ভাসমান বাজারে অভিনব হয়ে উঠছে পুরুলিয়ার নূতন বাঁধ

বাংলার হস্তশিল্পকে আরও জনপ্রিয় করতে পুরুলিয়া পুরসভার উদ্যোগ

গত বছরের শুরুতে পাটুলির ঝিলে চালু হয়েছিল ভারতের প্রথম ভাসমান বাজার। যেখানে পাটুলি-বৈষ্ণবঘাটা উপনগরীর নিকাশী জল জমা হত, রাজ্য সরকারের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে সেই ঝিল সেজে ওঠে নতুন সাজে। যেন কলকাতার বুকে এক টুকরো থাইল্যান্ড। সাকালে বিকেলে একশোর বেশি নৌকোয় সাজানো চাল, ডাল, ফল, সবজি, মাছ, মাংস এবং আরও অনেক কিছু। ঝিলের ধারে রয়েছে ক্যাফেটেরিয়া, সুলভ শৌচাগার, সুসজ্জিত বসার জায়গা। নানা ধরনের মাছ খেলে বেড়াচ্ছে ঝিলের জলে। সে যেন এক স্বপ্নের জগৎ। এবার খুব তাড়াতাড়ি সেই স্বপ্নময় দুনিয়ার স্বাদ পেতে চলেছেন পুরুলিয়াবাসীরাও। পুরুলিয়া শহরের বিখ্যাত সাহেব বাঁধের উল্টোদিকে নূতন বাঁধ বা কিং এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল ট্যাংকের উপর পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় ভাসমান বাজার গড়ে উঠবে।

ব্যাংকক ঘুরতে গিয়ে তখনকার পুর এবং নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের মাথায় এসেছিল কলকাতায় ভাসমান বাজার তৈরির ভাবনা। পাটুলিতে তাঁর চিন্তাধারার বাস্তবায়ন ঘটে। পুরুলিয়াতে ভাসমান বাজারের পরিকল্পনাও তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত। ২০১৮ সালে পুরুলিয়া পুরসভার কাজকর্ম দেখতে গিয়েছিলেন ববি হাকিম। নূতন বাঁধ দেখে তিনি সেখানে ভাসমান বাজার তৈরির কথা ঘোষণা করেন। তারপর কোমর বেঁধে লেগে পড়ে পুরুলিয়ার পুরকর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই পর্যটকদের কাছে পুরুলিয়াকে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য এই পুরসভা একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। কাশ্মীরের ডাল লেকের মতো সাহেব বাঁধে চালু করা হয়েছে শিকারা। ডাল লেকের একটি হাউজবোট অথরিটি শিকারার জোগান দিয়েছে। সাহেব বাঁধের পাশে রয়েছে ঘোড়ার গাড়ির ব্যবস্থাও। ভূস্বর্গের মজা যখন রয়েছে, এবার ব্যাংককই বা বাদ যায় কেন? আগামী বছরের মধ্যেই নূতন বাঁধে ভাসমান বাজার চালু করে দিয়ে চান পুরকর্তারা।

অবশ্য গোটা জলাশয় জুড়ে নয়, নূতন বাঁধের একটা অংশে বাজার গড়ে উঠবে। যে সংস্থার হাতে পাটুলির ভাসমান বাজার তৈরি হয়েছিল, তাদেরকেই এই কাজের ডিপিআর বানানোর দায়িত্ব দিয়েছে পুর এবং নগরোন্নয়ন দপ্তর। পুরুলিয়ার এই ভাসমান বাজার চালু হলে এখানে পাওয়া যাবে বাংলার নানা রকম হস্তশিল্পের বৈচিত্রময় সম্ভার। মেদিনীপুরের পটশিল্প, কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুল, বাঁকুড়ার টেরাকোটা, পুরুলিয়ার ছৌ মুখোশ – অনেক কিছুই সাজানো থাকবে ক্রেতাদের জন্য। বাংলার হস্তশিল্প যাতে আরও অনেক বেশি করে মানুষের কাছে পৌঁছতে পারে, সেই কথা ভেবেই এই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে পুরুলিয়ার পুরকর্তৃপক্ষ। ভাসমান বাজার যাতে কোনোভাবেই নূতন বাঁধে দূষণের কারণ না হয়ে ওঠে, পুরকর্তারা সেদিকেও নজর রাখছেন।

Developed by DXDasia