রসায়নে যুব-শান্তিস্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার পাচ্ছেন ড. দিব্যেন্দু দাস

রসায়ন-গবেষণায় দেশের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি

ই বাংলা বরাবরই কৃতি সন্তানদের জন্মভূমি। তা সে শিল্প হোক বা বিজ্ঞান। শিল্পক্ষেত্রে যেমন গান, ছবি আঁকা, সিনেমা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাঙালিদের একটা আলাদা কদর রয়েছে সারা বিশ্বে, তেমনই বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাঙালি গবেষকরা বারবার বাংলার নাম উজ্জ্বল করেছেন। এবছর সেই কাজটাই করেছেন বাঙালি বিজ্ঞানী ড. দিব্যেন্দু দাস।

সিস্টেমস কেমিস্ট্রিতে তাঁর অগ্রণী কাজের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রশংসা অর্জন করেছেন তিনি। জীবনের সদৃশ কার্যাবলী কীভাবে সরল রসায়নিক উপাদান থেকে উদ্ভূত হতে পারে তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চলেছেন ড. দিব্যেন্দু দাস।

কলকাতার ভারতীয় বিজ্ঞান শিক্ষা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইআইএসইআর)-এর রাসায়নিক বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, ড. দাস অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বিজ্ঞান যুব-শান্তিস্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার পাচ্ছেন। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনে অসামান্য অবদানের জন্য ভারতের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞান পুরস্কার (আরভিপি) ২০২৫-এর অধীনে এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন যে যে গবেষকরা, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কালটিভেশন অফ সায়েন্স (যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়)-এর এই প্রাক্তনী। সিস্টেমস কেমিস্ট্রিতে তাঁর অগ্রণী কাজের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রশংসা অর্জন করেছেন তিনি।

জীবনের সদৃশ কার্যাবলী কীভাবে সরল রসায়নিক উপাদান থেকে উদ্ভূত হতে পারে তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চলেছেন ড. দিব্যেন্দু দাস। দিব্যেন্দু দাসের গবেষণা মূলত এই মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজে: কীভাবে জীবনের সদৃশ পদার্থ কৃত্রিমভাবে তৈরি করা যায়, ‘লাইফ ২.০’ কী ল্যাবরেটরিতে বাস্তবায়ন করা সম্ভব, এবং কীভাবে রসায়ন জীবনের উৎপত্তি সম্পর্কিত রহস্য উদঘাটনে সাহায্য করতে পারে।

 

রূপান্তরমূলক বৈজ্ঞানিক কৃতিত্বকে সম্মান জানাতে প্রতিষ্ঠিত, রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞান পুরস্কার সেই ব্যক্তি এবং দলগুলিকে দেওয়া হয়ে থাকে, যাদের যুগান্তকারী গবেষণা জ্ঞানের সীমানাকে এগিয়ে নিয়ে যায় ও বিভিন্ন শাখায় উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে। ভারতের রাষ্ট্রপতি বা উপরাষ্ট্রপতি কর্তৃক ঐতিহ্যগতভাবে নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে অনুষ্ঠিত বার্ষিক অনুষ্ঠানে ওই পুরস্কার প্রদান হয়ে থাকে। প্রসঙ্গত, অতীতে আইআইএসইআর কলকাতার অনুষদের মধ্যে সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায় (২০০৩, ভৌত বিজ্ঞান), বিশ্বরূপ মুখোপাধ্যায় (২০০৩, ভৌত বিজ্ঞান), স্বাধীন কুমার মণ্ডল (২০১৮, রাসায়নিক বিজ্ঞান), এবং রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় (২০১৮, রাসায়নিক বিজ্ঞান) তাদের উদ্ভাবনী কাজের জন্য শান্তিস্বরূপ ভাটনগর পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
 

Developed by DXDasia