শ্রমিক নেতা থেকে গ্রন্থাগার আন্দোলন : তরুণদের বইমুখী করছেন বীরেন চন্দ

পেনশনের টাকায় সম্পাদনা করেন ‘উত্তরধ্বনি’ পত্রিকা

ছবি: বাপি ঘোষ

কসময় বিড়ি বাঁধতেন বীরেন চন্দ। হয়ে ওঠেন বিড়ি শ্রমিক নেতা। তারপর লেখালেখি থেকে গ্রন্থাগার আন্দোলন, মানুষকে বইমুখী করা এবং পত্রিকা প্রকাশনা। আজ আশি বছর বয়সেও পত্রিকা প্রকাশনা ছাড়েননি। পেনশনের টাকায় বহু বছর ধরে প্রকাশ করছেন ‘উত্তরধ্বনি’ পত্রিকা।

সংসার চালানোর জন্য একটা সময় তাঁকে বিড়ি শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে হয়েছে। সেই শৈশবকাল থেকেই তাঁকে টানত বাংলা সাহিত্যের সম্ভার। পড়াশোনার শুরু সেই টানেই। পাশাপাশি চলত লেখালেখি। সংসার চালানোর জন্য কিছু দিন বিড়ি শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে বাধ্য হলেও তিনি লেখালেখি থেকে কখনও সরে আসেননি। নিজে যেমন লিখেছেন, অন্যকেও লেখালেখিতে উদ্বুদ্ধ করেছেন বরাবর। আজ প্রায় আশি বছর বয়সে পৌঁছেও লেখালেখি, বিশেষ করে লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনকে তিনি ছাড়তে পারেননি। বার্ধক্যকে উপেক্ষা তিনি নিয়মিত পত্রিকা প্রকাশ করে চলেছেন। নিজের পেনশনের টাকায় এই বয়সেও প্রকাশ করছেন লিটল ম্যাগাজিন ‘উত্তরধ্বনি’।

আজ প্রায় আশি বছর বয়সে পৌঁছেও লেখালেখি, বিশেষ করে লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনকে তিনি ছাড়তে পারেননি। বার্ধক্যকে উপেক্ষা তিনি নিয়মিত পত্রিকা প্রকাশ করে চলেছেন। নিজের পেনশনের টাকায় এই বয়সেও প্রকাশ করছেন লিটল ম্যাগাজিন ‘উত্তরধ্বনি’।

শিলিগুড়ি রবীন্দ্র নগর নিবাসী এই লেখক বীরেন চন্দ এই বয়সে পৌঁছে আজ সকলের অনুপ্রেরণা। গত ১৫ জানুয়ারি তাঁর সম্পাদনায় ‘উত্তরধ্বনি’ পত্রিকার ৪৫ বছর পূর্তি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে। পাঁচশো পৃষ্ঠার পত্রিকার দাম ৬৫০ টাকা। ছাপতে খরচ হয়েছে লক্ষাধিক টাকা। যখন নেট দুনিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলন প্রায় ফিকে হয়ে এসেছে, তখন এই বার্ধক্যে পৌঁছেও পেনশনের টাকায় বীরেনবাবুর ‘উত্তরধ্বনি’ প্রকশনা একটি উল্লেখ করার মতো বিষয় হয়ে উঠেছে। বছরে এই পত্রিকার একটি সংখ্যাই প্রকাশিত হয়।

নিজের গ্রন্থাগারে বীরেন চন্দ, ছবি: বাপি ঘোষ

একসময় বীরেনবাবু গোটা রাজ্যে গ্রন্থাগার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মানুষকে গ্রন্থাগারমুখী করতে তিনি বহু পদক্ষেপ নিয়েছেন। ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাগার দপ্তরে চাকরি হওয়ায় বেশ খুশি হন। শিলিগুড়ির মহকুমা গ্রন্থাগার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের গ্রন্থাগারিক হিসাবে তিনি অবসর নেন ২০০৭ সালে। শিলিগুড়িতে অতিরিক্ত জেলা গ্রন্থাগার স্থাপনেও একসময় সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেন। শিশুদের গ্রন্থাগারমুখী করতে একসময় বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন শিলিগুড়ি মহকুমা গ্রন্থাগারে। শিলিগুড়ি যখন কর্পোরেশন হয়নি সেই শিলিগুড়ি পুরসভাতেও একসময় তিনি নির্বাচিত কমিশনার ছিলেন। এখন অবসর জীবনে লেখালেখি আর পত্রিকা প্রকাশনাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। নিজের বাড়িতে একটি ছোটখাটো গ্রন্থাগারও গড়ে তুলেছেন।

রবীন্দ্রনাথ সংখ্যা থেকে মুজফ্‌ফর আহমেদ সংখ্যা, জনজাতি সংখ্যা, বাংলাদেশ সংখ্যা-সহ আরও মূল্যবান সব সংখ্যা তিনি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করে চলেছেন সেই ১৯৮০ সাল থেকে। গবেষণাধর্মী এই পত্রিকার সংখ্যাগুলি আগামী প্রজন্মের অন্তত মননশীল ছেলেমেয়েদের কাছে যে মূল্যবাণ হয়ে উঠবে তা বলাই বাহুল্য। এই শেষ বয়সে পৌঁছেও তিনি সকলকে বলছেন, বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। সবাই গ্রন্থগারমুখী হওয়ার সঙ্গে লিটল ম্যাগাজিনের প্রতি উৎসাহ দেখাক। লিটল ম্যাগাজিনের সাহিত্য সৃজন মগজকে উন্নত করে, মগজকে শুভ দিকে চালিত করে বলে তিনি জানান।

Developed by DXDasia