তিরিশ বছরের সেই ধারা তুলে ধরার কাজ শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই
কলকাতার দুর্গাপুজোর ইতিহাস আজকের নয়। এর পিছনে রয়েছে প্রচুর গবেষণা আর অবশ্যই শিল্পের মাহাত্ম্য। শিল্প যেখানে বাঁধনহারা। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। সেই উৎসবকে তো বৈচিত্র্যময় করতে হবে, তাই একদল পুজোপাগলদের কয়েকমাসের শ্রম বুনে দেওয়া থাকে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে৷ প্রতি বছরই বিবর্তিত হচ্ছে বাঙালির সবচেয়ে বড়ো উৎসব। এই উদ্যোগের কথা, প্রস্তুতির কথা, সর্বোপরি পাল্টে দেওয়ার কথা বলতেই শিল্পীরা একটি অসামান্য উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁরা তৈরি করছেন ডিজিটাল আর্কাইভ। সেখানে গত তিরিশ বছরের সেই ধারা তুলে ধরার কাজ শুরু হয়েছে।
১৯৯৫ সালে চেতলা অগ্রণীর প্রতিমা কেমন ছিল? কিংবা ২০১০ সালের সুরুচি সংঘ বা কাশী বোস লেন? সাবেকিয়ানা ক্রমে পাল্টে পাল্টে থিমপুজোয় পরিণত হয়েছে। লড়াই বেড়েছে। সেই সঙ্গে পাল্টে গেছে দর্শনার্থীদের দেখার চোখও। এবার এক ক্লিকেই জানা যাবে কলকাতার দুর্গাপুজোর ইতিহাস। ঘরে বসে কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণের বিভিন্ন পুজোর খুঁটিনাটি জানতে পারবেন মানুষ।
এই কাজে হাত লাগিয়েছেন কলকাতার শিল্পীদের সংগঠন ‘একমাত্রিক’। বছর বছর যাঁদের শিল্পকর্ম মাতিয়ে দেয় গ্রাম থেকে শহরের দর্শনার্থীদের। সংগঠনে রয়েছেন তরুণ দে, বিশ্বনাথ দে, শিবশঙ্কর দাস, সোমনাথ মুখার্জি, সনাতন দিন্দা, সুশান্ত পাল, অমর সরকার, রিন্টু দাসের মতো শিল্পীরা। শিল্পী বিশ্বনাথ দে ফোন মারফত বঙ্গদর্শনকে জানান, "২০১৮ সালের ১ মে সংগঠনটা পথ চলতে শুরু করেছিল। বিভিন্ন কর্মসূচি ইতিমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে। তবে ৩০ বছরের পুজোর বিবর্তন এক জায়গায় করার কাজটা সহজ নয়, তাই সময় লাগবে। কলকাতায় যে সমস্ত শিল্পীরা কাজ করছেন এটা তাঁদের প্রত্যেকেরই সংগঠন। কারণ এক জায়গায় ইতিহাসকে ধরার কাজ সবাই মিলে না করলে পূর্ণতা পাবে না। আরও কিছু কিছু কাজ আমরা করেছি। যেমন কুমোরটুলিতে একটি বায়ো টয়লেট তৈরি করেছি। এরকম আরও কাজ করার ইচ্ছা আছে সারা রাজ্য জুড়ে। এই বছর কলকাতার দুর্গাপুজো করা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। কারণ যে ক্লাবের বাজেট হত ৪০ লক্ষ টাকা, এই বছর তা কমে গিয়ে হয়েছে ৫-৬ লক্ষ টাকা। এই সিচুয়েশনে তা আমাদের মানিয়ে নিতে হয়েছে। কলকাতার প্রায় ২০০ জন শিল্পী প্রত্যেকেই কিন্তু পিছুপা হননি। প্রত্যেকেই তাঁদের সেরাটা দিয়ে পুজো করছেন। এই অতিমারীতে আমরা সংঘবদ্ধ হতে পেরেছি আরও বেশি করে। এটা দুর্গাপুজোর ইতিহাসে নিশ্চিতভাবেই একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।"
কী কী দেখতে পাওয়া যাবে সেই ডিজিটাল আর্কাইভে? কলকাতার দুর্গাপুজোর বিভিন্ন বছরের থিম, আলো, প্রতিমা, থিম গানের বিস্তারিত বিবরণ। শিল্পীদের কাছ থেকে বিভিন্ন বছরের ছবি বা ভিডিও ফুটেজ চাওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি আর্কাইভে কলকাতার শিল্পীদের নিয়ে বিস্তারিত তথ্য থাকবে। কে, কবে, কোন মণ্ডপ নির্মাণের দায়িত্বে ছিলেন সেগুলি জানা যাবে এক জায়গায়। থাকবে বিভিন্ন ক্লাব সম্পর্কিত তথ্য। পাশাপাশি তৈরি করা হচ্ছে একটি ব্লগ। সেখানে যে কেউ পুজো নিয়ে লিখতে পারবেন। আপাতত কলকাতা দিয়ে শুরু হচ্ছে। পরে তাঁদের জেলার পুজো নিয়েও কাজ করার ইচ্ছা আছে। তবে কাজটি কষ্টসাধ্য। তাই প্রকাশ পেতে খানিক সময় তো লাগবেই।
