কলকাতায় ফেলিনি, বড়োপর্দায় ‘মাস্টারপিস’ দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন সিনেপ্রেমীরা

‘গল্প বলার পদ্ধতি নয়, ছবিতে আমার আগ্রহ ছিল কেবল গল্পাংশে’

ফেলিনির সিনেমার কোনও দায় নেই। তবে মূল বিষয়টি হল, তাঁর ছবি অস্বীকার করার জায়গাও তিনি রাখেননি। G. Salachas-এর ‘ফেদেরিকো ফেলিনি’-তে ফেলিনি নিজেই বলেছেন, ‘গল্প বলার পদ্ধতি নয়, ছবিতে আমার আগ্রহ ছিল কেবল গল্পাংশে।’ ফেলিনি-দর্শকরা জেনে থাকবেন কেন তিনি এই কথা বলেছেন। তিনি আরও ভেঙে বলেছেন, ‘আমি সিনেমার ক্লাসিক সম্বন্ধে কিছু জানি না। স্বীকার করতে লজ্জা হলেও জানিয়ে রাখা ভাল যে মুরনাউ, ড্রেয়ার কিংবা আইজেনস্টাইনের কোনো ছবি দেখিনি। নিজের ছবিও পারতপক্ষে হলে গিয়ে দেখিনি। সব সময়েই এক ধরনের নির্মোহতা আমাকে গ্রাস করে থাকে। একটা ছবি আমার দিক থেকে তৈরি করা জরুরি ছিল, তা-ই করেছিলাম। সেটা দর্শকরা নিল কি নিল না তা আমাকে স্পর্শ করে না। এটা কিন্তু সংবেদনহীনতা নয়, আমি জীবনের সব কিছুকেই ভালোবাসি, যৌক্তিক-অযৌক্তিক, সুন্দর-কুৎসিৎ, সৎ-অসৎ নির্বিশেষে। আমি সব জিনিশের দু’টো দিকই দেখানোর পক্ষপাতী।’

‘লা দোলসে ভিতা’ (১৯৬০)

ফ্রেমের ভিতর ফ্রেম, তার ভিতরে ফ্রেম…ঘাড় ঘুরছে একবার এদিক, একবার ওদিক।  কখনো দম বন্ধ হয়ে আসছে, কখনো উড়ছে খোলা আকাশে। তারপর…নীচে নামো…নীচে নেমে এসো বলে হ্যাঁচকা টানে নীচে নামিয়ে আনছে কেউ। আর্তনাদের হাত…CUT।

‘এইট অ্যান্ড হাফ‌’(১৯৬৩)

‘এইট অ্যান্ড হাফ’; ছবির নায়ক গুইডো চাইছে নিজের জীবনের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন ঘটনা ও ব্যক্তির মুখোমুখি হয়ে, প্রকারান্তরে নিজেরই দ্বন্দ্ব, অনিশ্চয়তা ও সমস্যার সম্মুখীন হয়ে, বাস্তব থেকে স্মৃতি, স্মৃতিথেকে কল্পনার জগতে পালিয়ে যেতে। নকল ভদ্রতাহীন, সম্পূর্ন নির্ভয়, দ্বিধাহীন, নির্ভার। তাঁর একটি ছবির শুরু অথবা শেষ দৃশ্যই বলে দিতে পারে কেন ২০২১ সালেও প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে ১৯৬৩ সালে বানানো একটি সিনেমা, কেন বিশ্বের আপামর সিনেমাপ্রেমী ‘ফেলিনি ফেলিনি’ বলে জয়ধ্বনি তোলেন, কেন ফেলিনির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল সিনেমার শ্রেষ্ঠ পুরস্কারগুলো এবং কেন ফেদেরিকো ফেলিনি- ‘ফেলিনি’। 

পাঁচবারের অস্কারজয়ী ফেলিনি

২০২১, ২৬তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে শতবর্ষ উদযাপিত হচ্ছে ইতালির প্রয়াত ‘সিনে-মাস্টার’ ফেদেরিকো ফেলিনির। দেখানো হচ্ছে ‘দ্য ইয়ং অ্যান্ড দ্য প্যাশনেট’(১৯৫৩), ‘দ্য ভয়েস অফ দ্য মুন’(১৯৯০), ‘লা দোলসে ভিতা’(১৯৬০), ‘জুলিয়েট অফ দ্য স্পিরিট’(১৯৬৫), ‘এইট অ্যান্ড হাফ’(১৯৬৩), ‘দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট লা দোলসে ভিতা’(২০২০)। এর মধ্যে ‘দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট লা দোলসে ভিতা’ ছবিটির পরিচালক জিস্যাপি পেডারসলি; ‘লা দোলসে ভিতা’ তৈরি করার সময় ছবিটির দুই প্রযোজকের মধ্যে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল এবং তার জন্য যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন ফেলিনি, অপ্রকাশিত লেখাপত্র ঘেঁটে তা উদ্ধার করে ছবিটি বানিয়েছেন তিনি। ছবিটি মুক্তি পেয়েছে ২০২০-তে এবং প্রদর্শিত হয়েছে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে।

Developed by DXDasia