
৪৩তম কলকাতা আন্তর্জাতিক পুস্তকমেলা শুরু হচ্ছে আগামীকাল
১৯৭৬ সালের কলিকাতা পুস্তকমেলা-ই আজকের আন্তর্জাতিক কলকাতা পুস্তকমেলা। ১৯৮৪ সালে এই বইমেলা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করে। বারোদিন ধরে প্রতিবছর এই বইমেলা হয়ে ওঠে বইপ্রেমীদের দুর্গাপুজো। ঠিক এই কারণেই কলকাতা বইমেলাকে বলা হয় বাঙালির চতুর্দশ পার্বণ। কলকাতা বইমেলা বিশ্বের বৃহত্তম বইমেলা। কলকাতার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এই মেলা একটি বিশেষ স্থানের অধিকারী। কলকাতা বইমেলা আন্তর্জাতিক বইমেলা হলেও মেলার সিংহভাগ জুড়ে বাংলা বইয়ের বিক্রিই বেশি হয়। তবে প্রচুর ইংরেজি গ্রন্থ প্রকাশক ও বিক্রেতাও এই মেলায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া হিন্দি, উর্দু, সংস্কৃত ইত্যাদি অন্যান্য ভারতীয় ভাষার বইও এই মেলায় পাওয়া যায়। বিদেশি দূতাবাসগুলিও স্টল বা প্যাভিলিয়ন সাজিয়ে নিজ নিজ দেশে প্রকাশিত বইপত্রের প্রদর্শনী করে থাকে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও ভারত সরকারের বাংলা প্রকাশনা বিভাগগুলিও এই মেলায় অংশগ্রহণ করে। এছাড়াও ফ্রাঙ্কফুট বইমেলার আদলে প্রতি বছর মেলায় অংশগ্রহণকারী একটি বিদেশি রাষ্ট্র ‘ফোকাল থিম’ এবং অন্য একটি রাষ্ট্র ‘সম্মানিত অতিথি রাষ্ট্র’ নির্বাচিত হয়। গ্রন্থসম্ভারের পাশাপাশি শিশু, তথ্যপ্রযুক্তি ও লিটল ম্যাগাজিনের জন্য বিশেষ চত্বর নির্ধারিত থাকে। কলকাতা বইমেলা বর্তমানে কলকাতার সবথেকে জনপ্রিয় একটি মেলা।
৪৩তম কলকাতা আন্তর্জাতিক পুস্তকমেলা শুরু হচ্ছে আগামীকাল। প্রকাশক-লেখকদের মধ্যে তাড়াহুড়ো শুরু হয়ে গিয়েছিল প্রায় তিন-চার মাস আগে থেকেই। প্রথা অনুসারে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেলা চলবে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। গতবছরের মতো সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে বসবে মেলার আসর। আগে বইমেলা শুরু হত দুপুর ২টোয়, চলত রাত ৮টা পর্যন্ত। কিন্তু গত কয়েকবছর ধরে সে নিয়মের বদল ঘটেছে। সাম্প্রতিক প্রত্যেকবারের মতো এবার বইমেলা শুরু হবে দুপুর ১২টায়, চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত।

মায়াময় হতে চলেছে এবারের বইমেলা। কারণ এবছর থিম কান্ট্রি হিসাবে হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে গুয়াতেমালাকে। এবারের বইমেলায় থাকছে আরও চমক। প্রথমবার মেলায় যোগ দিতে চলেছে ইরান দেশ। এছাড়াও মেলায় যোগ দিতে পারে পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি প্রকাশনা। থাকছে আমেরিকা, ব্রিটেন, রাশিয়া, চিন, জাপান, ভিয়েতনাম সহ লাতিন আমেরিকার ১১টি দেশ। আমাদের দেশ থেকে অন্যান্যবারের মতোই অংশগ্রহণ করবে দিল্লি, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু, কর্নাটক, গুজরাট, নাগাল্যান্ড, আসাম, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরালা, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, তেলেঙ্গানা ও ওড়িশার প্রকাশনা সংস্থাগুলি। গান্ধীজির ১৫০ বছর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বইমেলায় আয়োজন করা হয়েছে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান। ৪৩তম কলকাতা পুস্তকমেলা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হবে ষষ্ঠ কলকাতা লিটারারি ফেস্টিভ্যাল। ৭ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। অংশগ্রহণ করবেন দেশ-বিদেশের প্রথিতযশা লেখক, চলচ্চিত্র পরিচালক, ইতিহাসবিদ, নাট্যব্যক্তিত্ব, ক্রীড়াব্যক্তিত্বরা। গিল্ড কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, গতবারের কলকাতা পুস্তকমেলায় এসেছিলেন ২২ লক্ষ মানুষ। বই বিক্রি হয়েছিল ২৩ কোটি টাকার।
