আইআইটি খড়গপুর ও আইআইটি মাদ্রাজ পরিচালকদের যৌথ উদ্যোগ
পশ্চিমবঙ্গে যেসব পড়ুয়ারা উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত প্রথম ভাষা হিসেবে বাংলাতেই স্বচ্ছন্দে পড়াশোনা করেন, ইংরেজি যাঁদের দ্বিতীয় ভাষা, উচ্চশিক্ষায় তাঁদের বেশিরভাগকেই নানাভাবে ভাষাগত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কয়েকটি বিষয়ে মাতৃভাষায় পড়াশোনার সুযোগ থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, বিশেষত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষাই প্রাধান্য পায়। ফলত, ইচ্ছে থাকলেও অনেকেই পছন্দের বিষয় নিয়ে পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন না। শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই পরিস্থিতি বিবাচনা করে, সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ এক উদ্যোগ নিয়েছে দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইআইটি খড়গপুর (IIT Kharagpur)।
এআই, ডেটা সায়েন্সের মতো বিষয়গুলি বাংলা-সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় পড়ানো হলে স্কুল ও কলেজ স্তরের পড়ুয়ারা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত বিষয়ে আরও অনেক বেশি আগ্রহী হবে বলে মনে করছেন আইআইটি খড়গপুর ও আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালকরা।
বাংলা ভাষাতেই এবার করা যাবে চার বছরের এআই, ডেটা সায়েন্সে স্নাতক কোর্স বা বিএস (B.S/Bachelor of Science) ডিগ্রি। সুযোগ করে দিচ্ছে আইআইটি খড়গপুর। এই সুযোগ শুধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশোনা করা যে কোনও শাখার ও যে কোনও বয়সের পড়ুয়ারা পাবেন তা নয়, চাকুরিরত আগ্রহীরাও এই কোর্স করার সুযোগ পাবেন। তবে এই উদ্যোগ মূলত নেওয়া হয়েছে প্রান্তিক ও ইংরেজিতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল অথচ মেধাবী পড়ুয়াদের কথা ভেবে। সম্প্রতি আইআইটি খড়গপুর ও আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালকরা যৌথভাবে বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভারত, বাংলাদেশ-সহ সারা বিশ্বের বাংলাভাষী পড়ুয়াদের কথা ভেবে এবং জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০-কে গুরুত্ব দিয়েই এই ভাবনা বলে জানান আইআইটি খড়গপুরের ডিরেক্টর অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী।
অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী আরও জানিয়েছেন, এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই, ডেটা সায়েন্সের মতো সমসাময়িক কোর্সগুলির চাহিদা ও গুরুত্ব বেশি। অনলাইন বা এনপিটিইএল (NPTEL/ National Programme on Technology Enhanced Learning) মাধ্যমে এই কোর্সগুলি করা যায়। এ বার এই কোর্সগুলিই বাংলা মাধ্যমে বা বাংলা ভাষায় পড়ানোর বিষয়ে তাঁরা উদ্যোগী হয়েছেন। কোর্সগুলি যদি চার বছর ধরে কেউ পড়েন, তিনি বিএস ডিগ্রি (বিটেক এবং বিএসসি-র সমতুল্য) পাবেন। সংক্ষিপ্ত কোর্সের মাধ্যমে ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট ডিগ্রি লাভের সুবিধাও থাকছে। টেকনিক্যাল পার্ট ইংরেজিতেই পড়তে হবে। তবে বিষয়গুলি পড়ুয়াদের বোধগম্য করার জন্য বাংলায় অনুবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক চক্রবর্তী। এআই, ডেটা সায়েন্সের মতো বিষয়গুলি বাংলা-সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় পড়ানো হলে স্কুল ও কলেজ স্তরের পড়ুয়ারা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত বিষয়ে আরও অনেক বেশি আগ্রহী হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।