্চা সেভাবে তাঁর হয়ে ওঠে না। 

 

Developed by DXDasia