দলমত নির্বিশেষে প্রার্থীদের সভাতে ডাক পরে তাঁর
বিচিত্র সব পশুপখির ডাক তাঁর কণ্ঠস্থ। হুবহু নকল করতে পারেন হরেক রকম বাজনার আওয়াজ। তাঁর গলায় তবলা, হারমোনিয়াম, গিটার, ড্রাম, অক্টোপ্যাড বেজে ওঠে। অনায়াসে বিখ্যাত শিল্পীদের গানও নকল করতে পারেন। অবিকল শুনিয়ে দিতে পারেন দুই বাংলা এমনকি বলিউডেরও নানান সব সিনেমার বড়ো বড়ো সংলাপ। এটাই তাঁর পেশা। হরবোলার কাজ করছেন দীর্ঘদিন ধরেই। তার সঙ্গে তিনি জাদুবিদ্যাতেও দক্ষ। যশোরের বাসিন্দা মহম্মদ ইদ্রিস আলি শেখের অবশ্য কেবলমাত্র এগুলোই পরিচয় নয়। ভোটের বাজারে তিনি হাজির হন অন্য এক অবতারে। তখন আওয়ামি লিগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি তাঁর ক্লায়েন্ট। এমনকি এপার বাংলার তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিআইএম, জাতীয় কংগ্রেস, বিজেপি প্রার্থীদের সভাতেও ডাক পরে তাঁর। আপাতত লোকসভা নির্বাচনের মুখে এটাই তাঁর ইউএসপি।
যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার সিরাজসিংহ উত্তরপাড়ায় ইদ্রিস আলির জন্ম। ছোটোবেলা থেকেই অর্থকষ্টে ভুগতেন। স্কুলের পাঠ কোনো রকমে সাঙ্গ করে মন দেন হরবোলা শিল্পে। ১২ বছর বয়স থেকেই পথে ঘাটে হরবোলার খেল দেখিয়ে সামান্য কিছু রোজগার করতেন, সেখান থেকেই কোনোভাবে দিন চলে যেত। প্রয়োজনে রিক্সা চালিয়েছেন। জাদুও দেখাতেন মাঝে মাঝে। এখনও দেখান। অল্প বয়স থেকেই মুখে মুখে ছড়া আর গান বেঁধে অবাক করে দিতেন মানুষকে। সিনেমার গান, সংলাপ নকল করে মজা পেতেন। এখন অবশ্য আর্থিক দিক থেকে বেশ খানিকটা স্থিতিশীল হয়েছেন। হরবোলার ভেলকি দেখানোর জন্য কিনেছেন একটি হ্যান্ডমাইক। বাংলাদেশের একটি সিনেমাতে অভিনয় করেছেন। স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং এক ছেলে নিয়ে এখন তাঁর ভরা পরিবার।
গত ২০ বছর ধরে হরবোলার কাজে ভারতে আসছেন ইদ্রিস। এর মধ্যেই গোটা উত্তর ২৪ পরগনা ঘুরে ফেলেছেন। ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে শুরু করেছিলেন নির্বাচনের প্রচার। কোনো দলের সঙ্গে তিনি যুক্ত নন। তবে চেনেন মোটামুটি সব দলেরই বড়ো আর মাঝারি নেতাদের। যে-ই ডাকেন, কাঞ্চনমূল্যে তার হয়ে ভোটের প্রচার করেন ইদ্রিস। একবার শুধু জেনে নেন প্রার্থীর নাম, দল, কেন্দ্র আর প্রতীকচিহ্ন। তাতেই সঙ্গে সঙ্গে গান বেঁধে ফেলেন সেই প্রার্থীর সমর্থনে। পাসপোর্ট-ভিসার আইনি পদ্ধতি মেনেই পশ্চিমবঙ্গে আসেন তিনি। ২০১৬-র বিধানসভা ভোটে প্রচারের পর এবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবারের লোকসভা নির্বাচনের জন্য। ঘাঁটি গেঁড়েছেন বারাসতের কদম্বগাছির হেমন্ত বসু নগর কলোনিতে।
তথ্যসূত্র – এই সময়, প্রথম আলো।