
ছবির কেন্দ্রে রয়েছে বিবাহ-ব্যবস্থার উপর একটি উপভোগ্য ক্যারিকেচার
সুখী দাম্পত্য শুধু ‘বিবাহ’ নামের সামাজিক চুক্তিতেই আবদ্ধ নয়, তা আসলে দুটি হৃদয়ের মিলনে “marriage of hearts”। তবে, এই বিবাহই কখনও হয়ে ওঠে সমাজজীবনের নিয়ন্ত্রক; কখনও উচ্চাকাঙ্ক্ষার সিঁড়ি, বা কখনও অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা, সামাজিক কৌলিন্যের মানদণ্ড। কন্যাদায়গ্রস্ত বাবা-মা তাদের প্রায়-উদ্বৃত্ত কন্যাটিকে পাত্রস্থ করতে পারলেই যেন ধন্য হয়ে যান। তা সে স্বয়ং রবিঠাকুর থেকে শুরু করে শরৎচন্দ্রের গ্রামীণ সমাজই হোক, কিংবা দেশ-কালের গণ্ডি পেরিয়ে জেন অস্টেনের ভিক্টোরিয়ান ইংল্যান্ড, বিবাহই ধ্যান-বিবাহেই সিদ্ধি। তাই বিবাহ-যন্ত্রের জাঁতাকলে আটকে থাকা বিবাহযোগ্য কন্যা থেকে শুরু করে কন্যাদায়গ্রস্ত বাবা-মায়েরা বিশ্বাস করতে বাধ্য হন, “জন্ম মৃত্যু ও বিয়ে, তিন বিধাতা নিয়ে”। তা বলে ভাগ্যের ওপরে কি সবকিছু কি ছেড়ে দেওয়া যায়? পাত্র জোগাড় করতে তাই কন্যা-দায়গ্রস্ত অবিভাবকদের চেষ্টারও কোনো ত্রুটি থাকে না। ‘সৎপাত্র’ থেকে ‘নন্দলাল’ এই বিবাহকে কেন্দ্র করে বাঙালি কুলীন হিন্দু সমাজের কুসংস্কারাশ্রিত পুরুষতন্ত্রকেই চিহ্ণিত করেছে। এহেন বিবাহ প্রতিষ্ঠানই মুখ্য বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে পরিচালক অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়-এর শ্লেষাত্মক রোম্যান্টিক কমেডি ছবি মৌচাক (১৯৭৪)-এ (Mouchak by Arabinda Mukhopadhyay)। প্রখ্যাত কথা-সাহিত্যিক সমরেশ বসুর কাহিনি ‘অবশেষে’ অবলম্বনে নির্মিত এই মন ভালো করা ঝরঝরে ছবিটি সত্তর দশকের কালজয়ী কমেডি ছবিগুলির (সত্তরের দশকে কমেডি বাংলা সিনেমা) মধ্যে অন্যতম।

সত্তরের দশক বাংলা ছবির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। স্বাধীনতার তিন দশক অতিক্রান্ত। খাদ্য আন্দোলনের পর নকশাল আন্দোলনের স্বপ্নভঙ্গতা নেশন এস্টেটের একচ্ছত্র ক্ষমতায়নকেই নিশ্চিত করে। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে ভারতরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ, মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব, খাদ্যসংকট – সব মিলিয়ে এক চরম আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অব্যবস্থা জন্ম দেয় হতাশা ও অনিশ্চয়তার। সমকালের এই বাস্তবতার মুহূর্তে মৃণাল সেন যখন পর্যায়ক্রমে বানিয়ে চলেছেন তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ছবিগুলি, যেমন- কলকাতা ট্রিলজি: ‘ইন্টারভিউ’ (১৯৭১), ‘কলকাতা ৭১’ (১৯৭২), ‘পদাতিক’ (১৯৭৩), এবং প্রতিরোধের ছবি ‘কোরাস’ (১৯৭৪), সে সময়ের মূলধারার ছবিগুলি অবশ্য পলায়নবাদী রোম্যান্টিকতার খোল-নলচে ছেড়ে বেরোতে পারেনি। তবে সত্তরের দশকে মূলধারার ছবিতে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যায়। যেমন, মহানায়ক উত্তমকুমার তাঁর অধরা স্টারডমের খোলস ভেঙে উত্তরসূরিদের জায়গা করে দিচ্ছেন। ‘মৌচাক’ ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে ‘কলকাতা ৭১’-এর নায়ক রঞ্জিত মল্লিককে কে দেখা যায় মহানায়কের সহ অভিনেতা হিসেবে। এ যেন বদলের হাওয়া লাগে বাংলা ছবির পালে। ‘মৌচাক’ মুক্তির ঠিক এক বছর আগে দীনেন গুপ্তের ক্লাসিক রোম্যান্টিক কমেডি ‘বসন্ত বিলাপ’ (১৯৭৩) মন কাড়ে বাঙালি দর্শকের। তবে ‘মৌচাক’ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বেশ কিছু কারণে।
ছবির মুখ্য বিষয়বস্তু বিবাহ-ব্যবস্থার একটি উপভোগ্য ক্যারিকেচার, পুরুষতন্ত্রই যেখানে মেয়েদের সামাজিক অবস্থানের নিয়ন্ত্রক। ছবির এক জায়গায় নীতিশকে বলতে শোনা যায়, “আমাদের দেশে মেয়েদের বিয়ে হওয়া যেমন শক্ত, ছেলেদের বিয়ে হওয়া তেমনি সহজ।”
কাহিনির নায়ক শীতেষ জুট টেকনোলজি নিয়ে পড়াশুনো করে দীর্ঘ অপেক্ষার পর কলকাতা থেকে সত্তর মাইল দূরের এক পাটকলে ওভারসিয়ার পদে যোগ দেয়। চাকরির শর্ত মেনে তাকে দাদা-বৌদির আদরের গৃহকোণ ছেড়ে কারখানার কাছাকাছি মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করতে হয়। আর এখান থেকেই শীতেষের জীবনে নেমে আসে এক উটকো বিপত্তি। অবিবাহিত, সুপ্রতিষ্ঠত, সুদর্শন, রাঢ়ী-ব্রাহ্মণ হওয়ার সুবাদে পাটকলের ঊর্ধ্বতন থেকে অধস্তন সকল কন্যাদায়গ্রস্ত সহকর্মীরাই শীতেষের পিছনে পড়ে যায় তাকে জামাতা হিসেবে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায়। মধু লোভে মৌমাছি যেমন মৌচাকের চারধারে নিয়ত ঘুরঘুর করে, বিবাহোপযোগী কন্যাদের পিতৃগণও শীতেষকে ঘিরে আবর্তিত হতে হতে একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। ইতিমধ্যেই নায়কের জীবনে প্রেম আসে, এবং দমফাটা হাসির ঘটনাপ্রবাহের মাধ্যমে নানান প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে সেই প্রেম পরিনতি পায়।
কাহিনির অতিরঞ্জন এবং আগাগোড়া হাস্যরসে ভরপুর হালকা মেজাজ সত্ত্বেও ‘মৌচাক’ শুধুই একটি বিনোদনধর্মী ছবি নয়, সমকালীন বাস্তবতাকে ছুঁয়ে যাওয়া এই ছবির মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় নানান সামাজিক ভাষ্য। ছবির মুখ্য বিষয়বস্তু বিবাহ-ব্যবস্থার একটি উপভোগ্য ক্যারিকেচার, পুরুষতন্ত্রই যেখানে মেয়েদের সামাজিক অবস্থানের নিয়ন্ত্রক। ছবির এক জায়গায় নীতিশকে বলতে শোনা যায়, “আমাদের দেশে মেয়েদের বিয়ে হওয়া যেমন শক্ত, ছেলেদের বিয়ে হওয়া তেমনি সহজ।”

তাই, কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাদের “হ্যান্ডসাম ব্যাচেলর” পুরুষের ওপর হামলে পড়ার বিষয়টিকে ছবিতে অতিরঞ্জিত করে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে তার মাধ্যমে আসলে সামাজিক সমস্যাটিকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো হয়েছে। দর্শক তা দেখেছে এবং প্রাণ খুলে হেসেওছে। কিন্তু সার্থক কমেডির দায় শুধু হাসানোই নয়, চিন্তাশীল বিশ্লেষণের মাধ্যমে সমস্যার মূলে পৌঁছে যাওয়াতেই রয়েছে শিল্পমাধ্যমের মানবিক দায়বদ্ধতা, ঠিক যেমনটি লক্ষ্য করা যায় চার্লি চ্যাপলিনের ছবিতে; যা একইসঙ্গে দর্শককে হাসায় এবং ভাবায়। ‘মৌচাক’ ছবির একটি বিশেষ চরিত্র তালুকদার (অনুপ কুমার অভিনীত)-এর মুখে শোনা যায় যে কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাদের এই ‘বাড়াবাড়ি’ দেখে সবাই হাসছে, অথচ আসলে তাদের দু:খ পাওয়াই উচিত। “Eternal fathers’ tragedy” অর্থাৎ, কন্যাদায়গ্স্ত পিতার এই যে চিরন্তন যন্ত্রণাকে ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে তার মূলে রয়েছে পিতৃতন্ত্র নিজেই।
সত্তর দশকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্লকবাস্টার ছবি মৌচাক পঞ্চাশ বছর পরেও কালজয়ী গৌরবে প্রতিষ্ঠিত। সময়ের চাহিদা এবং প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতিকে সঙ্গে রেখে আজকের দিনে ছবির ভাষা বদলে গেলেও মনে রাখার মতো বুদ্ধিদীপ্ত বাংলা কমেডি ছবি বিশেষ হচ্ছে কি?
সত্তর দশকের সমাজজীবনের ব্রাহ্মণ্যবাদ ও বর্ণভেদ ব্যবস্থার এক বৈষম্যমূলক চিত্র উঠে এসেছে ছবিতে। শীতেষের জাতি ও গোত্র এবং আর্য দেবতাসুলভ চেহারাই প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে মেয়ের বাবাদের কাছে। তাই তো শীতেষের দাদা নীতিশ (উত্তমকুমার অভিনীত) যখন মেয়ের বাবাদের হাত থেকে ভাইকে বাঁচানোর জন্য তার চরিত্র নিয়ে মিথ্যে কুখ্যাতি ছড়াতে থাকে, তাদের উৎসাহ কিন্তু বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ হয় না, বরং তার স্বপক্ষেই তারা জানায় যে পুরুষমানুষের চরিত্রে এরকম একটু আধটু দোষ থাকতেই পারে। “সোনার আংটি আবার ব্যাঁকা!” অর্থাৎ, পাত্রের চরিত্রের চেয়েও মূল্যবান হয়ে ওঠে তার জাতি ও বর্ণ। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের এই নৈতিক ভন্ডামিকে কঠোরভাবে ব্যঙ্গ করা হয় যখন নীতিশ মুখার্জিদের জানায় যে মদ খেয়ে খেয়ে পুরুষ মানুষের লিভার খারাপ হতে পারে, কিন্তু চরিত্র কখনও খারাপ হয় না।” পুরুষতান্ত্রিক ও ব্রাহ্মণ্যবাদী সমাজব্যবস্থার পশ্চাৎমুখী এই ভাবনার স্রোত পঞ্চাশ বছর পরেও বোধহয় পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি, যার নমুনা লক্ষ্য করা যায় আজকের দিনের ‘পাত্র চাই/পাত্রী চাই’ বিজ্ঞাপনেও।
সত্তর দশকের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক স্থবিরতার কারণ হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে জনবিস্ফোরণকেই দায়ী করা হয়। পরিসংখ্যান মতে, সত্তরের দশকে প্রতিজন মহিলার গড়ে ছটি করে সন্তান ছিলো। তাই এসময়ে সরকারি ভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হয় জন্মহার নিয়ন্ত্রণের। বিশেষ করে ইমার্জেন্সি (১৯৭৫-৭৭)-এর সময়ে এই কর্মসূচি ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। অশিক্ষা, অসচেতনতা এবং বন্ধ্যাত্বকরণ বিষয়ে অহেতুক ভয় ও ট্যাবুর কারণে এই জন্মনিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টা আশানুরূপ সাফল্য পায়নি। সমকালের এই বাস্তব সমস্যাটি হাস্যরসের সঙ্গে ব্যাঙ্গাত্মকভাবে উঠে এসেছে ‘মৌচাক’ ছবিতে। পাটকলের একটি দৃশ্যে দেখা যায় শীতেষকে নিজেদের বাড়ি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে মেয়ের বাবাদের মধ্যে যে প্রতিযোগিতা শুরু হয় সেখানে গর্বের সঙ্গে নিজ নিজ কন্যাসন্তানের সংখ্যা জাহির করার মাধ্যমেই যেনো যোগ্যতা বিচার চলে। আবার ডাক্তার গুপ্তের চেম্বারে নিজের অসুস্থ মেয়েকে চিকিৎসা করাতে আসা বৃদ্ধের থেকে জানা যায় সাতটি সন্তান থাকা সত্ত্বেও তার স্ত্রী আবার সন্তানসম্ভবা। ব্যঙ্গাত্মক ঐ দৃশ্যে ডাক্তারখানার দেওয়ালে টাঙানো জন্মনিয়ন্ত্রণ বিষয়ক সচেতনতামূলক পোস্টারের দিকে বৃদ্ধের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ডাক্তার তাকে পরামর্শ দেন ভেসেকটোমি করিয়ে নিতে। কিন্ত বৃদ্ধটি তাতে ‘খোজা’ হয়ে যাওয়ার ভয় প্রকাশ করলে মজার ছলে ডাক্তার জানান, “ওতে যৌবনের মজা আছে, কিন্তু বংশবৃদ্ধির সাজাটা নেই।”
যুগ-পরিবর্তন এ ছবির অন্যতম বিষয়বস্তু। মহানায়ক উত্তমকুমারের সঙ্গে রঞ্জিত মল্লিকের স্ক্রিন ভাগ করে নেওয়া এই যুগসন্ধিকেই প্রতিকায়িত করে। আবার, শীতেষের বৌদি (সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়) যেন নতুন যুগের অঙ্গনে পুরাতন যুগের মূল্যবোধেরই মূর্তিমান প্রতিমা। তাই তো বড়ো দাদা হয়ে ছোটো ভাই শীতেষকে নীতিশের নিজের হাতে সিগারেট জ্বালিয়ে দেওয়াকে তিনি কোনোভাবেই গ্রহণ করতে পারেন না। একইভাবে তিনি রক্ষণশীল; সন্তানসম দেবরকে সত্তর মাইল দূরের কর্মক্ষেত্রে একা পাঠাতেও নারাজ। বাড়ির কাজের মেয়ে চাঁপার উঠতি যৌবনের বিষয়েও তিনি অত্যন্ত সাবধানী। কলকাতা শহরে থেকেও গ্রাম্যতাকে তিনি পুরোপুরি বর্জন করতে পারেননি। আবার অন্যদিকে পার্কে মাস্টারমশাই এবং তাঁর প্রবীণ সঙ্গীর নতুন প্রজন্মের জীবনশৈলী নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ এবং বক্রোক্তি বদলায়মান যুগের বুকে ফেলে আসা কালের মূল্যবোধের দীর্ঘশ্বাস বৈকি। মুখার্জির গলায় শোনা যায় নতুনের সঙ্গে পুরাতনের আপোষের স্বর- “তা দিনকাল যেরকম পড়েছে, সেরকমই তো চলতে হবে।”

হাস্যাত্মক পরিস্থিতি নির্মাণ এবং চরিত্রদের মুখে বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপের স্থাপন ছবিটিকে একইসঙ্গে করে তুলেছে জনপ্রিয় এবং ক্লাসিক। ছবির কাস্টিংয়েও রয়েছে অভাবনীয় চমক। রবি ঘোষ, অনুপ কুমার এবং চিন্ময় রায়ের মতো দুঁদে কমিক চরিত্রাভিনেতাকে একসঙ্গে পাওয়া গিয়েছে এ ছবিতে। উত্তমকুমার এবং সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের রূপোলি পর্দার রসায়ন অবিস্মরণীয়। নতুন প্রজন্মের অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক এবং মিঠু মুখার্জির রসায়নও মনে রাখার মতো। তবে উত্তমকুমারের সর্বজয়ী ক্যারিশ্মার আড়ালে রঞ্জিত মল্লিক অনেকটাই ম্লান, অবশ্য চিত্রনাট্যের দাবি মেনে তা যথাযথ। পার্শ্ব-চরিত্রে কামু মুখার্জী, তরুণ কুমার, শেখর চ্যাটার্জী, রত্না ঘোষাল, সুলতা চৌধুরী, নৃপতি চট্টোপাধ্যায়, গীতা দে প্রমুখের অভিনয় দক্ষতা মনে রাখার মতো। অভিনয়ের পাশাপাশি এ ছবির সংগীত রচনা এবং প্রয়োগও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নচিকেতা ঘোষের পরিচালনায় মান্না দে-র কণ্ঠে “এবার ম’লে শাড়ি হবো”, “প্রেম করেছি বেশ করেছি”, “তা বলে কি প্রেম দেবো না” এবং “পাগলা গারদ কোথায় আছে” গানগুলি সুপারহিট ক্লাসিক।
সত্তর দশকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্লকবাস্টার ছবি মৌচাক পঞ্চাশ বছর পরেও কালজয়ী গৌরবে প্রতিষ্ঠিত। সময়ের চাহিদা এবং প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতিকে সঙ্গে রেখে আজকের দিনে ছবির ভাষা বদলে গেলেও মনে রাখার মতো বুদ্ধিদীপ্ত বাংলা কমেডি ছবি বিশেষ হচ্ছে কি? মধ্যমেধার প্রভূত্ব এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নির্ভেজাল রসবোধ হয়তো ডালপালা মেলার সুযোগ আর পায় না। পুঁজি ও যান্ত্রিকতার গুমোটে আজকের হাসি তার গভীরতা খুইয়েছে। তবে, যে সত্তরের দশক ইমারজেন্সির মতো জাতীয় বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে, সেই দশকেই বাংলায় তৈরি হয়েছে ‘মৌচাক’, ‘বসন্ত বিলাপ’, ‘চারমূর্তি’, ‘এক যে ছিলো দেশ’-এর মতো কালজয়ী কমেডি। আসলে নর্দমার মধ্যে দিয়ে ভেসে যাওয়া গোলাপের সৌন্দর্য সবার কবিতায় ধরা পড়ে না, তার জন্য প্রয়োজন গভীর রসবোধ এবং জীবন চেতনা।