
নীরবে সমাজ সংস্কার করে চলেছেন ডাক্তার ভাস্কর ভট্টাচার্য
পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তার মূর্তি ভাঙা নিয়ে এই প্রতিক্রিয়াই দিচ্ছেন বিদ্যাসাগরের প্রদৌহিত্র ডাক্তার ভাস্কর ভট্টাচার্য। তার কথায়, মূর্তি ভাঙা নিয়ে হইচই করার চেয়ে বিদ্যাসাগরের জীবন ও আদর্শ আমরা কতটা গ্রহণ করতে পারছি সেটা নিয়ে বেশি চর্চা হোক। বিদ্যাসাগর মহাশয় নারীশিক্ষা বা নারীদের জন্য অনেক সমাজসংস্কারমূলক কাজ করে যাওয়ার পরও কি আজও সমাজ থেকে বাল্য বিবাহ, কন্যা ভ্রুণ হত্যা বা নারী নির্যাতন বন্ধ করা গিয়েছে? প্রশ্ন তার।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পরের ভাই ছিলেন ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ঈশানচন্দ্রের মেজ মেয়ে ছিলেন চারুশীলাদেবী। এই চারুশীলাদেবী হলেন ডাক্তার ভাস্কর ভট্টাচার্যের বাবা দ্বিজেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের ঠাকুরমা। সেই অর্থে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রদৌহিত্র হলেন ডাক্তার ভাস্কর ভট্টাচার্য। শিলিগুড়ি মহকুমার নকশালবাড়ি হাসপাতালের দন্ত চিকিৎসক তিনি। বিদ্যাসাগরের বংশধর হয়ে ভাস্করবাবু নিজেও বিদ্যাসাগরকে স্মরণ করে ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে কিছু সংস্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। যেমন গতমাসের ১০ তারিখে তার পুত্র অর্নেশের উপনয়ন ছিল। নিয়ম হল, উপনয়নের সময় কোনও অব্রাহ্মণের মুখ দর্শন করা যাবে না। যার উপনয়ন হয়, তার মুখ ঢেকে রাখতে হয়। ভাস্করবাবু বলেন,আমি সে নিয়ম ভেঙে দিয়েছি। আমার পুত্র কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রাখে নি।
আরও পড়ুন
“এত বুড়ো কোনোকালে হব নাকো আমি”
ভাস্করবাবুদের বংশের নিয়ম অনুযায়ী চলে আসছে যে, তাদের কোনও ছেলে বা মেয়ে অব্রাহ্মণের সঙ্গে বিয়েতে বসবে না। ভাস্করবাবু বলেন, আমি সে নিয়ম মানিনি। আমার স্ত্রী অনসূয়া অব্রাহ্মণ। পদবি বৈদ্য। তবুও তো বিয়ে করেছি তাকে, নিয়ম ভেঙে।
ভাস্করবাবুদের বংশে বহু বছর ধরে নিয়ম চলে আসছে, বোয়াল মাছ, ভেড়ার মাংস খাওয়া যাবে না। কিন্তু তিনি সে নিয়ম ভেঙে দিয়েছেন।
বিদ্যাসাগরের কথা স্মরণ করেই তিনি নিয়মিত রক্ত দান করেন। আবার প্রতিদিন বিকালে তিনি তার বাড়ির কাছে বিনে পয়সায় দুঃস্থদের চিকিৎসা করে ওষুধও বিলি করেন। নকশালবাড়ির বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে তিনি স্বাস্থ্য সচেতনতা বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির করেন বিনা পয়সায়।

ভাস্করবাবুর আদি বাড়ি হুগলি জেলার গোহাটের বেঙ্গাইজোত গ্রামে। হাওড়ার শিবপুরে আছে তাদের বৈঠকখানা। প্রতিবছর তিথি মেনে তিনি বিদ্যাসাগরের জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী পালন করেন।
একসময় তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর দন্ত চিকিৎসক হিসাবেও কাজ করেছেন। বিদ্যাসাগরকে স্মরণ করে কোনওরকম প্রচার না নিয়েই তিনি পুজোর সময় ফি বছর বস্ত্র দান করে আসছেন। কলকাতায় বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনায় তিনি খুব ব্যথিত। বলেন, নক্কারজনক কাজ হয়েছে। বিদ্যাসাগর মহাশয় কখনও তার মূর্তি বসবে বা মূর্তি ভাঙা হবে এই ভেবে সমাজসংস্কারের কাজে অংশ নেননি।
