ইহুদিদের সিনাগগে গেলে বোঝা যায় ধর্মীয় বাইনারির বাইরে কলকাতা আসলে বহুমতের সমন্বয়

লালদিঘীর পশ্চিম দিক দিয়ে নেতাজী সুভাষ রোড বরাবর বাঁয়ে জিপিও, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, পূর্ব রেলের হেডকোয়ার্টার আর ডাইনে রাইটার্স আর লায়ন্স রেঞ্জ পেছনে ফেলে আমরা চলেছি উত্তরদিকে। আমরা বলতে আমি, আমার মার্কিনি বন্ধু ডাঃ স্টিভেন ইমেট আর তাঁর জাপানি স্ত্রী ইউকি। আমাদের শহরের এমন একটি জায়গায় আমরা চলেছি, যেগুলোর অস্তিত্ব সম্পর্কে আমি নিজেই কোনোদিন জানতাম না!

– আচ্ছা, ইহুদি বলতে তোমার প্রথমেই কার কথা মনে পড়ে? শাইলক না আইনস্টাইন?

ইউকি আমার কাছে জানতে চাইলো। চোখে দুষ্টুমির হাসি।

– কাউকেই না, কারণ এই দুজনের একজনকেও আমি চিনি না।
– বেশ ! তা, তুমি কাকে চেনো?
– স্টিভ ইমেটকে!

আমাদের সমবেত হাসাহাসি। এরই মাস তিনেক আগে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো থেকে স্টিভ আমাকে লিখলেন, কলকাতায় যে যাব লেকচার দিতে, শহরের প্রাচীন সিনাগগগুলো না দেখে ফিরে আসা কি উচিত হবে? (কলকাতার ইহুদি উপাসনালয়)

স্টিভ মানে, প্রফেসর স্টিভেন ডি. ইমেট। ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার ত্বকবিভাগের অধ্যাপক। আমার তো মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। সিনাগগ! সেটা যেন কী? কলকাতায় আছে? কোথায়? মনে পড়লো শঙ্খ ঘোষের সেই অমর উচ্চারণ, “এ কলকাতার মধ্যে আছে আর একটা কলকাতা”। কিন্তু এ কলকাতাকে তো আমিই চিনি না। অতিথিকে নিয়ে যাবো কী করে? (কলকাতার ইহুদি উপাসনালয়)

কোহেন ছিলেন একটি সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা আর তাঁর হাত ধরেই কলকাতায় ইহুদি সম্প্রদায়ের স্থায়ী বসতির সূচনা। ১৮৩১ সালে এই শালোম অ্যারন ওবাদিয়া কোহেন তাঁর পিতা শালোম হা-কোহেন-এর স্মৃতিতে নির্মাণ করেন নেভেহ শালোম সিনাগগ। এটিই কলকাতার প্রথম ইহুদি উপাসনালয়।

খবর নিতে গিয়ে প্রথম গেলাম নিউ মার্কেটের নাহুমের দোকানে। তাঁরা জানালেন কলকাতায় ইহুদি সম্প্রদায়ের অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি এম. এইচ কোহেনের অনুমতি লাগে সিনাগগে যেতে। ই-মেইল করে অনুমতি নিতে হবে। মেইল করলাম। উত্তর দিলেন জো কোহেন।

সামনে ইন্ডিয়া এক্সচেঞ্জের মোড়। শীত সকালের মিঠে রোদ পড়েছে এক্সিস ব্যাঙ্কের সামনে। সেখানে রাস্তাটা দু-ভাগ হয়ে গেছে। ডান দিকের রাস্তাটা ডঃ রাজেন্দ্রপ্রসাদ সরণি। সেটা দিয়ে কিছুটা গিয়ে ডান দিকে ক্যানিং স্ট্রিট। পাশের রাস্তাটি ইন্দ্রকুমার কর্ণনি স্ট্রিট আর তার পাশেই সিনাগগ স্ট্রিট।

স্টিভ এক আশ্চর্য মনের মানুষ। সারা পৃথিবীর এমন কোনো দেশ নেই যেখানে তাঁর পা পড়েনি। উদারমনা, যুদ্ধবিরোধী। ইহুদিদের নিয়ে অগাধ জ্ঞান, কিন্তু কোনো সাম্প্রদায়িক আদিখ্যেতা নেই। যাওয়ার আগে স্টিভের সঙ্গে কথা বলে আর কিছু পড়াশোনা করে নিয়ে যেটুকু বুঝলাম তা হলো এই রকম – কলকাতার বিখ্যাত তিনটি সিনাগগ এই অঞ্চলেই। নেভেহ শালোম (১৮৩১), বেথ-এল (১৮৫৬) আর ম্যাগেন ডেভিড (১৮৮৫)। স্টিভ জানালেন, আরও নাকি দুটি সিনাগগ ছিল। ম্যাগেন অ্যাবথ (১৮৯৭) এবং শারে রাসন (১৯৩৩)। ব্ল্যাকবার্ন লেনের ম্যাগেন অ্যাবথ সিনাগগটি আজ আর নেই, ধ্বংস হয়ে গেছে। শারে রাসনও বন্ধ হয়ে গেছে।

সত্যি বলতে কি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের দানবীয় ইহুদি গণসংহার আর পরের দশকগুলোয় ইজরায়েলিদের অমানুষিক আরব গণসংহার ছাড়া ইহুদিদের বিষয়ে আমি খুব একটা কিছু জানতামও না। শালোম অ্যারন ওবাদিয়া কোহেন নামে এক ইহুদি জহরত ব্যবসায়ী বাগদাদ, হিল্লাহ এবং বসরা হয়ে ভারতে আসেন ১৭৯১ সালে। প্রথমে গুজরাতের সুরাটে। সেখানে বাণিজ্যে সাফল্য পাওয়ার পর তিনি বম্বে, কোচিন, মাদ্রাজ এবং হুগলি হয়ে অবশেষে কলকাতায় আসেন। কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাসকারী প্রথম নথিভুক্ত ইহুদি ছিলেন এই শালোম অ্যারন ওবাদিয়া কোহেন।

স্টিভ অবশ্য জানালেন এই কোহেনের কলকাতায় আসার আরও এক দশক আগে শহরে লিয়ন প্রাগার নামে একজন ইহুদি বণিক ১৭৮৬ সালে কলকাতায় এসেছিলেন। তবে, কোহেন ছিলেন একটি সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা আর তাঁর হাত ধরেই কলকাতায় ইহুদি সম্প্রদায়ের স্থায়ী বসতির সূচনা। ১৮৩১ সালে এই শালোম অ্যারন ওবাদিয়া কোহেন তাঁর পিতা শালোম হা-কোহেন-এর স্মৃতিতে নির্মাণ করেন নেভেহ শালোম সিনাগগ। এটিই কলকাতার প্রথম ইহুদি উপাসনালয়।

এটি মূলত একটি আবাসিক ভবন ছিল, যা পরে প্রার্থনালয়ে রূপান্তরিত করা হয়। এই ভবনটি ছিল তৎকালীন ক্যানিং স্ট্রিট ও ব্রেবোর্ন রোডের সংযোগস্থলে যেখানে আজ ম্যাগেন ডেভিড সিনাগগ। এই এলাকায় সে সময়ে বহু বাগদাদি ইহুদি থাকতেন। এই এলাকাতেই বেথ-এল সিনাগগ গড়ে ওঠে ১৮৫৬ সালে। ১৮৮৩ সালে প্রাচীন নেভেহ শালোম ভেঙে ফেলা হয় এবং তার জায়গায় শুরু হয় বিশালাকার ম্যাগেন ডেভিড সিনাগগ। এলিয়াস ডেভিড এজরা তাঁর পিতা ডেভিড জোসেফ এজরার স্মৃতিতে নির্মাণ করেন এই সিনাগগ। কলকাতার ইহুদি ঐতিহ্যের এক অনন্য রত্ন এই স্থাপনাটি। ব্রেবোর্ন রোডে অবস্থিত এই সিনাগগ ইতালীয় রেনেসাঁ ধাঁচের স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত, যার শীর্ষে দৃষ্টি-নন্দন ১৪২ ফুট উঁচু সুউচ্চ চূড়া এবং লন্ডন থেকে আনা এক বিশেষ ঘড়িঘর।

ভেতরে ঢুকে চোখে পড়ল রঙিন কাচের জানালা, সাদা-কালো চেকার্ড মার্বেল মেঝে, প্যারিস থেকে আনা নকশা খচিত ফুলেল স্তম্ভ, ঝলমলে ঝাড়বাতি, এবং বহু পুরোনো ছবি ও নথিপত্র। এই সিনাগগ কলকাতার সেকালের প্রাণবন্ত বাগদাদি ইহুদি সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক অবদানের উজ্জ্বল প্রমাণ। ১৯১১ সালে ম্যাগেন ডেভিডের পাশের ৯, জ্যাকসন লেনে দ্বিতীয় ও বৃহত্তর নেভেহ শালোম সিনাগগ পুনর্নির্মাণ শুরু হয় এবং পরের বছরেই কাজ সম্পূর্ণ হয়। ভোর থেকে শহরের এমন সব জায়গায় ঘুরলাম, যেগুলোর অস্তিত্ব সম্পর্কেই আমি আগে কোনোদিন জানতাম না!

স্টিভ আমাকে একটা আভাস দিয়েছিলেন আগেই, তবে জেনে এবং সামনাসামনি দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেলাম, এই তিনটি ইহুদি সিনাগগের সমস্ত কর্মচারীই আসলে মুসলমান! প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁরাই এই ঐতিহ্য বহন করে চলেছেন। শুধু অবাক করা নয় এই ব্যাপারটি অবিশ্বাস্য এবং সত্যিই হৃদয়ছোঁয়া। ম্যাগেন ডেভিডে কর্মরত আলওয়ার খান, রাবুল, ইব্রাহিম— আর তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে প্রবীণ মোহাম্মদ খালিল, যিনি টানা ছয় দশক বছর ধরে কাজ করছেন। আরও আছেন সিরাজ খান, অসিম এঁরা প্রত্যেকেই এই ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানে ধর্মের বিভাজনরেখা একেবারেই অচল, অপ্রাসঙ্গিক, অর্থহীন। বংশানুক্রমিক ভাবে এই আনওয়ার খান, মাসুদ হোসেন, মহম্মদ খলিল, সিরাজ খান, ওসিম, আলোয়ার খানেরা কলকাতায় ইহুদিদের প্রাচীনতম সিনাগগগুলি বুক দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ করেন।

না। এঁরা আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের খবরও রাখেন না। ওঁদের কাছেই শুনলাম এই তিনটি সিনাগগের কোনোটিতেই নিয়মিত শনিবারের সাপ্তাহিক ধর্মীয় সম্মেলন আর সম্ভব হয় না। কারণ সম্মেলনের জন্য প্রয়োজনীয় দশ জন সদস্য আর আসতে পারেন না। সিরাজ আমাদের নিয়ে গেল পাশের আর্মেনিয়ান চার্চে। উপলব্ধি করলাম, ধর্মীয় বিভাজনের কৃত্রিম দাগগুলো আসলে কতটা অপ্রয়োজনীয় আর কৃত্রিম। এই সিনাগগগুলি কেবলমাত্র স্থাপত্যের জাঁকজমকে মোড়া ধর্মীয় উপাসনাস্থলই নয়, কলকাতার বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক অতীতের এক অনন্য নিদর্শন।

ধর্মীয় বাইনারির বাইরে কলকাতা যে বহুমতের সমন্বয় সেটা এখানে আসলেই বোঝা যায়। আজকের পৃথিবীর এই অর্থহীন ভ্রাতৃঘাতী হানাহানি এই শহরে এসে যেন হারিয়েছে তার মারণশক্তি। বহু ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্ম এসে মিশেছে এই শহরের পথে। যত মত তত পথ, এই মন্ত্রের উদগাতাও যে এই মাটিতেই হেঁটেছেন তাতে আর আশ্চর্য কী? আর্মেনিয়ান চার্চের বয়স আজ তিনশো পেরিয়ে গেছে। চার্চ প্রাঙ্গণে কিছু সমাধি আছে সপ্তদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের। সরকারিভাবে কলকাতার পত্তনেরও অন্তত ষাট-সত্তর বছর আগের।

এই তিনটি ইহুদি সিনাগগের সমস্ত কর্মচারীই আসলে মুসলমান! প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁরাই এই ঐতিহ্য বহন করে চলেছেন। শুধু অবাক করা নয় এই ব্যাপারটি অবিশ্বাস্য এবং সত্যিই হৃদয়ছোঁয়া।

সিনাগগ দর্শনের আগে মিসেস কোহেনের সঙ্গে ফোনে বেশ কয়েকবার কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। তখনই জানতে পারি মর্ডিকাই হাইম কোহেনের কথা। সে এক রূপকথার গল্প যেন। উনিশ শতকের মাঝামাঝি ইরানের ইস্পাহান থেকে ঢাকা হয়ে রাজশাহীতে থিতু হয়েছিলেন কোহেন পরিবার। তবে মা কলকাতার ইহুদি বলে মর্ডির জন্ম বউবাজারে। কিন্তু ইস্কুল, কলেজ রাজশাহীতে। নিজেকে বলতেন বারেন্দ্র জ্যু। ঢাকার প্রথম টিভি ঘোষক এবং সংবাদ পাঠক মর্ডি। তখন অবশ্য পাকিস্তান টিভি-র যুগ। দেশ স্বাধীন হবার পর ঢাকায় টিভি-র প্রথম শব্দটা বাংলায় মর্ডিই উচ্চারণ করেছিলেন। মিসেস কোহেন বলতেন, মর্ডির ছুটি হয়ে গেলে একদিন আসবেন কিন্তু, দেখবেন খুব ভালো লাগবে। খুব বাংলা পড়তে ভালোবাসে। সারাদিন বাংলা গান শোনে।

পরে এক প্রথমসারির সংবাদপত্রে ঋজু বসুর লেখায় পড়েছিলাম, “কী চোখে তোমায় দেখি বোঝাতে পারিনি আজও হয়তো, এ দেখাই শেষ দেখা নয় তো!’ খোলা গলায় মান্না দে ধরলেন মর্ডিকাই হাইম কোহেন, কলকাতার শেষ ইহুদিদের এক জন। মারণ কর্কট রোগে ৭৪ বছরের প্রবীণের শরীরটা তখন প্রায় ঝাঁজরা…প্রস্টেটের ক্যানসার ধরা পড়েছিল, ফোর্থ স্টেজে। যন্ত্রণায় তখন নুয়ে পড়ছে শরীরটা। কিন্তু মর্ডির জীবন থেকে সুর কেড়ে নিতে পারেনি। রোগশয্যায় তাঁর সঙ্গী শরৎচন্দ্রের কোনও বই। আর সারাক্ষণ গুনগুন চলছে। রেডিয়েশন নিতে হাসপাতালে এলে রোগী নিজেই ডাক্তারকে গানের টানে কাবু করতেন। কেবিনে তাঁদের ঘিরে তখন মান্না, হেমন্ত, মানবেন্দ্র, শ্যামল, কিশোর, ধনঞ্জয়রা…, ‘আরে বাবা, রাজশাহীকে বরেন্দ্রভূমি বলে জানো তো! ওখানেই আমার স্কুল, বড়ো হওয়া, সব।’ তখন শাহবাগ আন্দোলন ঘিরে উত্তাল বাংলাদেশ। সেই প্রসঙ্গ টেনে বললেন, ‘‘কী যেন স্লোগানটা! পদ্মা, মেঘনা, যমুনা/ তোমার আমার ঠিকানা! আমি তো বাংলা মাধ্যমেই পড়েছি। সবটা আমার সঙ্গে মিলে যায়, বুঝলে!’’ বারেন্দ্র বংশপরিচয় আর রাজশাহীর সঙ্গে একটা ছিঁড়ে যাওয়া নাড়ির টান ছাড়া কোহেনদের বাড়িতে এমন একটি অযাচিত এবং অভাবনীয় প্রবেশাধিকারে আর কোনোই কারণ ছিল না।

অবশেষে শ্রীমতী কোহেনের সঙ্গে দেখাও হয়েছিল সেই অলৌকিক সকালেই। পার্ক স্ট্রিটে জুইশ গার্লস স্কুলে ওঁর ঘরে। আবার চমক। কলকাতায় যে বিশাল সবুজ মাঠওয়ালা এমন একটি জ্যুইশ গার্লস স্কুল আছে কে জানতো! সেখানে ছাত্রীরা অবশ্য কেউই ইহুদি নয়। প্রধানত মুসলমান আর অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান। জো কোহেন সকালে হাসপাতালের ভিজিটিং আওয়ারে মর্ডিকে দেখে এসেছেন। আমি আমার মার্কিনি জ্যু দম্পতি বন্ধুকে নিয়ে গিয়ে হাজির হলাম। শান্ত, সৌম্যা শ্রীমতী কোহেনের সহজ আভিজাত্যে একটা সমীহ জাগানো ভাব আছে। মর্ডি কোহেনকে নিয়ে অনেক কথা হল। শুনলাম এখন আগের চেয়ে একটু ভালো। ছুটি দেওয়ার কথা ভাবছেন ডাক্তাররা। বাংলা-গান-পাগল সেই ইহুদির জীবন জুড়ে বাঙালিয়ানার আশ্চর্য উদ্ভাস। শুনলাম সিরাজউদ্দৌলা, সাগিনা মাহাতো-য় তাঁর অভিনয়ের কথা। ইজরায়েল যাবার গল্প, জিন্দাদিল মানুষটার রসবোধের আর পরিহাসপ্রিয়তার গল্প। আমরা চার জনেই খুব হাসছিলাম। এমন সময় একটা ফোন এল। জো কোহেন নিচু গলায় কথা বললেন। ফোন রেখে আধ মিনিট চুপ করে থাকলেন। তারপর একটা ঘন্টি বাজিয়ে সহকারিকে ডেকে আমাদের চা-কফি দিতে বললেন। তারপর সম্পূর্ণ স্বাভাবিক গলায় পূর্ণ দৃষ্টিতে আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন,

– আই অ্যাম সরি, আই’ল হ্যাভ টু লিভ, মর্ডি কোহেন ইজ নো মোর। ওর ছুটি হয়ে গেছে।

দিনটা, ঋজু যেমন লিখেছে ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৫। ১৭৯৮-এ বাগদাদ থেকে শহরের প্রথম ইহুদি ব্যবসায়ী শালোম অ্যারন ওবাদিয়া কোহেন  এসেছিলেন এই শহরে। তার দুশো সতেরো বছর পর নিভে গেলেন কলকাতার বহুমাত্রিক ধার্মিক সমন্বয়ের এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীকস্বরূপ এক আশ্চর্য আলোকময় পুরুষ মর্ডিকাই হাইম কোহেন।

বারেন্দ্র জ্যু। যাঁর সঙ্গে আমার কখনও দেখা হয়নি।

____________

ছবি লেখকের নিজস্ব

তথ্যসূত্র: ১। উইকিপিডিয়া 
২। https://thespace.ink/essays/history-heritage/the-synagogues-of-kolkata/
৩। https://indianvagabond.com/2018/02/26/synagogues-of-kolkata/?amp=1
৪। https://www.anandabazar.com/rabibashoriyo/mordechai-cohen-last-jews-of-kolkata-who-had-an-excessive-bong-connection-1.765155#

Written by