
উদ্দেশ্য প্রত্যেকের মধ্যে সৌহার্দ্য এবং সৌভ্রাতৃত্ববোধ ছড়িয়ে দেওয়া
বাংলার অসাম্প্রদায়িক লোকায়ত ঐতিহ্যের উৎসব মঙ্গল শোভাযাত্রা ইতিমধ্যেই ইউনেস্কো ‘অধরা বিশ্ব ঐতিহ্য’ শিরোপায় স্বীকৃতি লাভ করেছে। বাংলাদেশে এই অনুষ্ঠান পালনের ধারাবাহিকতা আছে, সে কথা স্মরণ রেখে ১৪২৪ বঙ্গাব্দ (২০১৭) ১লা বৈশাখ থেকে কলকাতায় গাঙ্গুলিবাগান থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পরিক্রমার মাধ্যমে এই শোভাযাত্রা করে আসছেন মঙ্গল শোভাযাত্রা গবেষণা ও প্রসারকেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ। এই শোভাযাত্রার সম্পাদক বুদ্ধদেব ঘোষ আমাদের জানান, “সম্প্রীতি এবং অসাম্প্রদায়িক বাঙালিয়ানা বজায় রাখাই আমাদের কর্তব্য। এই কথা মাথায় রেখে বাংলার ১৪২৪ বঙ্গাব্দ থেকে আমরা বাংলাদেশের ঢাকার আদলে শোভাযাত্রা করছি। তাতে অসংখ্য মানুষ অংশগ্রহণ করছেন। আমাদের উদ্দেশ্য প্রত্যেকের মধ্যে সৌহার্দ্য এবং সৌভ্রাতৃত্ববোধ ছড়িয়ে দেওয়া।”

শোভাযাত্রার পথ গাঙ্গুলিবাগান থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। মঙ্গল শোভাযাত্রা, সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। এটি প্রথম শুরু হয়েছিল ঢাকা শহরে। পয়লা বৈশাখের সকালে সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ একাত্ম হয়ে যান, পা মেলান। রাস্তায় নেমে নাচে গানে কথায় মেতে ওঠেন। আলপনায় ভরিয়ে দেওয়া হয় রাস্তা। ঢাকায় এই শোভাযাত্রার আয়োজনে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। কলকাতায় এইদিন রাজপথে নামলেন প্রবীণ থেকে নবীন নাগরিকরা। স্ট্যাচু, মুখোশ কিংবা কুলোসরা তৈরিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সাহায্য করেছেন ঢাকার চারুকলার বেশ কয়েকজন প্রাক্তনী। এঁরা তাঁদের থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এবছর বেশিরভাগ হাতের জিনিস নিজেরাই বানিয়েছেন।

হাতি, ঘোড়া, বাঘ, প্যাঁচা নিয়ে শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। এই তেরো পার্বণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ উৎসব বর্ষবরণ। এইদিন বাংলাদেশ-সহ পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয়-সহ গোটা ভারতজুড়ে সম্প্রীতি এবং অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা নিয়ে পথে সামিল হন একদল মানুষ।

সেলিম মণ্ডলের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে প্রাপ্ত ছবি
