
২০০ সিটের এই ক্যাফেতে বর্তমানে ২০টি বেডের আয়োজন করা হয়েছে
দার্জিলিং শহরের ১৩০ বছরের পুরোনো গ্লেনারিস ক্যাফে কোভিড রোগীদের জন্য আইসোলেশন সেন্টার করার ব্যবস্থা করেছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। ক্যাফের বর্তমান মালিক অজয় এডওয়ার্ডস বলেছেন, এই যুদ্ধ কারোর একার নয়, প্রত্যেকের। তাই এইরূপ সিদ্ধান্ত। তিনি আরও জানিয়েছেন, “রেস্তোরাঁর উপরের তলার পুরোটা রোগীদের জন্য ছেড়ে দিচ্ছি। বেসিক অক্সিজেন, ওষুধ, খাবারের সুবিধা থাকছে। সবটা আমরা বিনামূল্যেই করছি।”
৩ মে রাজ্য সরকার একটা নোটিশে জানিয়েছিল, সামাজিক সংগঠনগুলোকে এক হতে হবে৷ দরকারে কোভিড রোগীদের পাশে থাকতে হবে। গ্লেনারিস ক্যাফে সেই পথেই হাঁটল। অজয় এডওয়ার্ডস জানিয়েছেন, তাঁরা জেলার সমস্ত কোভিড হাসপাতালগুলি নজরে রাখছেন। কোনো জায়গায় একান্তই বেড পেতে সমস্যা হলে তাঁদের জন্য খোলা রয়েছে গ্লেনারিস।
এডওয়ার্ডস এবং তাঁর পরিবার পরিচালিত এই আইসোলেশন সেন্টার পরিকল্পনার পাশে রয়েছে দার্জিলিং ইনিশিয়েটিভ এবং প্ল্যান্টার্স হাসপাতাল। ২০০ সিটের এই ক্যাফেতে বর্তমানে ২০টি বেডের আয়োজন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য দফতর জায়গাটি পরিদর্শন করে গেছেন। প্রয়োজনে বেডের সংখ্যা দ্বিগুণ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ক্যাফে কর্তৃপক্ষ। সব ঠিক থাকলে আগামী বুধবার থেকে চালু হয়ে যাবে এই আইসোলেশন সেন্টার।
গ্লেনারিসে মোট তিন তলা। একতলায় রেস্টো বার। দোতলায় বেকারি এবং তিনতলায় রেস্তোরাঁ। বেকারি খোলা থাকবে প্রত্যেকের সুবিধার্থে। কিন্তু তিনতলার পুরোটা সিল করা হয়েছে কোভিড রোগীদের জন্য। এই একই বিল্ডিংয়ে থাকে এডওয়ার্ডসের পরিবারও।
যথাসম্ভব অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর আগেও গ্লেনারিস সাধারণ মানুষদের পাশে থেকেছে। গতবছর লকডাউনে গ্লেনারিসে যেটুকু খাবার অবশিষ্ট ছিল, তা পৌঁছে গিয়েছিল স্থানীয় নিঃসহায় মানুষদের হাতে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই খাবারগুলি তাঁরা মানুষের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। তাঁরা বলেছিলেন, প্রত্যেকেই যদি দৈনন্দিন খাবার থেকে কিছুটা বাঁচিয়ে আশ্রয়হীন, ভবঘুরে মানুষদের দেন, তাহলে এই অসময়ে কিছুটা রক্ষা পাবে সবাই।
আরও একবার অতিমারী পরিস্থিতিতে আর্ত মানুষের পাশে দাঁড়ালো গ্লেনারিস। দার্জিলিংপ্রেমী মানুষরা জানেন, ১৩০ বছরের ঐতিহ্যবাহী গ্লেনারিসের কথা। দার্জিলিং ঘুরতে এসেছেন, অথচ গ্লেনারিসের কন্টিনেন্টাল খাবার, চা, কফি খাননি, তেমন মানুষ হাতে গোনা।
