
আয়োজক পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড
নববর্ষ প্রাক্কালে প্রতি বছরের মতো এবারেও অনুষ্ঠিত হল পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড আয়োজিত নববর্ষ বই উৎসব ১৪২৬। পাঁচ বছর পূর্ণ করে ছয়ে পড়ল এই বই উৎসব। বাংলা প্রকাশনা জগতের প্রায় সব নামী বইয়ের স্টল দিয়ে ঘেরা ছিল কলেজ স্কোয়ার চত্বর। পাশাপাশি ছিল কারুশিল্পের স্টলও। স্টল সংখ্যা প্রায় ৭০। প্রতিদিন গান করলেন বিশিষ্ট শিল্পীরা। চলল কবিতা পাঠ। নববর্ষ উপলক্ষ্যে এই আট দিন সব প্রকাশকদের বই বিক্রির ওপর ২০ শতাংশ ছাড় ছাড়াও এক একজায়গায় ছিল ৩০-৩৫ শতাংশ ছাড়। এতদিন অনেক প্রকাশকই নতুন বই প্রকাশ করতেন নববর্ষে। কিন্তু নববর্ষের সময়ে বই প্রকাশকে কেন্দ্র করে পুরো বইপাড়া মেতে ওঠার মতো ঘটনা প্রতিবছর ঘটান পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড।


কলেজস্ট্রিট এশিয়ার বৃহত্তম এবং সবচেয়ে পুরোনো বইপাড়া। কলকাতার গর্ব। সেখানে আলাদা করে বইমেলার প্রয়োজন হচ্ছে কেন, সে নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকতে পারে। পত্রলেখা প্রকাশনী সংস্থার পক্ষ থেকে গুনেন শীল আমাদের জানান, মেলা মানেই জনসমাগম। মেলা মানেই প্রচুর রঙের ভিড়। সেক্ষেত্রে সমস্ত মেলারই বিশেষ তাৎপর্য আছে। কলেজস্ট্রিটে সারাবছর বই বিক্রি হলেও মেলার কিছু পাঠক থাকেন, যারা বিশেষ ধরনের বই কিনতে আসেন। তাছাড়া ছাড়ও পাওয়া যায়। প্রচুর বই দাঁড়িয়ে পড়া যায়। সেখানে আপনি আপনার পছন্দের বইটি কিনতে পারেন। সারাবছর সেই সুযোগটা থাকে না। গুনেন শীল আরও জানান, যথেষ্ট ভালো বিক্রি হয় এখানে। এই মেলার বিশেষত্ব হল খুব বাছাই করে বই আনেন প্রকাশকরা। প্রতিবছর স্টলের সংখ্যা বাড়ছে। সুতরাং এখান থেকেই বোঝা যায়। বিক্রি না হলে তাঁরা আসতেন না। পাশাপাশি আত্মজা প্রকাশনী সংস্থার প্রকাশক অরুণাভ চট্টোপাধ্যায় জানালেন, বিক্রি তেমন নেই। লোকজন কম। বিকেলের পর থেকে তাও কিছু লোক আসছেন। এখানে একটা প্রশ্ন আসে, পাঠক কি নতুন প্রকাশকদের খুঁজতে ভুলে যাচ্ছেন? নতুন লেখকদের নতুন বই খুঁজে আনার রিস্ক কি তাঁরা নিতে চাইছেন না?


নববর্ষ বই উৎসবে অংশগ্রহণ করেছিল আনন্দ, দে’জ, আজকাল, পত্রভারতী, পত্রলেখা, কবিতা পাক্ষিক, অনুষ্টুপ, গাংচিল, সপ্তর্ষি, পরম্পরা, আত্মজা, সাহিত্য সংসদ ইত্যাদি। গত ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছিল বই উৎসব। কলেজ স্কোয়ারে এই বই উৎসব উদ্বোধন করেন কবি শঙ্খ ঘোষ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার, নবনীতা দেবসেন, বুদ্ধদেব গুহ, শংকর, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, বাণী বসু, স্বপ্নময় চক্রবর্তী প্রমুখ।

