সুস্থায়ী উন্নয়ন নিয়ে নিয়মিত অনুষ্ঠান করে চলেছে আকাশবাণী কলকাতা
প্রকৃতিতে কিছু কিছু প্রাকৃতিক সম্পদের (যেমন কয়লা, খনিজ তেল ইত্যাদি) পরিমাণ সীমিত। নির্বিচারে এগুলোর ব্যবহারের ফলে ক্রমশ কমছে এর ভান্ডার। তাহলে, এরপরে কী হবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই বিশেষজ্ঞরা দেখেন প্রচলিত এই শক্তিগুলির পরিবর্তে প্রকৃতির অপ্রচলিত শক্তি (যেমন সূ্র্যের আলো, জল ইত্যাদি) ব্যবহার করে পৃথিবীতে সুস্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব। এখন প্রশ্ন হলো, এই সুস্থায়ী উন্নয়ন কী? এর উত্তরে বলা যায়, আগামী পৃথিবীর জন্য পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার বজায় রেখে বর্তমানের চাহিদা পূরণ করার যে ধারণা তাকেই বলা হয় সুস্থায়ী উন্নয়ন।
সুস্থায়ী উন্নয়নের উপযুক্ত পথ নিয়ে নিয়মিত অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে আকাশবাণী কলকাতা। এবার এই বিষয়টি নিয়ে সরাসরি স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পৌঁছে গেল আকাশবাণী।

সুস্থায়ী উন্নয়নের উপযুক্ত পথ নিয়ে নিয়মিত অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে আকাশবাণী কলকাতা। এবার এই বিষয়টি নিয়ে সরাসরি স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পৌঁছে গেল আকাশবাণী। গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, শুক্রবার সল্টলেকের বিধাননগর কলেজে একদিনব্যাপী কর্মশালা-তথা-আলোচনাসভা, ‘উন্নয়ন: সুস্থায়ী নকশার সন্ধানে’ অনুষ্ঠানে চারটি স্কুল ও দুটি কলেজের একশো জন শিক্ষার্থী বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে শুনল সুস্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব করার পথ সম্পর্কে। শুধু শোনা নয়, লবণহ্রদ বিদ্যাপীঠ, হরিয়ানা বিদ্যামন্দির, বিধাননগর গভর্নমেন্ট হাইস্কুল, পি এম শ্রী কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় নং ১, ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কলেজ নিউটাউন এবং বিধাননগর কলেজের ছাত্রছাত্রীরা এদিন ক্যুইজে অংশগ্রহণ, স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে এই বিষয়ে তাদের কথাও সকলের সামনে তুলে ধরে।
এই অনুষ্ঠানের প্রথম সত্রে সভাপতিত্ব করলেন বিধাননগর কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সৌরভ চক্রবর্তী। কী-নোট লেকচারে সৌরশক্তি ব্যবহারে ভারতের উদ্যোগ এবং এক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে যে সমন্বিত আয়োজন চলছে তার রূপরেখা দিলেন ডক্টর শান্তিপদ গণ চৌধুরী।
ছ’টি স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট এবং বিধাননগর কলেজের ছাত্রছাত্রীরা তুলে ধরল পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা এবং সুস্থায়ী উন্নয়নের জন্য আশু পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ওয়েস্ট বেঙ্গল বায়োডাইভার্সিটি বোর্ড-এর চেয়ারম্যান ডক্টর অশোক কান্তি সান্যাল, ইনস্টিটিউশন অফ ইঞ্জিনিয়ার্সের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সাম্মানিক সচিব অনির্বাণ দত্ত এবং বিধাননগর কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শান্তনু সাহা। বক্তারা নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র বেছে নিয়ে উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের সম্পর্কের কথা বলেন। অধ্যাপক সাহা দেশের কিছু জনগোষ্ঠীর কথা বলেন যারা বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছে ঐতিহাসিকভাবে। ডক্টর সান্যাল উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার বার্তা দেন। ইলেকট্রিক ভেহিকল নিয়ে আলোচনা করেন শ্রী দত্ত।

সবশেষে মনোগ্রাহী ক্যুইজের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে সুস্থায়ী উন্নয়নের মূল বার্তা পৌঁছে দেন আকাশবাণীর প্রোগ্রাম এক্সিকিউটিভ ডক্টর মানস প্রতিম দাস। সমগ্র অনুষ্ঠান সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করেন বিধাননগর কলেজের রসায়নের অধ্যাপক রাজর্ষি চট্টোপাধ্যায়। সমগ্র অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন আকাশবাণী কলকাতার হেড অব প্রোগ্রাম ডক্টর মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়।
আকাশবাণীর মূল মন্ত্র বহুজন হিতায় বহুজন সুখায় চ। সুস্থায়ী উন্নয়ন সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভবিষ্যতের কাণ্ডারীদের কাছে আকাশবাণী কলকাতার এইভাবে পৌঁছে যাওয়া যেন মূল মন্ত্রেরই অনুরণন।