কোনো কারিগর কাজ ছেড়ে পাশের দোকানে যেতে পারেন না – নিয়ম এমনটাই
এখন রমজান মাস। এটি হালিম, ফালদা, মোয়া, মোরাব্বার স্পেশাল সময়। কেন? এই সময়ে যা পাবেন সব খাঁটি। রমজান মাসে উপবাসে থেকে ভেজাল খাওয়ানোর দিকে কখনই যান না মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। পাপ অর্থাৎ গুনাহের ভয় থাকে। এই সময়ে মোরাব্বা পাবেন। হালুয়া পাবেন। এগুলো শুধুমাত্র রোজার সময়ই তৈরি হয়। চিৎপুর,পার্ক সার্কাসে মিলবে সব। তবে একেবারে স্পেশাল পাবেন চিৎপুরে নাখোদা মসজিদের গায়ে। ময়দা দিয়ে যেমন তৈরি, তেমনি খেজুরেও তৈরি হয়। রোজার সময় আসল খেজুর আসে সৌদি থেকে। তা থেকে যা তৈরি হয় তার দামটা একটু বেশি, ৪৫০ টাকা। বাকি সময়েও খেজুরের মোরাব্বা মিলবে, সেগুলো রাজস্থানের। দাম ৩৫০ টাকা কিলো।
চিৎপুরের দোকানগুলো ১০০-১৫০ বছরের পুরনো। এরা মোরাব্বা স্পেশালিস্ট। এছাড়াও ময়দার মোরাব্বা পাবেন। দাম প্রতি কিলো ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে। গুণমানের সামান্য হেরফের আছে। তবে দামটা নির্ভর করে রঙ আর দেখতে কে কতটা সুন্দর তার ওপর। এরা দোকানেই তৈরি করেন কারিগর রেখে। যে ক্ষীরে মোরাব্বা তৈরি হয় এইসময় সেটাও বিশেষভাবে তৈরি। এক এক দোকানের পদ্ধতি এক এক রকমের। কেউ কারও রেসিপি জানায় না। এ চত্বরে নিয়ম হল কোনো কারিগর কাজ ছেড়ে পাশের দোকানে যেতে পারেন না। কাজ ছাড়তে হলে এলাকা ছাড়তে হবে। এ জন্যই প্রত্যেকটা দোকানে কাজ করেন বৃদ্ধ কারিগর বা তাঁর পরিবারের কেউ। তবে মনে রাখবেন কিনতে হলে কম করে আড়াই শো গ্রাম।
আরও পড়ুন
জিভে জল আনা গাজরের বরফি
বাজারে লাউয়ের হালুয়া পাওয়া যায়। এখানেও আছে। কিন্তু স্বাদ একেবারে অন্যরকম। দামও সস্তা। বিভিন্ন মেলায় লাউয়ের হালুয়া একটি আকর্ষণীয় উপাদান। কলকাতার নানা প্রান্ত থেকে যান কারিগররা। সেই হালুয়ার সঙ্গে এই হালুয়ার তফাত আছে। এই লাউয়ের হালুয়ার দাম ১৫০ টাকার মধ্যে। সকালের দিকে যাবেন, দোকান খোলা পাবেন দশটা থেকে। বিকেলে গেলে সমস্যায় পড়তে পারেন। ইফতারের সময়। ভিড়ে ঠাসা থাকবে দোকান। এই মোরাব্বায় যে রঙ ব্যবহার করা হয় তা পুরসভার অনুমোদিত। ফলে ভয় নেই।