
সপ্তাহান্তে ছুটি কাটানোর আদর্শ গন্তব্য
ধ্যানমগ্ন এক পাহাড় আর তার তলে শায়িত এক নদী। যত দূর চোখ যায় শুধু শাল, পলাশ, সেগুনের সবুজ বনানী, আর সেই নির্জনতার মধ্যে শান্ত জলরাশি নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে মুরগুমা। অযোধ্যা পাহাড়ের পাদদেশে একটি জলাধারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই ছোট্ট পর্যটনস্থল। বর্ষায় তো বটেই, ঋতুর সঙ্গে সঙ্গে রূপ বদলাতে থাকে মুরগুমা। প্রতিটি ঋতুতেই অপরূপ পুরুলিয়ার ঝালদা দুই ব্লকের এই অফবিট গন্তব্য।

অযোধ্যা পাহাড়ের হিল টপ, আপার ড্যাম, লোয়ার ড্যাম, ময়ূর পাহাড়, থেকে অযোধ্যা পাহাড়ে কোলে মুরগুমায় সারাবছরই পিকনিকে মজেছেন জেলা-সহ বিভিন্ন প্রান্তের মানুষেরা। মুরগুমা এখন পুরোপুরি পর্যটন কেন্দ্র। আর অযোধ্যা পাহাড়ের সাইট সিয়িং শুধু নয়। জলাধার তো রয়েছে। তাছাড়া কোটশিলা থানার এই জনপদকে ঘিরে চারপাশ জুড়ে রয়েছে ঝরনা। জঙ্গলঘেরা পথে হাঁটলেই পাহাড় থেকে নেমে আসা জল ঝরনা হয়েছে। যা শুধু বর্ষায় দেখা যায়। কামসুতিয়া, মাছকান্দা, পিটিতিরি, গিরগিরি, পাড়াপানি – কত যে তাদের নাম।
শহরের কোলাহল ও ব্যস্ততা থেকে কয়েক দিনের বিরতি নিতে এই জায়গা আদর্শ হতে পারে। জলাধারের পাশে বসেই কেটে যেতে পারে গোটা দিন। এখানকার আরও একটি জনপ্রিয় স্থানের নাম উকামবুরু ভিউ পয়েন্ট বা সুইসাইড পয়েন্ট। ভয় পাবেন না। নাম সুইসাইড পয়েন্ট হলেও আত্মহত্যার সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই। আসলে, এটি পাহাড়ের একটি শীর্ষ বিন্দু। যার তিন দিকেই রয়েছে খাদ ও জলাধার। হাঁটা পথে এই স্থানটির দূরত্ব দেড় কিলোমিটারের বেশি নয়। তবে ভরা বর্ষায় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের দিনে এখানে গেলে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করাই বাঞ্ছনীয়। মুরগুমা গ্রামটিও দেখে নিতে পারেন পায়ে হেঁটে। গ্রামবাসীরা উৎসবের দিনগুলিতে সুন্দর করে সাজান বাড়ির দেওয়াল। নিজস্ব গাড়ি নিয়ে গেলে সহজেই ঘুরে নিতে পারেন পার্শ্ববর্তী আরও কিছু জলাধার, পাহাড়ি ঝর্ণা ও পাখি পাহাড়।

কলকাতা থেকে যেতে হলে রূপসী বাংলা বা চক্রধরপুর প্যাসেঞ্জার ধরতে হবে। পুরুলিয়া স্টেশন থেকে মুরগুমার দূরত্ব প্রায় ৫৫ কিলোমিটার। পুরুলিয়া স্টেশনের কিছু দূরেই রয়েছে বাস স্ট্যান্ড। বাসে করে বেগুন কোদর হয়ে আসতে হবে মুরগুমা। সড়ক পথে আসতে চাইলে রাঁচি রোড ধরে বেগুন কোদর হয়ে পৌঁছতে হবে গন্তব্যে।
এখানে থাকার জন্য অল্প কয়েকটি রিসর্ট রয়েছে। তাই আগে থেকে যোগাযোগ করে যাওয়াই ভাল। খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থাও সেখানেই। আমিষ ও নিরামিষ দু’ধরনের খাবারেরই বন্দোবস্ত রয়েছে। রয়েছে ইকো ট্যুরিজম বা প্রকৃতির কোলে থাকার ব্যবস্থাও। এ ছাড়া, সম্প্রতি ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু হোম স্টে।