‘ভোট্টু’-কে নিয়ে দোলে মাতলেন পূর্ব বর্ধমানের জেলা শাসক

রাজারাজরাদের প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে ভোটের অভিনব প্রচার

প্রায় ১০০ বছরেরও আগে বর্ধমানের মহারাজ বিজয়চাঁদ মহতাব যে প্রথা চালু করেছিলেন তা আজও মেনে চলেছে বর্ধমান শহরবাসী। দোলের পরের দিন অর্থাৎ শুক্রবার বর্ধমানে পালিত হল দোল উৎসব। তবে এবারের দোল উৎসব একটু অন্য মাত্রা পেল জেলাশাসকের অভিনব ভোট প্রচারে। 

বর্ধমান প্রশাসনিক ভবনে আয়োজন করা হয় এই হোলি উৎসবের। পূর্ব বর্ধমান জেলার নির্বাচনের ম্যাসকট ‘ভোট্টু’-কে রঙ মাখিয়ে হোলি উৎসবের সূচনা করলেন জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব। এছাড়াও ভোট্টু পেঁচার মুখোস তৈরি করে সবাইকে বিতরণ করা হয়। শুধু প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরাই নয়, সাধারণ মানুষও প্রশাসনিক ভবনের সামনে নির্বাচনের আগে এই হোলি উৎসবের মাতলেন। সবাইকে করানো হয় মিষ্টি মুখ। জেলা শাসকের অফিস চত্বরে দোলের মধ্যে ভোট নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেল। দোলকে সামনে রেখে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার লক্ষ্যে ভোটারদের নির্ভয়ে বুথে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানালেন জেলাশাসক।  

গোটা রাজ্যে বৃহস্পতিবার দোল উৎসব পালিত হয়েছে। কিন্তু ওইদিন দোল খেলা হয়নি পূর্ব বর্ধমানে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, বর্ধমানের রাজপরিবার দোল পূর্ণিমার দিন মহাধূমধামে বিশাল পুজোর আয়োজন করতেন, সেই পুজো শেষ না হওয়া পর্যন্ত দোল খেলা যেত না। কিন্তু, পুজো চলতে চলতে বেলা গড়িয়ে যেত। পুজোর শেষে বেলার দিকে সামান্য আবির খেলেই নিয়মভঙ্গ করতেন তারা। তার পরের দিন সকাল থেকেই রঙের খেলায় মেতে উঠতেন নগরবাসী। সেই ঐতিহ্য মেনে এখনও দোল পূর্ণিমার পরের দিনই বর্ধমানে দোল খেলা হয়। 

Developed by DXDasia