এটি কোনো হাসপাতাল নয়, ডুমুরজলা স্টেডিয়াম – এখন ১৫০টি বেডের আইসোলেশন কেন্দ্র

খেলোয়াড়দের বিশ্রামের জন্য যে বড়ো বড়ো ঘর রয়েছে, সেখানেই এমন ব্যবস্থা

হাওড়ার ডুমুরজলা স্টেডিয়াম চত্বরে একটি পলাশ গাছ আছে। প্রতি বসন্তে তার সবটুকু রং ছড়িয়ে পড়ে গাছে গাছে। গাছ হয়ে ওঠে টকটকে লাল। কিন্তু এই বসন্তটা যেন কেমন একটা বিমর্ষ হয়ে আছে। গাছের তলায় বসার কোনো লোক নেই। কারণ স্টেডিয়াম চত্বরকে বদলে ফেলা হয়েছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। কেউ গৃহবন্দি তো কেউ রাতদিন পড়ে আছেন কীভাবে মহামারীর মোকাবিলা করা যায় তার জন্য।

বিশ্বজুড়ে বেড়ে চলেছে মহামারী করোনার থাবা। করোনা ত্রাসে বলি হতে হয়েছে বিশ্বের প্রায় ১১,০০০ মানুষকে। ভারতেও বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। শুধুমাত্র কলকাতায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭ জন (এখনও পাওয়া খবর পর্যন্ত)। ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মধ্যে অন্যতম একটি হল, হাওড়ার ডুমুরজলা স্টেডিয়ামে কোয়ারান্টিন কেন্দ্র তৈরি হল। জেলা প্রশাসন এবং হাওড়া পুরসভার যৌথ উদ্যোগে গত বৃহস্পতিবার থেকেই ১৫০ শয্যার এই কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছে। উপরের ছবিটি দেখে অবাক হচ্ছেন? আজ্ঞে হ্যাঁ, এটিই সেই ডুমুরজলা স্টেডিয়াম, বর্তমানে আইসোলেশন কেন্দ্র। 

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, স্টেডিয়ামের ভিতরে খেলোয়াড়দের বিশ্রামের জন্য যে বড়ো বড়ো ঘর রয়েছে, সেখানেই কোয়ারান্টিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্টেডিয়ামটি অব্যবহৃত হয়ে পড়ে থাকায় জীবাণুনাশকের কাজ খুব যত্ন করে করতে হয়েছে। দেখে নেওয়া হয়েছে, পর্যাপ্ত পানীয় জল ও শৌচাগারের ব্যবস্থা আছে কিনা। যাঁরা কোয়ারান্টিনে থাকবেন, প্রত্যেকের জন্য সারাদিন খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। 

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই মুহূর্তে ডুমুরজলা স্টেডিয়াম বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারবে। যুদ্ধ জয় তো তার পরের কথা।

Developed by DXDasia