
সহজ উপায়ে অতিথিদের তাক লাগিয়ে দিতে কুকমি মশলার জবাব নেই
গত কয়েক দশক ধরেই বাজারে এসেছে নকল মশলা — হলুদের গুঁড়ো অথবা লঙ্কার গুঁড়োতে যোগ করা হচ্ছে হলুদ অথবা লাল রঙের রাসায়নিক এবং পারদ— ব্যাবসায়িক ক্ষেত্রে লাভের অঙ্ক পাকা করতে গিয়ে ক্ষতি হচ্ছে ভারতীয় বাজারের। অথচ, এরকম টালমাটাল অনৈতিক ব্যবসায়িক অনুশীলনের মুখে দাঁড়িয়েও একটি বাংলা মশলার ব্র্যান্ড একটুও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি। প্রায় ১৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সর্বোচ্চ মানের বিশুদ্ধ মশলা সরবরাহ করে নিজের সত্যতা প্রমাণ করেছে তারা। সেই ব্র্যান্ডটির নামটা অবশ্য বাঙালির খুবই পরিচিত। কুকমী (Cookme)। শুধু বাংলা নয়, গোটা ভারতের রান্নাঘরে বিপ্লব ঘটিয়েছে এই সংস্থা। দীর্ঘদিন ধরে টিকে আছে সময়ের পরীক্ষায়। প্রমাণ করেছে সৎ ব্যবসায়িক নীতি-নৈতিকতা দিয়েও প্রতিযোগিতায় জয় সম্ভব।

আরও পড়ুন: পদ্মা পাড়ের হেঁশেলে গোপন মাংসের কাহিনি
১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে, একটি ব্যাগ নিয়ে, বলা ভালো সুস্বাদু স্বপ্নে ভরা একটি ব্যাগ নিয়ে শ্রী কৃষ্ণচন্দ্র দত্ত (Krishna Chandra Dutta) নামে এক যুবক, সুতানুটি অর্থাৎ বর্তমানের আধুনিক কলকাতার (Kolkata) পথে যাত্রা করেছিলেন। তাঁর সেদিনের সেই দৃষ্টি এবং উদ্যম ডোরমা হাটার একটি সাধারণ দোকানের আকার নিয়েছিল। এটিই ছিল ভবিষ্যতের দুর্দান্ত স্বপ্নের ভিত্তি স্থাপন। এইভাবেই পথা চলা শুরু হয় আজকের হেঁশেলের পরিচিত ব্র্যান্ড কুকমীর। পরবর্তীকালে প্রজন্মের হাত ঘুরে এই ব্যবসা আরও ডাল পালা মেলতে শুরু করে। প্রতিষ্ঠার এক বছর অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে নটোবর দত্তের দক্ষ শাসনের অধীনে ব্যবসাটি বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং পরবর্তীতে যুধিষ্ঠির দত্তের (Judhisthir Dutta) গতিশীল নেতৃত্বে আরও উচ্চতায় পৌঁছে যায় জনপ্রিয় ব্র্যান্ড কুকমী।

শুরুতেই কুকমী একটি আকর্ষণীয় ট্যাগলাইন নিয়ে নিজেদেরকে তুলে ধরেছিল বাঙালির কাছে। ‘magical secret ingredient’ – এই লেবেল নিয়ে প্যাকেটগুলি রান্নাঘরে জায়গা করে নিতে থাকে। মশলার মধ্যে গোপনীয়তার সূক্ষ্ম অনুভূতির কথা যে সহজেই ভোক্তাদের মন জয় করে নিতে পেরেছিল, তা অবশ্য আলাদা করে বলে দিতে হয় না। শুধু তাই নয়, ‘কুকমী’ সংস্থার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা জানতেন কীভাবে প্রকৃত মশলা তৈরি করতে হয়। বাঙালি খাবারের পাশাপাশি ‘কুকমী’ মোগলাই এবং চাইনিজ খাবারের মশলাও প্রবর্তন করেছিল, যা আধুনিক বাঙালি মহিলাদের সহজেই মন কেড়ে নিয়েছিল। সহজ উপায়ে দুর্দান্ত খাবার তৈরি অতিথিদের তাক লাগিয়ে দিতে পারলে আর কি বা চাই! ‘রেডি টু কুক’ মশলার একটি প্যাকেটে ছিল সেই জাদু। নিমেষেই পাতে সুগন্ধযুক্ত মুঘলাই অথবা চাইনিজ খাবার রাখতে জুড়ি মেলা ভার ছিল ‘কুকমী’র।
শুরুতেই কুকমী একটি আকর্ষণীয় ট্যাগলাইন নিয়ে নিজেদেরকে তুলে ধরেছিল বাঙালির কাছে। ‘magical secret ingredient’ – এই লেবেল নিয়ে প্যাকেটগুলি রান্নাঘরে জায়গা করে নিতে থাকে।

যাইহোক, এতো দিন ধরে ব্র্যান্ডের মূল দর্শন তার মান নিয়ন্ত্রণ এবং সুগন্ধযুক্ত স্বাদ আজও অটুট থেকে গেছে, একথা বলতেই হচ্ছে। মশলাগুলির প্রয়োজনীয় সংরক্ষণের জন্য কঠোর পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি পর্যাপ্ত যত্ন নেওয়া হয়। তাই তাদের সমস্ত পণ্যগুলি বেঙ্গালুরু এবং কলকাতার অত্যাধুনিক কারখানাগুলিতে উত্স, পরীক্ষা, প্রক্রিয়াজাত, প্যাকিং করা এবং সিল করা হয়। সত্যতা, দুর্দান্ত স্বাদ এবং ধারাবাহিকতাকে নিশ্চিত করতে উপাদানগুলির সঠিক অনুপাতে মিশ্রণ করা হয়।

তারা মাইক্রোবায়োলজি ইউনিট সহ হাই-টেক ইন্সট্রুমেন্ট যেমন হাই-পারফরম্যান্স লিকুইড ক্রোমাটোগ্রাফি, অ্যাটমিক অ্যাবজর্পশন স্পেকট্রোফোটোমিটার, ইউভি/ভিস স্পেকট্রোফটোমিটার, থিন লেয়ার ক্রোমাটোগ্রাফি সহ কিছু সেরা ফুড ল্যাব তৈরি করেছে। কঠোর পরীক্ষা দ্বারা নিশ্চিত করেছে যে চূড়ান্ত আউটপুটটি সবদিক দিয়ে নিখুঁত। সবশেষে এটা স্বীকার করতেই হয়, ‘কুকমী’ তিকে রয়েছে তার গুণের জোরেই। তাদের একটাই ইউএসপি – ‘সর্বোচ্চ মানের মান’।
প্রতিবেদনটি ইংরেজিতে পড়তে করুন

