লোডশেডিং-এর দাপট বাড়তেই হাতপাখার চাহিদা তুঙ্গে
ছবি : নিজস্ব
হাওয়া খাওয়ার বদলে এখন অন্দরসজ্জা, সিনেমার শুটিং ইত্যাদি কাজে প্রয়োজন পড়ে তালপাতার নকশি পাখার। তবে শুধু তালপাতা নয়, প্লাস্টিক, ফাইবার, মাদুরকাঠি, কাপড়, কাগজ, বাঁশ-বেত বিভিন্ন উপাদানের হাতপাখা পাওয়া যায়। শহর তো বটেই, গ্রামেও এখন হাতপাখার ব্যবহার উঠে গেছে। শুধু গরম পড়লে কারো কারো মনে পড়ে তাহাদিগের কথা। হাতপাখার বাজার প্রায় নেই বললেই চলে। তবে, এবছর রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ সঙ্গে লোডশেডিং; যেকারণে মুখে হাসি ফুটছে পাখা তৈরির কারিগর ও দোকানীদের মুখে।

লোডশেডিং-এর দাপট বাড়তেই হাতপাখার চাহিদা তুঙ্গে। হালে হাতপাখা তৈরির কারখানায় চলছে কারিগরদের চূড়ান্ত ব্যস্ততা। বর্ষার আগেই পাখা বিক্রি করে ভাল মুনাফা ঘরে তুলতে হাতপাখা তৈরির কারখানাগুলোতে চলছে প্রতিযোগিতা।
একসময় গরমের দিনে আড্ডা থেকে মজলিস, শরীরে ঠাণ্ডা বাতাস লাগাতে তালপাখার বিকল্প ছিল না। লোডশেডিংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা রকমের নষ্টালজিয়া। বিজলী বাতিটি নেভার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো পরিবার জুড়ে ছাদে কিংবা উঠোনে ভিড়। শুরু হলো ভূত বা নানান গল্পের আড্ডা, সঙ্গে একটি হ্যারিকেন আর একটি হাতপাখা।

প্লাস্টিকের হাতপাখা
লোডশেডিং-এর দাপট বাড়তেই সেই হাতপাখার চাহিদা তুঙ্গে। হালে হাতপাখা তৈরির কারখানায় চলছে কারিগরদের চূড়ান্ত ব্যস্ততা। বর্ষার আগেই পাখা বিক্রি করে ভাল মুনাফা ঘরে তুলতে হাতপাখা তৈরির কারখানাগুলোতে চলছে প্রতিযোগিতা। এমনই ছবি ধরা পড়েছে কলকাতা সহ বিভিন্ন জেলায়। গড়িয়াহাট মার্কেটের শ্রীগুরু দশকর্মা ভাণ্ডারের কর্মচারী মজার ছলে বলছিলেন, “যত লোডশেডিং হবে তত ভালো (হেসে)। নাহলে তো সারাবছরই হাতপাখার ব্যবসায় মাছি।”

ফোল্ডিং হাতপাখা
অতীতে তালপাতার পাখার ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বর্তমানে তালপাতার অভাবে সেভাবে তৈরি হয় না তালপাতার পাখা। সেই চাহিদা মেটাতে বাজারে এসেছে প্লাস্টিকের তৈরি পাখা। যে পাখার দাম তালপাতার পাখার চেয়ে অনেকটাই কম। তালপাতার পাখা যেখানে ২০-২৫ টাকায় পাওয়া যায়, সেখানে মাত্র পাঁচ টাকার বিনিময়ে একটি প্লাস্টিকের হাতপাখাই মুহূর্তে শরীরে এনে দেয় স্বস্তি। ফলে দিন দিন চাহিদা বাড়ছে এই প্লাস্টিকের পাখার। তবে মনে রাখতে হবে, তালপাতা বা নকশিপাখা আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে জুড়ে আছে। পরিবেশবান্ধবও বটে। তালপাতা, বেত, বাঁশ বা নকশিপাখা তৈরির যে প্রক্রিয়া তা তো একধরনের শিল্পই। এবছর গরম বেড়েছে। তাপমাত্রার পারদও অনেকটাই চড়েছে। মাঝেমধ্যেই লোডশেডিং হতেই প্রয়োজন হচ্ছে হাতপাখার। আর সেই কারণে হাতপাখার চাহিদার যোগান দিতে নাওয়া-খাওয়া ভুলেছেন হাতপাখা কারিগররা।

বাঁশের হাতপাখা
জানা গিয়েছে, এক জন পাখা কারিগর দিনে প্রায় পাঁচ থেকে সাত হাজার পাখা প্রস্তুত করতে পারেন। আর মজুরি নির্ধারিত হয় কাজের পরিমাণের উপর। তবে পাখা কারিগরদের আক্ষেপ, দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করার পর তারা যে মজুরি পান তাতে ঠিক মত চলে না সংসার। বিড়ি শ্রমিকদেরও সরকারি স্বীকৃতি আছে। আছে নানা সুযোগ সুবিধা। তাঁদের কিছু নেই। ব্যাঙ্ক থেকেও ঋণ মেলে না। পাখা শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা চান তারা৷ এতে বেঁচে যেতে পারে পাখা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকা শিল্পীরা।

ঐতিহ্যবাহী নকশি হাতপাখা