এই ছবি বাতিল অনুভূতিদের ‘ফেয়ারওয়েল’
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এমন এক কথকতার নায়ক, যাঁর সব লেখালেখি, সমস্ত যাপনের সঙ্গে একদিকে মিশে থাকে চরম বাস্তব, অন্যদিকে যত্নে বেঁচে থাকে স্বতন্ত্র মন। দেশভাগের দুর্দশার শরিক ছিলেন মানিক ও তাঁর পরিবার। সেই দুর্দশার সূক্ষতম অনুভূতিগুলো ধরা আছে তাঁর সাহিত্যকর্মে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় যে সময়ে লিখছেন, তাঁর লেখায় বারবার উঠে এসছে এপার বাংলা-ওপার বাংলা। সেখানে কোনও ভাগাভাগি নেই, ভাঙনের মধ্যেও অসম্ভব জুড়ে থাকা আছে, শ্রমজীবী-সর্বহারার কান্না নিয়েই বেঁচে থাকার তীব্র ইচ্ছে আছে। সরীসৃপ (১৯৩৯) গল্পগ্রন্থের ‘বিষাক্ত প্রেম’ এবং লাজুকলতা (১৯৫৩) গল্পগ্রন্থের ‘সুবালা’ তারই অন্যতম দুটি নিদর্শন। আর এই দুটি গল্পকেই চলচ্চিত্র-ভাষায় সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে ফিরিয়ে এনে, রীতিমতো একটা কাণ্ড ঘটিয়েছেন পরিচালক ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী। দুই বাংলা একত্রে এনে, একই দিনে দুই দেশে ছবি মুক্তির মতো ঘটনা ঘটানো, দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ তো বটেই। ২০২০ সাল থেকে ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী পরিচালিত, ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার (জসীম আহমেদ ও ফ্লিপবুক প্রযোজিত) ‘মায়ার জঞ্জাল’ ছবিটি একাধিক চলচ্চিত্র উৎসব ঘুরে বেড়িয়ে অবশেষে ২০২৩-এর ২৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেয়েছে দুই দেশে।
‘মায়ার জঞ্জাল’ বিনোদনের কথা ভেবে বা সহানুভূতি কুড়ানোর জন্যে বানানো নয়। ছবিতে চমকে দেওয়ার মতো তেমন কোনও উপাদান নেই। খুঁজলে খুঁতও পাওয়া যাবে। এই ছবি আসলে বাতিল হয়ে যাওয়া অনুভবের, আদর্শের – আজ যা বস্তাপচা সেন্টিমেন্ট বা ‘মায়ার জঞ্জাল’। একদিন হয়তো মায়ার জঞ্জালে পরিণত হবে এই ভাষাও, যে ভাষায় আমি লিখছি। মায়ার জঞ্জাল প্রতি মুহূর্তে আপনাকে মনে করিয়ে দেবে সামাজিক বা মানবিক ছন্দপতনের আওয়াজ।
১৯৪৪ সালে “কেন লিখি” নামে একটি সংকলন বেরিয়েছিল ফ্যাসিস্টবিরোধী লেখক ও শিল্পীসংঘের পক্ষে। সংকলনটির সম্পাদক ছিলেন হিরণকুমার সান্যাল ও সুভাষ মুখোপাধ্যায়। “কেন লিখি”-তে মানিক লিখেছিলেন, ‘লেখা ছাড়া অন্য কোনো উপায়েই যে-সব কথা জানানো যায় না, সেই কথাগুলি জানাবার জন্যই আমি লিখি।’ ঠিক যেমন ঋত্বিক ঘটক তাঁর সিনেমা বানানো নিয়ে ভাবতেন। এবং আমার মনে হয়, ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী এই বোধ থেকেই ‘মায়ার জঞ্জাল’ নির্মাণ করেছেন। কারণ ছবিতে তিনি এমন কিছু জিনিস বা অস্বিত্বকে ‘Prop’ হিসেবে ব্যাবহার করেছেন, সময়-সমাজ-মননে যেগুলির অবস্থান ‘ব্ল্যাক লিস্টেট’ অথবা স্পর্শকাতর।

ছোটোবেলার খামখেয়ালি জীবনভর লালন করা বড়ো সহজ কথা নয়। তবু জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই এটি বিপর্যয়ের কারণ হলেও এর মস্ত সুবিধেও আছে। তা হল মনের কাছে চিরকাল সৎ থাকা। সবাই অবশ্য তা পারেন না, জীবনের জোয়াল ঠেলতে ঠেলতে অনেকেই পিছিয়ে আসেন, হেরে যায় ইচ্ছে।
এ বছর কলকাতার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গানের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসছিল বাংলা ব্যান্ড ‘সোনার বাংলা সার্কাস’। মঞ্চে তাঁদেরকে স্বাগত জানানো হয়েছিল এই বলে, যে তাঁরা ‘সুদূর বাংলাদেশ’ থেকে এসেছেন। ব্যান্ডের মূল কণ্ঠশিল্পী প্রবর রিপন সেদিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেন “আমরা কোনও ‘সুদূর’ বাংলাদেশ থেকে আসিনি। ব্রিটিশদের কারসাজিতে দুই বাংলার ভাগাভাগি হয়েছিল। এই ভাগাভাগি আমি মানি না। আমরা মানুষ। আমরা সবাই সূর্য থেকে এসেছি।” ‘মায়ার জঞ্জাল’ নিয়ে লিখতে বসে মনে পড়ে যাচ্ছিল এই কথাগুলোই। বাংলাদেশ, চলচ্চিত্রে সমসাময়িক বাংলা ছবির অবস্থান, দুই বাংলাকে একসঙ্গে এনে ছবি বানানো – এই সবকিছু নিয়েই মন খুলে কথা বললেন, পরিচালক ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী।
এর আগে জয়া এহসানের সঙ্গে কাজ করেছিলেন, এখন অপি করিমের সঙ্গে কাজ করলেন। সোহেল, মুস্তাফিজও আছেন। এটা কি বাংলাদেশের প্রতি অমোঘ টান থেকে? ভারত-বাংলাদেশের অভিনেতারা এভাবেই জুড়ে থেকে কাজ করলে অসুবিধা কোথায়, হয় না কেন?
বাংলাদেশের শিল্পীদের সঙ্গে আমি আগেও কাজ করেছি কিন্তু এই ছবিটা যেহেতু যৌথ প্রযোজনার ছবি, তাই নিয়ম মেনে দুই বাংলার শিল্পীদের সংখ্যায় একটা সামঞ্জস্য থাকাটা খুব জরুরি ছিল। মুস্তাফিজ শাহিনের নাম করলেন আপনি, এই ছবিতে বাংলাদেশের অভিনেত্রী ওয়াহিদা মল্লিকও রয়েছেন, যিনি ঋত্বিকের মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। বাংলাদেশের অভিনেতাদের নিয়ে আমার মূল বক্তব্য হল এই, যে ওখানকার থিয়েটারের অবস্থানটা বেশ শক্তিশালী দীর্ঘদিন ধরেই। ওখানে দক্ষ ও জনপ্রিয় বহু থিয়েটার-গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। স্বাভাবিক ভাবেই ক্রমাগত এই থিয়েটার বা টেলি-নাটকের কারণে ভালো অভিনেতা ওদেশে এমনিই তৈরি হয়ে গিয়েছে। তাই সেইসব অভিনেতাদের নিজের ছবিতে ব্যবহার করার একটা লোভ তো থাকেই। যৌথ প্রযোজনা হলেও থাকে, না হলেও থাকে, ভবিষ্যতেও থাকবে। এখানে বাংলাদেশের বহু অভিনেতা কাজ করছেন, আমাদের এখানকার অভিনেতারা ওখানে যাচ্ছেন।
শুধু অভিনেতা বলে নয়, যত রকম ভাবে ‘collaboration’ করা যায়, করতে হবে। এই collaboration না বাড়লে সম্মিলিত বাংলা ছবির যে নির্মাণ, তা সম্ভব হবে না। দরজা বন্ধ করে বসে থাকলে কিছুই হবে না। এই দরজা খুলতে একটু সময় লাগে কারণ দরজা খোলা নিয়ে মানুষের মনে নানারকম আশঙ্কা কাজ করে। তবে মনের দরজা খোলা রাখলে এইসব আশঙ্কা অমূলক বলেই মনে হয়। তাই ভবিষ্যতেও আমি বাংলাদেশের অভিনেতাদের নিয়ে কাজ করবো। যদি কখনো ওদেশে গিয়ে ছবি বানানোর সুযোগ আসে, সেখানেও দুই বাংলার অভিনেতাদের নিয়ে কাজ করার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো।
দুই বাংলায় একসঙ্গে রিলিজ হল আপনার ছবি, পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি?
হ্যাঁ, যৌথ প্রযোজনার ছবি মাত্রই তা সরকার বা প্রশাসনের বিভিন্ন নিয়মের আওতায় এসে পড়ে। দুই দেশেরই কিছু সরকারি নিয়ম কানুন আছে। কাগজপত্র, পেপার ওয়ার্ক, কিছু ব্যুরোক্রেসি –ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। কাজেই সেই লাল ফিতের ফাঁস আছে। সময় লাগে। কাজটা কঠিন কিন্তু অসম্ভব কিছু নয়। কঠিন বলে অনেকেই ভয় পায়, আমরাও যে ভয় পাইনি এমনটা নয়, অপেক্ষা করতে হয়। উল্টোদিকে এর ভালো দিকটাও তো দেখতে হবে। তাই আমার মনে হয় যৌথ প্রযোজনার ছবি আরও জনপ্রিয় হওয়া উচিত। ব্যাপারটা হল যৌথ প্রযোজনার ক্ষেত্রে যদি দুই দেশের শিল্পীরা সরকারের সঙ্গে কথা বলে প্রক্রিয়াগুলোকে বাস্তবসম্মত ও সরলীকরণ করেন তাহলে দুই দেশের সিনেমা-ইন্ডাস্ট্রিরই লাভ। এই কথাটা আমরা বুঝতে চাই না। সমস্যা দুই দেশেই আছে, সেগুলো কাটলে দু দেশেরই মঙ্গল।

ফড়িং-এর অনেক বছর পর আবার বড়োপর্দায় আপনার ছবি মুক্তি পেল। মাঝে কাজ করলেও তা বড়োপর্দার জন্য তৈরি হয়নি। এর কারণ কী?
হ্যাঁ, আমার ছবির সংখ্যা খুবই কম। এর অনেক কারণ আছে। আমি নিজেও বেশ আলসে, সেটাও একটা বড়ো কারণ। আমি অত তাড়াতাড়ি কাজ করি না, পারি না। ইন্ডাস্ট্রির যে দক্ষতা তার অভাব আছে হয়তো আমার। আবার এটাও সত্যি যে আমার কাজের কিছু পদ্ধতি আছে, কিছু শর্ত আছে। আমি বানিজ্যিক কাজ করি, তখন সেই শর্তগুলো অন্যরকম থাকে আবার যখন ছবি বানাই তখন ওটা আমার আত্ম-পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে। সেখানে কাজের বিষয়, প্রক্রিয়া, পদ্ধতি নিয়ে আমি যদি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ না করি, সেক্ষেত্রে কাজ করতে সমস্যা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে এরকমও হয়েছে যে একটা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কিন্তু অস্বস্ত্বির কারণে আমি সেটা থামিয়ে দিয়েছি। এক্ষেত্রে প্রযোজকদের একটা ভূমিকা থাকে। এক্ষেত্রে আমি সেরকমই প্রযোজক বাছবো, যিনি আমায় শুধু টাকা দেবেন না, সবরকম স্বাধীনতা দেবেন। ভালো কাজ করতে সময় তো লাগেই। যাঁরা এখন প্রযোজকদের চাপে পড়ে বছরে দশটা কাজ করেন, ভবিষ্যতে সেইসব ছবির চিহ্ন থাকে না বলেই আমার ধারণা।
ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র জগতে ‘এক্সপেরিমেন্টাল’ ছবি প্রাধান্য পাবে আর তুলনায় ‘ন্যারেটিভ’ ছবি গুরুত্ব হারাবে, মানে ‘মায়ার জঞ্জাল’ হয়ে উঠলে বিষয়টা কীভাবে দেখবেন?
‘মায়ার জঞ্জাল’ এক্সপেরিমেন্টাল ছবি নয়। এর নির্দিষ্ট গল্প রয়েছে, সাধারণ দর্শকদের কথা মাথায় রেখেই বানানো। এই ছবিতে গল্পের একটা স্তর আছে আবার গল্পের বাইরেও অনেক স্তর আছে। যে মনে করবে ছবিটা গল্পের ভেতর দিয়ে দেখবো, সে দেখবে। আবার যে ভাববে আমি গল্প থেকে বেরিয়ে এসে একটু অন্য ভাবে দেখবো, সে সেভাবেই দেখবে। কিন্তু আবেগ বা অনুভূতিগুলোর জায়গায় কারোর এ ছবি ছুঁতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কারণ এই ছবির গল্প আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকেই নেওয়া, যে মানুষগুলোর কথা বলা হয়েছে, সেই মানুষগুলোকে আমরা চিনি। সমস্যা হল বাংলা ছবিতে আমরা নিয়মিত এগুলো দেখতে পাই না হয়তো। এমনকী এই মুহূর্তে তারকোভস্কির একটা কথা মনে পড়ছে, এক্সপেরিমেন্টের দোহাই দেওয়াটা একটা বাজে অজুহাত। ছবির গায়ে যদি এক্সপেরিমেন্টের গন্ধ লেগে থাকে, তাহলে সেটা আধাখেঁচড়া রান্না হয়েই থেকে যায়। অনুভূতিটাই এখানে আসল।
দুই বাংলায় স্বাধীন চলচ্চিত্রের বাজার এই মুহূর্তে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে?
বলাই বাহুল্য খুব ভালো জায়গায় নেই। এখনও আমরা দরজা বন্ধ করে রেখেছি। এখনও ভেবে যাচ্ছি ‘আমরা’ ‘ওরা’ এইসব নিয়ে। বাংলাদেশের একটা বৃহৎ অংশও তাই ভাবছে হয়তো। এটা খুব দুঃখের কারণ, এই ভাবনা সমাজ-রাজনীতি-বাণিজ্যে কোথাও কাজে দেয়নি। এই বিভাজন পদ্ধতি চলচ্চিত্র জগতে কীভাবে কাজে দেবে! স্বাধীন চলচ্চিত্রের বাজার দু’দেশেই দুর্বল কিন্তু বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে, দু’দেশের স্বাধীন চলচ্চিত্রনির্মাতারা যদি হাত মেলায়, তাহলে বিষয়টা শক্তপক্ত হয়।

অপি করিম

সোহেল মণ্ডল
পরিচালক মহাশয় যা বলার বললেন, আবার ফিরে আসি ‘মায়ার জঞ্জাল’ প্রসঙ্গে। পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, চান্দ্রেয়ী ঘোষ, ব্রাত্য বসু, ঋত্বিক চক্রবর্তী, সোহেল মণ্ডল, কমলিকা ব্যানার্জি, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, অপি করিম, মুস্তাফিজ শাহিন, অমিত সাহা, দীপক হালদার, শাওলি চট্টোপাধ্যায় – ‘মায়ার জঞ্জাল’-এ যাঁরা অভিনয় করেছেন প্রত্যেকেই গুণী অভিনেতা কিন্তু যাঁর কথা আলাদা করে বলতে চাইছি, তিনি অপি করিম। বহু বছর পর বড়ো পর্দায় ফেরার সুবাদেই হয়তো একজন অভিনেতার খিদেটা তাঁর ভিতরে আলাদা ভাবে কাজ করেছিল। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সুবালা’র মতো সংসার-সন্তান সামলাতে ছেলে কোলে ভিড় বাসে চড়ে, রাস্তায় গামছা পেতে ভিক্ষে করে না সে। এখানে সে ‘সোমা’। সে যায় আকাশছোঁয়া বিশালাকার একটি ফ্ল্যাটে, এক বৃদ্ধের আয়া + পরিচারিকা হিসেবে। শুধু তিনটে জিনিসে তাদের মিল; দুর্ভাগ্য, অভাব আর ভালোবাসা। শারীরিক পরিভাষা, মেকআপ, অভিনয় সব মিলিয়ে অপি এই ছবির সম্পদ। এই ছবির সম্পদ সুমিত ঘোষের সম্পাদনা ও প্রবুদ্ধ ব্যানার্জী’র সংগীত-ভাবনাও।
পরিশেষে বলি, ছোটোবেলার খামখেয়ালি জীবনভর লালন করা বড়ো সহজ কথা নয়। জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই এটি বিপর্যয়ের কারণ হলেও এর মস্ত সুবিধেও আছে। তা হল মনের কাছে চিরকাল সৎ থাকা। সবাই অবশ্য তা পারেন না, জীবনের জোয়াল ঠেলতে ঠেলতে অনেকেই পিছিয়ে আসেন, হেরে যায় ইচ্ছে। অন্যদিকে বাস্তবের শত চোখরাঙানিতেও নিজের মনকে, নিজের আদর্শকে যাঁরা টিকিয়ে রাখতে পারেন, তাঁদের নিয়ে অপর এক কথকতার জন্ম হয়। সেই কথকতারই একটি অংশ বোধহয় এই ছবি। এই ছবির চরিত্ররা জাঁ পল সার্ত্র’র Nausea গ্রন্থের সেই হতভাগ্য ‘হিউম্যানিস্ট’রা, যাঁদের প্রয়োজন আজকে ফুরিয়ে গেছে, যাঁরা চিরদিনের মতো নির্জনতার রাজ্যে প্রবেশ করেছে—হঠাৎই আজ তাঁদের সামনে সব ভেঙে পড়েছে। ভেঙে পড়েছে সংস্কৃতির স্বপ্ন, মানুষের সঙ্গে মানুষের পরিচয় ও প্রীতির সব স্বপ্ন।
“That poor humanist whom men don’t want any more…now he has entered into solitude—forever. Everything has collapsed at once, his dreams of culture, his dreams of an understanding with mankind.” Jean-Paul Sartre.