সাক্ষাৎকারে অকপট অভিনেতা শ্রমণ চট্টোপাধ্যায়
মাধ্যমিক দিয়ে আসানসোল থেকে সপরিবারে কলকাতায় আসা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। নয়/দশ বছর বয়সে শ্রমণের মা গ্রুপ থিয়েটারে ভর্তি করে দেন। ইচ্ছা ছিল আইনজীবী হবেন। কিন্তু রং মেখে আলোয় দাঁড়াবার লোভ ও তাড়া ছিল। কলেজ জীবনে ইংরেজি থিয়েটার দিয়ে কাজ শুরু। এর মধ্যেই রক্তকরবীতে কিশোর চরিত্রে অভিনয়। ইংরেজি আর হিন্দি থিয়েটার করতে করতেই সুযোগ আসে বাংলা নাটকে। স্নাতকোত্তর পড়াকালীন প্রায় চলতি ছয়টা নাটকে অভিনয় করেন, যদিও বিশেষ দর্শকসৌভাগ্য হয়নি। সেইসব নাটকের আয়ুকাল আর কলেজ জীবন একত্রে শেষ হল। দেওয়ালে পিঠ ঠেকায় নির্দেশনার দিকে মন দিলেন। জন্ম হল বুকঝিম এক ভালোবাসা-র। ছবি করে পাওয়া টাকা, আর ঘনিষ্ঠ প্ররোচকদের আর্থিক ও মানসিক সহায়তায় বুকঝিম মঞ্চস্থ হল। অভিনেতা শ্রমণ চট্টোপাধ্যায় আজ বঙ্গদর্শনের আড্ডায়। সঙ্গী সুমন সাধু।
• যে সময়ে চারদিকে এত হিংসা, ঘৃণা, জাতি সংঘর্ষ প্রবল আকার ধারণ করেছে, ঠিক সেইসময় তোমরা ভালোবাসার কথা বললে। বুকঝিম এক ভালোবাসা। এই নাটকের শুরুর সময়টা এবং নাটক তৈরির স্ট্রাগেলটা কেমন ছিল জানতে চাইব।
এই সময়ের সঙ্গে ভালোবাসা বা ঘৃণার বিরোধ নেই। এই ঘৃণা-সংঘর্ষ সবসময়ই ছিল। ঘৃণার কোনো বদল হয়েছে বলে আমার জানা নেই। বুকঝিম করার সময় এসব কিছুই মাথায় ছিল না। আমরা যারা সৌন্দর্যলোভী তারা সুন্দর কোনোকিছুই থেকেই আমন্ত্রণ খুঁজে নিই। মূলত টেক্সটটার জন্যই এই নাটক বেছে নেওয়া। আমার মনে হয়েছিল, যদি ভাষাটাকে শরীরে ধারণ যায় তার মধ্যে দিয়েই ওই সৌন্দর্যের কাছে যেতে পারি, তাহলে ভারি আনন্দ পাব। এই আনন্দের লোভেই বুকঝিম এক ভালোবাসার ভাবনা। আর পেশাদারি কারণ বলতে গেলে, সেইসময় অর্থাৎ ২০১৫ সাল নাগাদ খান দুয়েক ছবি করেছিলাম আর মাঝে নাঝে নাটকের শো থাকত। সেভাবে কিছুই করছিলাম না। ২০১৬-র শুরুর দিকে একটা ছবি আর একটা হিন্দি নাটক করছিলাম। আমার হাতে প্রায় কাজ ছিলই না। আবার এমনও নয় যে বর্তমানে আমার হাতে প্রচুর কাজ আছে। তো সেইসময় কাজগুলোর প্রতি একটা বিরক্তি তৈরি হচ্ছিল। সেখান থেকেই সিদ্ধান্ত নিই বুকঝিম এক ভালোবাসা বানাবো।

'বুকঝিম এক ভালোবাসা' নাটকে শ্রমণ। ছবি- রূপক ঘোষ।
• প্রায় তিনটে বছর তো হয়ে গেল। মনসুর আর চাঁদবিবির ভালোবাসায় কি দর্শক এখনও মজে আছে? কী মনে হয়?
মনসুর আর চাঁদবিবির ভালোবাসাতে বোধহয় নয়। এই আখ্যানের উপজীব্য দুইভাবে বলা যেতে পারে। এক হল, বুকঝিমের ভাষা। এই ভাষাটা দর্শককে আকৃষ্ট করেছে। আর দুই, যদি প্লট ধরে যাই, তাহলে তো দর্শকের ফিরোজে মজে থাকা উচিত। বুকঝিমের হিরো কিন্তু ফিরোজ। মানুষ একাধিকবার নাটকটা দেখেছেন, নাহলে চলত না। চারপাশে এত ভালো ভালো এবং এত সংখ্যায় কাজ হচ্ছে, কার্যত একটা নাটক নিয়ে মজে আছেন বলে তো আমার মনে হয় না। যদি কারোর মনে থাকে, তাহলে প্রেমাখ্যানটা যেভাবে বলা হয় সেটা একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। এবং অবশ্যই বুকঝিম মনে থাকবে তার সুর-ছন্দের জন্য। মিউজিশিয়ানরা দুর্দান্ত কাজ করেছেন।
• কোনটা বেশি প্রিয়- মঞ্চে নাটক শেষে দর্শকদের হাততালিটা নাকি ছবির প্রিমিয়ারে বাইট দেওয়াটা?
সিনেমার প্রিমিয়ারে কেউ কখনও বাইট চায়নি। আমি এখনও পর্যন্ত খান দুয়েক ছবির প্রিমিয়ারে গিয়েছি।
• যতটা জানি, তুমি তো অভিনয়টাই করতে চাও। এখন কী মনে হচ্ছে, কতটা সুযোগ পাচ্ছ?
করি। বিষয়টা আর চাওয়ার জায়গায় নেই। কলকাতা শহরে থিয়েটারের আবহাওয়া সম্পর্কে আমি অবগত। সিনেমার ব্যাপারটা একদমই জানি না। বুকঝিমের পর সুযোগ এসেছে। সেই সুযোগের সৎ ব্যবহারও করেছি। বুকঝিম করার আগেও আমি কলকাতায় ১৪টা নাটক করেছি হিন্দি, ইংরেজি এবং বাংলা মিলিয়ে। তার মধ্যে বাংলা নাটকের সংখ্যা প্রায় ৮টা। আমি প্রথম থেকেই জেনে গিয়েছিলাম যে, এখানে সুযোগ পাওয়ার আশায় বসে থেকে লাভ নেই। নাটকের সংগঠনগত বিষয়ে কী কী কাজ হয়, সেখানে নাক গলানোর সুযোগ আমি কিশোর বয়স থেকেই পেয়েছি। আর এখানে সুযোগের আশায় বসে থাকলে কিচ্ছু কাজ করতে পারব না।
• সেটা তো তখন ভেবেছিলে। এই মুহূর্তে কী ভাবছ?
দ্যাখো, বুকঝিমের পরেও আমি নাটক করেছি। ভাদ্রজা, ভূতান্বেষী এগুলো। এসব বাদে আমি যে প্রচুর ডাক পেয়েছি বা তোমার ভাষায় ‘সুযোগ’ পেয়েছি, এমনটা নয়। হ্যাঁ, কিছু কাজ এসেছিল, সেগুলো পিওরলি ইন্টালেকচুয়াল কারণে না বলেছি। এই পিওরলি ইন্টালেকচুয়াল কারণ মানে হচ্ছে টাকা। এখন তো শহরে অধিকাংশ সময় থাকিই না। সুতরাং সাময়িকভাবে থিয়েটারের সঙ্গে সম্পর্কটা প্রায় ইতি হতে চলেছে।

'কিয়া অ্যান্ড কসমস' ছবিতে শ্রমণ।
• আমাদের টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি আছে, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি আছে। অথচ বাংলা থিয়েটারের একটা বিশাল ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও ইন্ডাস্ট্রি হল না। এর ভালো খারাপ নিয়ে তোমার কী মত?
একটা জিনিস খেয়াল করলে বুঝতে পারবে, এখনও কিন্তু বহু টেকনিশিয়ান্সদের পেট চলে থিয়েটার করেই। তাঁদের সবাই যে খুব দুঃস্থ অবস্থায় আছে এমন নয়। আর কলকাতার একটা বড়ো অংশ থিয়েটার করছে গ্রান্টের পয়সায়। সরকার যেখানে একটা কাজ করার জন্য ভাতা দেয়, সেটাকে ইন্ডাস্ট্রি বলা যাবে না। কারণ এখানে কোনো প্রফিট রান নেই। ব্যাপারটা শুধু কর্মশালা আর যাপনভিত্তিক নয়। ওসব ফালতু ব্যাপার। এগুলো বলে থিয়েটারকর্মীরা নাক উঁচু করে চলতে ভালোবাসেন। হয় ইন্ডাস্ট্রিকে সম্পূর্ণভাবে সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে হবে, নইলে পুরোপুরি প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রি হতে হবে। এদিক দিয়ে টেলিভিশন এবং ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি অনেকখানি এগিয়ে আছে। আর আমার মনে হয় না, ভারত সরকারের কোনো দায় আছে থিয়েটারের প্রতি। যে দেশে খাদ্য সমস্যার সমাধান হয়নি, সেই দেশে থিয়েটার করার জন্য নাকি ভাতা দেওয়া হয়। আর আমাদের থিয়েটারের কোনো কোয়ালিটি কন্ট্রোল নেই। সবাই থিয়েটার বানাতে চান। তুমি কি চাইলেই ডাক্তার হতে পারবে? যদি না পারো তবে ডাক্তার হওয়াটা একটা সিরিয়াস প্রফেশন। এখানেই প্রমাণিত হয় থিয়েটার করাটা কোনো সিরিয়াস প্রফেশন নয়। তুমি চাইলেই সেটা করতে পারো। কাজেই তুমি এমন কিছুই করছ না যেটাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এছাড়াও বিষয় হচ্ছে থিয়েটার সাধারণ মানুষকে ছুঁয়ে যাওয়ার মিডিয়াম নয়। যেখানে আমেরিকার মত দেশে ব্রডওয়ে সাধারণ মানুষকে ছুঁতে পারে না, এখানে তো ছেড়েই দাও। গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলনের ইতিহাস আমরা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু সেটা শেষমেশ ব্যক্তিস্তর ও ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধিতে পরিণত হল। সংকুচিত হতে হতে এই জায়গায় পরিণত হয়েছে। কিছু মানুষ বা দল নিজেদের আখের গুছিয়েছেন শুধু।
• আমাদের পশ্চিমবঙ্গে এখনও কিন্তু থিয়েটার দেখাটাও লাক্সারি। কলকাতা বাদ রেখে যদি মফস্সলের কথা বলি, সেখানে কিন্তু ১০০ বা ২০০ টাকার টিকিট কেটে থিয়েটার দেখা চরম লাক্সারি।
অবশ্যই লাক্সারি। আমি যখন আসানসোল ছেড়ে কলকাতা আসি তখনও তিরিশ টাকার টিকিট কেটে নাটক দেখেছি। তখন আমার ১৭ বছর বয়স। বুকঝিমের কাউন্টার সামলাতে গিয়ে বহু ছেলে-মেয়ের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তারা যে খুব স্বচ্ছল পরিবার থেকে আসছে এমন নয়। তাদের পক্ষে এত টাকা দিয়ে নাটক দেখা অনেকসময় সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে এটাও সত্যি একটা থিয়েটার বানাতে যে টাকাটা খরচ হচ্ছে, সেখানে ১০০ টাকার নিচে মূল্য রাখা সম্ভব নয়। পাশাপাশি এটাও সত্যি, টিকিট সস্তা করলেই যে দর্শক বাড়বে এমন ভাবা ভুল। আবার টিকিটের বেশি দামের সঙ্গে প্রোডাকশন কোয়ালিটির কোনো সম্পর্ক নেই।
• এখন অনেক ছোটো ছোটো থিয়েটার দল তৈরি হয়েছে। সেখানে অনেক নতুন ছেলে মেয়ে কাজ করছে। কিন্তু অনেকেই বলে শুনেছি সিরিয়াল করব বা সিনেমা করব বলে থিয়েটারে আসা। থিয়েটার একজন শিল্পীকে তৈরি করছে, কিন্তু ধরে রাখতে পারছে না কেন? এর কারণ কি শুধুই অর্থ?
থিয়েটার যে একজন শিল্পী তৈরি করছে এটাই একটা বড়ো প্রশ্নচিহ্ন। অবশ্যই থিয়েটার এমন একটা মাধ্যম যেখানে অভিনেতা তৈরি হয়। একটা শৃঙ্খলাবদ্ধ থিয়েটার চর্চার মধ্যে এটা সম্ভব। সমস্ত থিয়েটারের মাধ্যমেই যে অভিনেতা তৈরি হচ্ছে এমনটা নয়। এবার ধরে না রাখতে পারার একটা কারণ অবশ্যই অর্থ। এর পাশাপাশি আগে ধারণা ছিল থিয়েটার একটা প্রাথমিক মঞ্চ। যেটা করতে করতে কারোর একটা চোখে পড়ে যাব। এইসব ঢপগুলো বাজারে চলে। আসলে কেউ কারোর চোখে পড়ে না এবং কেউ কাউকে আবিষ্কারও করে না। কাজ করতে করতে ক্রমশ তোমার দিকে চোখ যায়। আর এই মুহূর্তে থিয়েটারের একটা নিজস্ব গ্ল্যামার তৈরি হয়েছে। এটা কতটা ভালো বা মন্দ বলার সময় আসেনি বা বলার আমি কেউ নই। তবে এর ফলে একটা মঙ্গল হয়েছে। থিয়েটার মানেই যে সেটা একটা সিঁড়ি এমনটা কিন্তু খুব সচেতন মানুষ ভাবছেন না আর। কারণ এখন একটা থিয়েটার হিট করলে কাগজে নাম-ছবি বেরিয়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়া আসার পর এটা আরও বেশি করে তৈরি হয়ে গেছে। একটা সোশ্যাল ফলোয়িং তৈরি হয়ে যায়। রঙ্গালয়টা একটা বেশ্যালয়ের মতো ব্যাপার। বেশ্যালয়ে মানুষ বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজন মেটাতে যান। সেইজন্যই বেশ্যালয়ে কেউ বাস করে না। থিয়েটারের অবস্থাটাও অনেকটা তাই। আমরা প্রত্যেকেই যে যার নিজের প্রয়োজনে থিয়েটারে যাই। আর যারা থিয়েটারে নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে দিয়েছেন তাঁদের ক’জনেরই বা নাম আমরা জানি। তাঁরা শুধু হারিয়ে গেছেন তাই নয়, তাঁরা স্বীকৃতিও পাননি, মিনিমাম স্বচ্ছলতাও হারিয়েছেন। কাজেই থিয়েটার একজন অভিনেতার কাছে স্বচ্ছল রাস্তার সন্ধান দেয় না।

'ভাদ্রজা' নাটকে শ্রমণ। ছবি- অদিতি বিশ্বাস।
• দেবতার গ্রাস ছবির শুটিং এখনও শুরু হয়নি। এখানে তুমি নাসিরুদ্দিন শাহ এবং সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে অভিনয় করবে। কী মনে হচ্ছে, স্বপ্ন ছোঁয়া গেছে?
একেবারেই স্বপ্ন নয়, এটা খুব বড়ো পাওয়া বলা যেতে পারে। কিংবদন্তী দুইজন অভিনেতার সঙ্গে কাজ করাটা স্বপ্নের বিষয় নয়। সেটা একটা যত্ন নেবার বিষয়। আমাকে তাঁদের সংস্পর্শে একটা কাজ করবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সেটার মর্যাদা যেন দিতে পারি। সেই চেষ্টাই করছি। স্বপ্ন যখন তখন দেখা যায়। সেই স্বপ্নের সঙ্গে ‘দেবতার গ্রাস’-এর কোনো সম্পর্ক নেই।
• প্রিয় চরিত্র জানতে চাইব, যে চরিত্রে নিজেকে বসাতে পারো।
নেই। এত ছোটো থেকে অভিনয় করছি যে প্রিয় চরিত্র নিয়ে কখনও ভাবিনি। যা যা চরিত্র পাব সেগুলো দর্শকের প্রিয় হয়ে থাকুক বরং। আসলে আমি এমন একটা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসি, যেখানে আমার মতো চেহারার একজন মানুষ পর্দায় এবং মঞ্চে অভিনয় করছে, সেটাই খুব অপ্রত্যাশিত৷ যা যা চরিত্র পাব সেগুলো স্বপ্নের মতো করার চেষ্টা করব।
• এ প্রসঙ্গে মাথায় একটা প্রশ্ন ঘুরঘুর করছে। এখনও কি এই শারীরিক সৌন্দর্যটা গুরুত্ব পায়?
অবশ্যই পায়। এটা তো একটা দৃশ্য মাধ্যম।
• দ্যাখো, এখন ছবির বিষয়ে অনেক বৈচিত্র্য এসেছে। যার ফলে এতদিন যে সমস্ত অভিনেতারা সুযোগ পাননি, তাঁরা বিভিন্ন শক্তিশালী চরিত্রে কাজ করছেন। সেটা টলিউড বা বলিউড যা-ই হোক না কেন।
যেকোনো পরিবেশের প্রয়োগ পদ্ধতি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবই বদলাতে থাকে। ব্যবসাটাও আস্তে আস্তে বদলে যাচ্ছে। কন্টেন্ট বদলানোটাই যে শুধুমাত্র নতুন অভিনেতাদের কাজ দিচ্ছে তা নয়। তুমি যে সব ব্যতিক্রমী অভিনেতাদের কথা বলতে চাইছ, তাঁদের কাউকেই ২০০ কোটির ছবিতে দেখতে পাচ্ছো না। এখন ছবি করতে গেলেই যে সেটা বিগ বাজেটের হতে হবে, বিষয়টা আর সেখানে থেমে নেই। একটা সময় অবধি গাড়ি তৈরি করত পাঁচটা কোম্পানি। আজ হয়তো পনেরোশো কোম্পানি হয়ে গেছে। কাজের সংখ্যা বাড়ছে। নানারকম বিষয়বস্তু নিয়ে কাজ করা যাচ্ছে। তাই হয়তো কদাকার অভিনেতাদের মূল চরিত্রে দেখতে অসুবিধা হচ্ছে না। সুন্দর দেখতে না হলে যে দর্শক তাঁর অভিনয় দেখবে না তা নয়। দর্শক এত বোকা নয়। পাশাপাশি একটা বেসিক জিনিস মনে রাখতে হবে, এই মাধ্যমটাই সৌন্দর্য বেচে খায়। কদাকার অভিনেতারা যখন ঠিকঠাক সুযোগ পাচ্ছেন বা তাঁদের দেখতে ভালো লাগছে তখন কিন্তু তাঁদের কদাকৃতিটা চোখে লাগছে না। ব্যবসার ধরন বদলে গেলে ব্যবসার গ্রাহকদের ধরনও বদলে যায়। আর খানসাহেবদের পরে এ দেশে স্টার বোধহয় কেউ হবে না, কারণ এত তথ্যের ভিড়ে নক্ষত্রের জন্ম হয় না। নক্ষত্র রহস্যের জিনিস। এখন কোথায় সেই রহস্য!