
ইচ্ছে মতো সংগ্রহ করুন পছন্দের সামগ্রী
চিৎপুর রোড
কলকাতা সফরের গত পর্বে বলেছিলাম, এই সপ্তাহে যাত্রা শুরু করব চিৎপুর রোড থেকে। ইতিমধ্যেই শহরের প্রাচীনতম সেই রাস্তার ইতিহাস আপনাদের বলেছি। ইংরেজরা বলতেন চিটপোর, যা এখন ‘রবীন্দ্র সরণি’ নামে পরিচিত। ১৮ এবং ১৯ শতকে পথটির দু’ধারে ছিল ‘ব্ল্যাক’ বা ‘নেটিভ’-দের বাস। অন্যদিকে বিবাদী বাগ এবং এসপ্ল্যানেড অঞ্চলে থাকতেন ‘হোয়াইট’-রা। আমরা দেখে এসেছি আগে। এক সময় কালীঘাটে পৌঁছতে তীর্থযাত্রীরা যে পথে হাঁটতেন, সেখান থেকেই হাঁটা আরম্ভ করব। বিখ্যাত চিত্রেশ্বরী কালী মন্দির রয়েছে চিৎপুর রোডে।
চিৎপুর রোড
বিবাদী বাগের উত্তর-পূর্ব কোণ থেকে হাঁটা শুরু করুন। বৌবাজার স্ট্রিট এবং বিপিনবিহারী গাঙ্গুলি স্ট্রিট পেরিয়ে চলে যান লালবাজারে কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তরের সামনে। তারপর বাঁদিকে ঘুরে রবীন্দ্র সরণিতে ঢুকে পড়ুন। আজকের সফর এখান থেকেই শুরু। এক সময় চিৎপুর রোড ছিল কলকাতার ব্যস্ততম রাস্তা। যেহেতু খুব সরু, তাই পেভমেন্ট দিয়েই চলুন।
রাস্তার ধার দিয়ে সারি সারি দোকান। নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র – কোথাও কোথাও মেরামতের ব্যবস্থাও আছে। দোকানগুলোর উল্টোদিকে একটি পুরোনো বাড়ি। ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময় এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
আরও পড়ুন: কলকাতার সবচেয়ে পুরোনো রাস্তার গল্প
ইন্ডিয়া এক্সচেঞ্জ প্লেস এক্সটেশন ক্রসিংয়ে দেখতে পাবেন একের পর এক আসবাবের দোকান। তারপর ইলেকট্রিকাল সামগ্রীর দোকান রয়েছে পর পর। কলুটোলা এবং ক্যানিং স্ট্রিট যেখানে মিশেছে, অবাক হবেন সেখানে গিয়ে। সব রকম সাইজের জুতো পাওয়া যায়। দাম বেশ কম। আর রয়েছে স্থানীয় লোকেদের বানানো পরচুলা। সময় থাকলে নেড়েচেড়ে দেখুন। দারুণ অভিজ্ঞতা হবে।
নাখোদা মসজিদ
নাখোদা মসজিদ
কলুটোলা এবং ক্যানিং স্ট্রিটের সঙ্গম থেকেই নাখোদা মসজিদের মিনারগুলো চোখে পড়বে। কলকাতার সবচেয়ে বড়ো এই মসজিদ আগ্রার সিকান্দ্রায় অবস্থিত সম্রাট আকবরের সমাধিসৌধের অনুকরণে তৈরি। অর্থসাহায্য করেন আবদুর রহিম ওসমান। কচ্ছ উপকূলের কচ্ছি মেমন জামাত সম্প্রদায়ের লোক তিনি। জাহাজে চেপে বাণিজ্য করতেন দূরদূরান্তে। ‘নাখোদা’ শব্দের অর্থ ‘নাবিক’। মসজিদ নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল প্রায় দেড় কোটি টাকা। ১৯২৬ সালে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
মসজিদের প্রধান প্রার্থনাঘরে একসঙ্গে ১০ হাজার লোক বসতে পারেন। তিনটি বিশাল গম্বুজ রয়েছে। সবচেয়ে বড়ো দুটি মিনার প্রায় ১৫০ ফুট লম্বা। একটু ছোটো মিনার রয়েছে ২৫টি, যাদের উচ্চতা ১০০ থেকে ১২০ ফুটের মতো। প্রবেশদ্বার গ্রানাইটের তৈরি, ফতেপুর সিক্রির বুলন্দ দরোয়াজার মতো দেখতে খানিকটা।
নানা ধরনের দোকান রয়েছে মসজিদের চারপাশে। কেউ বিক্রি করছে সুগন্ধী আতর, কেউ বা চোখে লাগানোর সুরমা। কাবাবের মতো সুস্বাদু খাবারও পাবেন। কাছেই রয়্যাল হোটেল।শহরের অন্যতম সেরা বিরিয়ানি এবং চাপ পাওয়া যায়। বাজার ঘুরে দেখুন, হুঁকো থেকে শুরু করে গৃহস্থালির নানা জিনিস, পুজোর সামগ্রী – অনেক কিছুই পাবেন।
ফল পট্টি
ফল পট্টি
বাজার থেকে এবার ডান দিকে ঢুকে পড়ুন মদনমোহন বর্মন স্ট্রিটে। মেছুয়াবাজারের কাছেই রয়েছে ফল পট্টি – একেবারে খোলা জায়গায়। অবশ্যই নিলামে কেনাবেচা দেখবেন। ফলে ফলে কোমর পর্যন্ত ডুবে গিয়েছে লোকজনের। উঁচু চেয়ারে বসে নিলামদার দর হাঁকছেন। চারদিকে মানুষ আর ফলের সমুদ্র। প্রতিযোগিতায় পুরস্কার জেতার মতো ছবি তোলার উপকরণ এখানে পেয়ে যাবেন। বাড়ির জন্য ফল নিতে চাইলে নির্দ্বিধায় কিনে ফেলুন। কারণ অন্যান্য দোকান থেকে ১০ বা ১৫ শতাংশ কম দাম ফল পট্টিতে।
আজকের কলকাতা ভ্রমণ এখানেই শেষ করছি। আগামী পর্বের সফর একটু দীর্ঘ হবে। কলকাতার বিখ্যাত কয়েকটি ‘নেটিভ’ আবাস ঘুরে দেখব।
